কোলে-পিঠে করে বড় করেছেন। মেয়েকে বিয়েও দিয়েছেন। এখন সেই মেয়েই নিয়মিত বাবাকে অত্যাচার চালায় বলে অভিযোগ। মাটিতে ফেলে লাথি, চড়, কিল, খুসি প্রতিদিন মারা হয় বৃদ্ধ বাবাকে! অভিযোগ, বাবার সব সম্পত্তি, জমি নিজের নামে লিখিয়ে নেওয়ার পরেই এমনই অত্যাচার চালায় মেয়ে। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া এলাকার। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়েছে। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।
আরও পড়ুন:
ঘটনাটি হাবড়া পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ডহরথুয়া এলাকার। বাসিন্দা তন্দ্রিমা দে নিজের বৃদ্ধ বাবাকে তাঁর শ্বশুরবাড়ি নিয়ে এসেছেন বেশ কিছুদিন আগে। বাবার শরীরের যত্ন ও খেয়াল রাখার জন্যই মেয়ে নিজের শ্বশুরবাড়িতে তাঁকে এনে রাখছেন। এমনই মনে করেছিল স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল অন্য ছবি। শুরু হল বৃদ্ধের উপ অত্যাচার। বেধড়ক মারধর চলে তাঁর উপর।
বাবার জমি, সম্পত্তি হাতিয়ে কাগজপত্র নিজের নামে করে নিয়েছেন মেয়ে। এরপর অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে নিজের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসেন মেয়ে। ওই বাড়িতে পালা করে অত্যাচার চলে বলে অভিযোগ।
প্রতিবেশীরা জানতে পারেন, বাবার জমি, সম্পত্তি হাতিয়ে কাগজপত্র নিজের নামে করে নিয়েছেন মেয়ে। এরপর অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে নিজের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসেন মেয়ে। ওই বাড়িতে পালা করে অত্যাচার চলে বলে অভিযোগ। মেয়ে-জামাই পালা করে, কখনও একসঙ্গে মারধর করে! যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে বাড়ির বাইরে চত্বরে এক বৃদ্ধ পড়ে রয়েছেন। আর একমাত্র মেয়ে তাঁকে বেধড়ক মারছেন। কখনও পিঠের উপর সজোরে পরপর লাথি মারা হচ্ছে। কখন চুলের মুঠি টেনে দরে সজোরে আঘাত করছে নিজের মেয়ে। অত্যাচারে কুকিয়ে উঠছেন ওই বৃদ্ধ।
দিন কয়েক আগে বাড়ির বাইরে বাবাকে বার করে এভাবেই মারধর করেছিল মেয়ে। স্থানীয় এক প্রতিবেশী সেই ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে বন্দি করেছিলেন। পরে সেটি ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন দুপুর দুটো থেকে সাড়ে তিনটের মধ্যে ওই বৃদ্ধকে ঘর থেকে বাইরে এনে বেধড়ক মারধর করা হয়। গভীর রাতেও প্রায়শই তন্দ্রিমা ও তাঁর স্বামী মিলে বৃদ্ধকে মারধর করে। বৃদ্ধকে নিয়মিত খেতে পর্যন্ত দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ।
প্রতিদিন দুপুর দুটো থেকে সাড়ে তিনটের মধ্যে ওই বৃদ্ধকে ঘর থেকে বাইরে এনে বেধড়ক মারধর করা হয়। গভীর রাতেও প্রায়শই তন্দ্রিমা ও তাঁর স্বামী মিলে বৃদ্ধকে মারধর করে। বৃদ্ধকে নিয়মিত খেতে পর্যন্ত দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সম্প্রতি মারধরের চোটে বৃদ্ধের এক চোখে আঙুল পর্যন্ত ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নৃশংসতার কারণে তিনি ওই চোখে ঠিকভাবে দেখতেও পান না। ঠিকভাবে খেতে না দেওয়া, এদিকে প্রতিদিন অকথ্য অত্যাচারের কারণে ওই বৃদ্ধ ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না। এরপরও ওই বৃদ্ধকে নির্যাতন এতটুকু কমেনি। কিন্তু কেন এতদিন প্রতিবেশীরা কোনও প্রতিবাদ করেননি? জানা গিয়েছে, প্রতিবাদ করতে গেলে প্রতিবেশীদের ভয় দেখানো হয়। নিজের বাবার সঙ্গে যা ইচ্ছা তাই করা হবে, সেই দাবি করা হয়।
ওই ঘটনা জানতে পেরে অবশেষে হাবড়া থানার পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। তন্দ্রিমাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেই নির্যাতিত বৃদ্ধ বাবার অনুরোধে মেয়েকে মুচলেকা নিয়ে পুলিশ ছেড়েছে। বাবার উপর আর কখনও অত্যাচার করা হবে না, সেই কথা মুচলেখায় লিখেছে মেয়ে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
গ্যালিফ স্ট্রিটে সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী-পাখি বিক্রি করা যাবে না! কোর্টের নির্দেশের পর ‘অ্যাকশনে’ প্রশাসন
-
নির্বাচন ভণ্ডুলের ছক! রাশিয়ায় ১০০০ ড্রোন নিয়ে হামলা ইউক্রেনের, বিস্ফোরণ তেল শোধনাগারেও
-
পোস্টারে শিল্পীকে ‘অপমান’, বিতর্কে সনাতন দিন্দার পুজো, কী জানালেন উদ্যোক্তারা?
-
রণক্ষেত্র বালোচিস্তানে সামরিক অভিযান! মৃত ৫ বিদ্রোহী, ২৩ জন অপহৃতকে উদ্ধার পাকসেনার
-
বিগ বসের ঘরে হৃদরোগে আক্রান্ত সলমন! হইচই শুরু হতেই কেন ক্ষমাপ্রার্থী ভাইজান?