উত্তম স্মৃতি। আজও অমলীন নতু গ্রামে। ৬৮ বছর আগে পূর্ব বর্ধমানের রায়নার প্রত্যন্ত এই গ্রামে বর্ষার মরশুমে ২ রাত দিন কাটিয়েছিলেন সস্ত্রীক মহানায়ক। গ্রামের মানুষ আজও গর্ববোধ করেন মহানায়কের পদধূলি পড়ায়।
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অগ্রদূত-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মুখোপাধ্যায় পরিবারের সেজ ছেলে কামাক্ষ্যা মুখোপাধ্যায়। অগ্রদূতের পরিচালনায় বহু সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন উত্তমকুমার। কামাক্ষ্যা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে মহানায়কের। সেই সূত্রেই নতু গ্রামে ১৯৫৮ সালের জুলাই মাসে মুখোপাধ্যায় বাড়িতে অতিথি হয়ে এসেছিলেন।
আরও পড়ুন:
মুখোপাধ্যায়রা গ্রামের জমিদার পরিবার বলে পরিচিত। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অগ্রদূত-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মুখোপাধ্যায় পরিবারের সেজ ছেলে কামাক্ষ্যা মুখোপাধ্যায়। অগ্রদূতের পরিচালনায় বহু সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন উত্তমকুমার। কামাক্ষ্যা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে মহানায়কের। সেই সূত্রেই নতু গ্রামে ১৯৫৮ সালের জুলাই মাসে মুখোপাধ্যায় বাড়িতে অতিথি হয়ে এসেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন গৌরীদেবীও। ফিয়েট গাড়ি থেকে যখন তিনি গ্রামের মাটিতে পা দেন সবাই অবাক হয়ে চেয়েছিলেন। এখানে এসে তিনি জমিদারদের কুলপুকুরে হাত জাল ফেলে মাছ ধরাও শিখেছিলেন। ভরা দামোদর নদে নৌকাবিহারও করেছিলেন।
মুখোপাধ্যায় পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সুবীর মুখোপাধ্যায়রা বাড়িতে উত্তম কুমারের সব স্মৃতি সযত্নে আগলে রেখেছেন। যে খাটে উত্তমকুমার ও গৌরীদেবী শুয়েছিলেন তা এখনও যত্ন যত্ন সহকারে রেখে দিয়েছেন। উত্তমকুমার যখন তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন তখন সুবীরবাবু খুবই ছোট ছিলেন। এখনও বাড়ির দেওয়ালে উত্তমকুমারের সঙ্গে মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সেই সময়ের ছবি রয়েছে। তৎকালীন ক্যামেরাম্যান সনৎ প্রামাণিক তুলেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। জমিদার পরিবারের নিজস্ব নৌকা ছিল। সেই নৌকাতে চেপে স্ত্রীকে নিয়ে দামোদরে হাওয়া খেতেও গিয়েছিলেন মহানায়ক। বৃহস্পতিবার গ্রামে গিয়ে অবশ্য মুখোপাধ্যায় পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়ি তালা দেওয়া। সকলেই কলকাতায় থাকেন। মাঝে মাঝে আসেন এখানে।

উত্তমকুমারকে নৌকাবিহার করিয়েছিলেন গ্রামেরই নকুল সাঁতরা। তাঁর ছেলেও সুদেব সাঁতরা কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকেন। গ্রামে এলে অ্যামেচার যাত্রা, আবৃত্তি করেন। এলাকায় সুনামও রয়েছে সুদেবের। এদিন ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে। তিনি দেখেননি উত্তমকুমারকে। তবে বাবার কাছে সব শুনেছেন। সুদেব বলেন, “বাবা মাঝি ছিলেন। নৌকা চালাতেন। বাবার কাছেই উত্তম কুমারের অনেক কথা শুনেছি। তখন নৌকায় ওঠার জন্য এখনকার মতো ব্যবস্থা ছিল না। বাবা হাতে ধরে উত্তম কুমারকে নৌকায় তুলেছিলেন। আবার নামর পর নরম বালিতে পিছলে গিয়েছিলেন মহানায়ক। বাবা ধরে ধরে শক্ত মাটিতে নিয়ে গিয়েছিলেন।” মহানায়কের জন্মশতবর্ষে সেই স্মৃতিকথাই সম্বল গ্রামবাসীদের।

সর্বশেষ খবর
-
‘নো এন্ট্রি’ অথচ শহরে ঢুকছে বেআইনি ট্রাক! পুলিশের জালে সিন্ডিকেটের পান্ডা, নেপথ্যে কারা?
-
চাল-গমের পাশাপাশি মিলবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও, রেশন দোকানগুলি নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত
-
দুষ্টু মেসেজে আলাপ, ঘনিষ্ঠতা বাড়তেই ছাত্রের সঙ্গে উদ্দাম যৌনতা, ব্রেকআপের পর এ কী হল শিক্ষিকার!
-
পুরভোটে স্ট্র্যাটেজি বদল সিপিএমের! জোট নিয়ে নিচুতলার কর্মীদের ‘স্বাধীনতা’ দিল আলিমুদ্দিন
-
নদী না ডাস্টবিন! তীরে আবর্জনার পাহাড়, একা হাতে পরিষ্কার তরুণের, ছবি দেখে কুর্নিশ নেটপাড়ার