পাহাড়ি ধস, আকস্মিক বন্যা, মেঘভাঙা বৃষ্টি, তুষারপাত কিংবা দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হিমাচল প্রদেশের প্রশাসনের কাছে নিয়মিত চ্যালেঞ্জ। ফলে সরেজমিনে প্রশাসনিক আধিকারিকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, উদ্ধার ও ত্রাণকাজ পরিচালনা, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং বিপজ্জনক পাহাড়ি পরিবেশে কাজ করার মতো সক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি। সে কারণে হিমাচল সরকার ভবিষ্যত প্রশাসনিক কর্তাদের জন্য ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করেছে।
নির্বাচিত প্রার্থীদের মানালির অটল বিহারী বাজপেয়ী ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যালায়েড স্পোর্টস ( এবিভিআইএমএএস)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানো হচ্ছে। কারণ, কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রথম ফোনটি আসে একজন প্রশাসনিক কর্তার কাছে। তাঁকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে হয়। তাই তাঁর বিপর্যয় ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত পুরো স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি।
এবিভিআইএমএএস-এপিআবি আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর নারায়ণ দত জানান, হিমাচলের মতো পাহাড়ি রাজ্যে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য শুধু প্রচলিত প্রশাসনিক দক্ষতা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধারকাজ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতাও। সেই কারণেই হিমাচল প্রদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (এইচপিএএস)- এ নির্বাচিত আধিকারিকদের মানালির এবিভিআইএমএএস-এর প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানো হচ্ছে। জানা গিয়েছে, হাতে কলমে অভিজ্ঞতার জন্য আধিকারিকরা প্রথমে ব্যক্তিগত ভাবেই এখানে বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ নিতে আসতেন। এখন এটি নতুন আধিকারিকদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
১৯৬১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর হিমাচল প্রদেশ সরকারের যুব পরিষেবা ও ক্রীড়া দপ্তরের অধীনে এই প্রতিষ্ঠানের জন্ম। প্রথমে নাম ছিল ওয়েস্টার্ন হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট। পরে এটি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর নামে নামাঙ্কিত হয়। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভেঞ্চার ট্রেনিং প্রতিষ্ঠান। পর্বতারোহণ, স্কিইং, ট্রেকিং, জলক্রীড়া, অ্যারো স্পোর্টস, মাউন্টেন বাইকিং এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এখানে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার বিষয়ে দুই লক্ষেরও বেশি প্রশিক্ষণার্থী এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বর্তমানে এখানে প্রশিক্ষণ নিতে আসাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় পশ্চিমবঙ্গের তরুণ-তরুণী রয়েছে। হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবিভিআইএমএএস-এর আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও রয়েছে। ধর্মশালা, পং ড্যাম, নারকান্ডা, হাতকোটি, জিসপা, ভর্মৌর, বিলাসপুর, সোলাং ভ্যালি, পিরডি এবং বীর বিলিং-এ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পর্বতারোহণ, স্কিইং, রিভার র্যাফটিং, প্যারাগ্লাইডিং, ট্রেকিং এবং অ্যাডভেঞ্চার গাইডিংয়ের মতো বিষয়ে এই কেন্দ্রগুলিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
রাজ্য সরকারের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, হিমাচলের প্রশাসনিক কর্তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব এখানেই যে, পাহাড়ি অঞ্চলে কোনও বিপর্যয় ঘটলে তাঁদের অনেক সময় দুর্গম এলাকা, খারাপ আবহাওয়া এবং সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। সাধারণ প্রশাসনিক জ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে বিপর্যয়ের সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও উদ্ধারকাজ আরও কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, স্বাস্থ্য দপ্তর, স্থানীয় উদ্ধারকারী দল এবং অন্যান্য সংস্থার সমন্বয় করাও আধিকারিকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
চা বাগানের মাটির নিচে বিপুল ভাণ্ডার, রাজগঞ্জে অভিযানে মিলল লক্ষ লক্ষ টাকার চোলাই!
-
মেঝেতে পড়ে থাকা ভাঙা নুডল দিয়েই ভুজিয়া! ওয়াই ওয়াই নুডল উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ
-
নিয়ম ভেঙেই মেসিকে সম্মান! ম্যাচের ১০ মিনিটে খেলা থামালেন দর্শকরা, তারপর… ভাইরাল ভিডিও
-
দুর্গের রক্ষাকর্তা স্বয়ং পবনপুত্র! ৩০০০ ফুট খাড়াই সিঁড়ি চড়ে বজরংবলি দর্শন করেন ভক্তরা
-
নির্ধারিত দিনেই প্রকাশিত হবে সোনিয়ার স্মৃতিকথা! পেঙ্গুইন সরার পর মিলল নয়া প্রকাশক