নামেই থাকবে ‘শৈল শহর’! আগামী কয়েক দশকে দার্জিলিং পাহাড় দিল্লির চেয়েও উষ্ণ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি প্রবল বৃষ্টিপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় শহর ও আশপাশের এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। নিরাপত্তার প্রয়োজনে এখনই দার্জিলিং শহরে নির্মাণকাজ নিয়ে সতর্ক হতে হবে। রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক বিজ্ঞান পর্যালোচনা সংস্থা ‘ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ (আইপিসিসি)-এর এমনই সতর্কতা।
আরও পড়ুন:
সংস্থার ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দার্জিলিং পাহাড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানেই উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী কয়েক দশকে হিমেল মনোরম আবহাওয়া পালটে শৈল শহর দিল্লির চেয়েও উষ্ণ হয়ে উঠতে পারে। আইপিসিসি-র আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে দার্জিলিংয়ের গড় তাপমাত্রা ৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর অর্থ সমতলে দিল্লির মতো বড় শহরগুলোর তুলনায় দার্জিলিং দ্রুত হারে উষ্ণ হচ্ছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে পাহাড়ের বাস্তুতন্ত্র পাল্টাতে শুরু করছে। পাহাড়ি উদ্ভিদে অকাল ফেনোলজিক্যাল প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে শুরু করেছে। যেমন, স্থানীয় মহলে লালী গুরাঁস নামে পরিচিত রডোডেনড্রন অসময়ে ফুটছে। পাশাপাশি হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় শহর ও এর আশপাশের এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে।
ভূগোলের গবেষক ও পরিবেশ কর্মীদের সতর্কতা, দার্জিলিং শহরে উন্নয়ন পদ্ধতিতে দ্রুত পরিবর্তন না আনা হলে বসবাসের অযোগ্য হতে পারে। প্রশাসনিক তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র ২০২১ সালে ভারী বৃষ্টির জেরে দার্জিলিং শহর ও সংলগ্ন এলাকায় ২৭০টির বেশি ভূমিধস ও জলমগ্নতার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮-২০২০ সালের মধ্যে ১৩৮টি দুর্যোগের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় একশোটি ছিল ভূমিধস। এর আগে ২০১৫ সালে দার্জিলিং ভয়াবহ দুর্যোগের কবলে পড়েছিল। ধারাবাহিক ভূমিধসের ঘটনায় ৩৮ জন প্রাণ হারায়, বহু মানুষ আহত, নিখোঁজ এবং ঘরবাড়ি হারায়।
ভূগোলের গবেষক তথা চোপড়া কলেজের অধ্যক্ষ মধুসূদন কর্মকার জানান, দার্জিলিংয়ের শিলাস্তর বেশ ভঙ্গুর। এর ঘনত্ব কম। ওই অঞ্চলে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় অথচ এখানকার মাটির জল ধরে রাখার ক্ষমতা অত্যন্ত কম। ওই কারণে এখানে ভূমিধসের ঝুঁকি বেশি। ঘরবাড়ি নির্মাণের সঠিক নিয়ম এখানে খুব একটা মানা হয় না। তাই ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ২০০০ সালে রাজ্য নিযুক্ত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি দার্জিলিং পাহাড়ে ভূমিধসের প্রবল ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে আবাসন সংক্রান্ত বেশ কিছু নিয়মাবলির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেগুলো কার্যকরী হয়নি। ফাইল বন্দি হয়ে পড়ে আছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছিল ৩০ ডিগ্রির বেশি ঢালু জমিতে নির্মাণকাজ করা উচিত নয়। যদিও এখন ৬৫ ডিগ্রি ঢালু জমিতেও বহুতল তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অতীত থেকে শিক্ষা, হিমাচলে বিপর্যয় মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণে আধিকারিকরাও!
-
টানা ১৪ ঘণ্টা দৌড়, ১০০ কিলোমিটার রানআপে বল, বিশ্বরেকর্ড ইংরেজ পেসারের
-
উষ্ণতম আগস্ট! ভরা বর্ষাতেও চুরমার ১২৫ বছরের রেকর্ড, উষ্ণায়নই ‘ভিলেন’?
-
১০ বছর বয়স ভাঁড়ানো ক্রিকেটারের গায়েও উঠেছে জার্সি, কোথায় ছিল বঙ্গক্রিকেটে ‘ভেরিফিকেশন সেল’?
-
মাঝআকাশে বিকল যন্ত্র, নিয়ন্ত্রণ হারানো ককপিটে ‘নেশাগ্রস্ত’ পাইলট! এয়ার ইন্ডিয়া তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য