গঙ্গার জল এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। তবে ভূতনির একাধিক জায়গা থেকে বন্যার জল নামতে শুরু করেছে। মানুষ একে একে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। দুর্গাপুজোর আর একমাসও বাকি নেই। জল কমতেই এবার ওইসব এলাকাতেও পুজোর আয়োজনে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা তৈরির কাজও শুরু করেছেন। আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে। আর নতুন করে দুর্যোগ আসবে না। এমনই আশায় বুক বেঁধেছেন দুর্গতরা।
আরও পড়ুন:
মালদহের ভূতনিতে গঙ্গার প্রবল ভাঙন হয়েছে এবার। ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে বহু এলাকা। বন্যা পরিস্থিতিতে হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে অন্য জায়গায় প্রাণ বাঁচাতে সরে গিয়েছিলেন। ত্রাণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় রাজ্য সরকারের তরফে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও ত্রাণ দিতে এগিয়ে এসেছে। ছোট ডোঙা বানিয়ে ত্রাণের জন্য বন্যার জলে ছুটে যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। ত্রাণের জন্য হাহাকারের ছবিও দিন কয়েক আগে ধরা পড়েছিল ভূতনিতে।

জানা গিয়েছে, ভূতনি এলাকায় ১৪টি মতো সর্বজনীন পুজো হয়। প্রশ্ন উঠেছিল, এই পরিস্থিতিতে কি পুজো সম্ভব? এবার কি পুজোর দিনগুলিতে ঢাক বাজবে? তবে জল কিছু কিছু অংশে কমতেই পুজোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। জলযন্ত্রণা কাটিয়ে ফের দেবী দুর্গার আগমনের প্রস্তুতিতে নামার অপেক্ষায় মালদহের ভূতনির পুজো উদ্যোক্তারা। যদিও এখনও কয়েকটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সামনে নদীর জল রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে।
ভূতনির ডোমনটোলা সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’দিন ধরে দ্রুত জল কমছে। দু’দিন আগেও মণ্ডপের সামনে প্রায় এক হাত জল জমে ছিল। ফলে পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন উদ্যোক্তারা। তবে জল কমতেই মৃৎশিল্পী প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। বাঁশ, কাঠ দিয়ে খড়ের কাঠামো তৈরি শুরু হয়েছে। কোথাও আবার মূর্তি তৈরির জন্য খড় বাঁধতে দেখা গিয়েছে। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, জল কমার পরই তাঁরা কাজে নেমেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবারও ভালোভাবেই দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি সরকারি অনুদান পাওয়ার আশাও রয়েছে তাঁদের।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হবে। সেই গতিতেই কাজ হবে। তেমনই জানাচ্ছেন পুজো উদ্যোক্তারা। পুজো উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল। তাঁর দাবি, এখনও কয়েকটি পুজোমণ্ডপের সামনে জল রয়েছে। তবে আগামী দু’দিনের মধ্যে সেখান থেকেও জল নেমে যাবে। বন্যায় কোনও পুজোমণ্ডপ বা মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, “পুজোর আয়োজনে কোনও খামতি থাকবে না। রাজ্য সরকার সমস্ত পুজো উদ্যোক্তার পাশে রয়েছে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অসাংবিধানিক! সিএনএন-সহ ৩ সংবাদমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশ, আদালতে ধাক্কা ট্রাম্পের
-
দিলীপের মুখে জ্যোতি বসুর প্রশংসা! বললেন, ‘অন্তর্দ্বন্দ্বেই সিপিএম শেষ’
-
সহকারীদের সুযোগ দিতে চান, আজ শিল্ডে ইস্টবেঙ্গল বেঞ্চে থাকবেন না হাবাস, খেলবেন বিদেশিরা?
-
‘অন্তর্কলহ’ বিতর্কে চাপে জ্ঞানেশ কুমার, এর মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় স্বস্তি কন্যা মেধার
-
স্থলভাগে প্রবেশ অতিগভীর নিম্নচাপের, বঙ্গের ৬ জেলায় কমলা সতর্কতা, কবে কমবে বৃষ্টি?