সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: ঢাল নেই, তলোয়ারও গায়েব! ফলে, বেআইনি মদের কারবার ঠেকাতে ‘যুদ্ধে’ নামতে পারছে না আবগারি দপ্তর৷ আর এতেই শিল্পাঞ্চলে জমজমাট চোলাই কারবার৷ বেআইনি মদের আড়ালে দেদার বিক্রি হচ্ছে বিষমদ৷ বাড়ছে মদ্যপদের ভিড়৷ দিনে-দুপুরে মদ্যপদের উৎপাতে অতিষ্ঠ বাসিন্দাদের মধ্যেই ক্ষোভ জমতে শুরু করেছে৷ বিশেষ করে পারিবারিক অশান্তির জেরে নিষ্পেষিত হচ্ছেন ঘরের মহিলারা৷ দুর্গাপুরের কাঁকসা এলাকায় বেআইনি মদের ঢালাও কারবার চলে৷ কাঁকসা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়েই দেদার বিক্রি বাংলা মদের৷ সরকার নির্দিষ্ট দোকান থেকে নয় গ্যারেজ, মুদিখানা এমনকি মিষ্টির দোকান থেকেও বিক্রি হয় এই দেশি মদ৷ দৈনিক মোটা রোজগারের লোভে কাঁকসায় এই বেআইনি কারবার বাড়ছে৷ কাঁকসা, দার্জিলিং মোড়, গোপালপুর ও বামুনাড়া শিল্পতালুক, গোপালপুর অঞ্চলে প্রায় কুটির শিল্পের চেহারা নিয়েছে এই দেশি মদ বেআইনি বিক্রির ব্যবসা৷
[সৌদিতে দুর্ঘটনায় বাঙালি যুবকের মৃত্যু, শোকের ছায়া গোপালনগরে]
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত দেশি মদের দোকান থেকে মদ কিনে তা হাত বদল হয়ে বিক্রি করলে বোতল পিছু লাভ থাকে ১৭ টাকা৷ এই বোতল পিছু লাভ থেকেই দিতে হয় ‘তোলাবজি’৷ বোতল পিছু প্রায় ছ’টাকা তোলাবাজিতেই খরচ হয় বেআইনি বিক্রেতাদের৷ কাঁকসার বাঁশকোপার বেআইনি মদের দোকানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা জানান, “এক একটি দোকানে দৈনিক আশি থেকে নব্বই বোতল দেশি মদ বিক্রি হয়৷ সব খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা থাকে৷” এই বিপুল রোজগারের নেশাতেই কাঁকসা ব্লকে বাড়ছে বেআইনি মদের দোকানও৷ শুধু মাত্র কাঁকসা ব্লকেই দৈনিক প্রায় সাড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ বোতল দেশি মদ বিক্রি হয় বলে আবগারি সূত্রে জানা গিয়েছে৷ কাঁকসা ব্লকের পরই বেআইনি মদ বিক্রির নিরিখে রয়েছে দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লক৷ কাঁকসা ব্লকে বেআইনি মদের রমরমা রুখতে একের পর এক আন্দোলন হয়েছে৷ কিন্তু, তাতেও কোনও কাজ হয়নি৷
পরকীয়ায় ইতি টানায় ধারালো অস্ত্রের কোপ গৃহবধূকে, পলাতক অভিযুক্ত প্রেমিক
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই বেআইনি দেশি মদের আড়ালে জাল মদ ও চোলাই মদও বিক্রি হয়ে থাকে৷ এই জাল ও চোলাই মদ আসে মূলত বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়া থেকে৷ এই বেআইনি কারবার ঠেকাতে আবগারি দপ্তরের কী ভূমিকা? খোঁজ নিতেই চোখ কপালে৷ গত এপ্রিল-মে মাসে রাজ্য অণ্ডাল থেকে দুর্গাপুর রেঞ্জের ২৩ জন কনস্টেবল তুলে নেওয়া হয়৷ আবগারি দপ্তরর পানাগড় রেঞ্জের অবস্থা তো আরও ভয়াবহ৷ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ জন কর্মীর মধ্যে একজন এসআই, একজন এএসআই ও তিন জন কনস্টেবল৷ এই তিন জন কনস্টেবলের মধ্যে এক জন শারীরিকভাবে পিছিয়ে পড়া ও একজন মহিলা৷ ফলে, বেআইনি মদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিকাঠামোগত দুর্বলতার কারণেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে৷ আর সেই সুযোগটাই বিভিন্ন স্তরে ‘ম্যানেজ’ করে দিব্বি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বেআইনি মদ বিক্রেতারা৷ পশ্চিম বর্ধমান জেলার আবগারি দপ্তরের ডেপুটি এক্সাইজ কমিশনার শরত কুমার মিশ্র জানান, “বিভিন্ন এলাকাতে মাঝেমধ্যেই অভিযান হয়৷ এলাকায় এই ধরনের নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ আমাকে জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব৷”
সর্বশেষ খবর
-
‘কালো হিরে’র হ্যাটট্রিকে স্বমহিমায় ফরাসি বিপ্লব, নরওয়েকে গোলের মালা ফ্রান্সের
-
কন্ডোম-খাট-বালিশ, বিধাননগরে তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিস যেন হোটেল! দেখে হতবাক স্বাস্থ্যমন্ত্রী
-
‘কী করে ওকে বলব…?’ ভূমিকম্পে মেয়ের প্রাণ বাঁচিয়ে মৃত স্ত্রী, ভেঙে পড়লেন ভেনেজুয়েলার ফুটবলার
-
‘মুসলমানদের নিয়ে স্যাটাভাঙা মার’! জনসভায় বেনজির হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের
-
সন্তানের কান্নায় অতিষ্ঠ, ধারালো অস্ত্রের কোপে ৬ মাসের শিশুকন্যাকে গলা কেটে খুন মা’র!