Sikkim Earthquake

৪৮ ঘণ্টায় পাঁচবার, ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সিকিম-সহ উত্তরবঙ্গ, শুকোচ্ছে জলের উৎস!

বৃহস্পতিবার সকালের আতঙ্ক না-কাটতে শুক্রবার ভোররাতে ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সিকিম-সহ উত্তরের পাহাড়-সমতল। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোর ৪:১০ মিনিটে মাটি কেঁপে ওঠে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৩।

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১৬:১৮

options
link
৪৮ ঘণ্টায় পাঁচবার, ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সিকিম-সহ উত্তরবঙ্গ, শুকোচ্ছে জলের উৎস!
এদিন কম্পনে ভেঙে পড়েছে স্থানীয় এক স্কুলের ছাদের অংশ। নিজস্ব চিত্র

বৃহস্পতিবার সকালের আতঙ্ক না-কাটতে শুক্রবার ভোররাতে ফের ভূমিকম্পে (Earthquake) কেঁপে উঠল সিকিম-সহ উত্তরের পাহাড়-সমতল। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোর ৪:১০ মিনিটে মাটি কেঁপে ওঠে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৩। এদিনের ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল সিকিমের গ্যাংটক শহর থেকে প্রায় ২৪ কিমি উত্তর-উত্তর-পূর্বে ৮৪ কিলোমিটার গভীরে। গবেষকদের মতে এটি ছিল মাঝারি মাপের ভূমিকম্প। ২৪ ঘন্টা আগে বৃহস্পতিবার সকালে কেঁপে উঠল সিকিম-সহ উত্তরবঙ্গ। ওই দিন কম্পনের উৎসস্থল ছিল গয়ালশিং জেলায় ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬।

Advertisement

গবেষকদের শঙ্কা ধারাবাহিক ভূমিকম্প সিকিম, দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে কম্পনপ্রবণ হিমালয়ে জীবন কতটা নিরাপদ? চোপড়া কলেজের অধ্যক্ষ তথা ভূগোলের গবেষক মধুসূদন কর্মকার বলেন, “ধারাবাহিক কম্পনের ফলে কংক্রিটের নির্মাণের কাঠামোগত ভিত দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বহুতল এবং জল বিদ্যুৎ প্রকল্পের। এছাড়াও পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিক জলের উৎস শুকিয়ে যেতে পারে।” ইতিমধ্যে বৃহস্পতিবারের ভূমিকম্পে সিকিমে (Sikkim Earthquake) দুটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর মিলেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি এবং ইউনাইটেড স্টেট জিওলজিকাল সার্ভের গবেষণা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালে সিসমিক মনিটররা সিকিম রাজ্যের ৩০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ৪ বা তার বেশি মাত্রার ১৭৮টি ভূমিকম্প রেকর্ড করেছেন।

Advertisement

এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প (Earthquake) ছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.১। গ্যাংটকের উত্তর-পশ্চিমে তিব্বত অঞ্চলে উৎসস্থল ছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর, ২০২৬ সালের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারিতে এমন ধারাবাহিক ভূমিকম্প হচ্ছে যা ভূকম্পবিদদের মতে গুরুত্ব সহকারে মনোযোগ দেওয়ার দাবি রাখে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের প্রাক্তন প্রধান সুবীর সরকার বলেন, “ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সমতা ফিরে না আসা পর্যন্ত কম্পন অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় ধরনের কংক্রিটের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে হবে। উন্নয়নের নামে এটা চলতে দিলে ভূগর্ভে স্ট্রেস বাড়বে।” সুবীরবাবু মনে করেন, পাহাড়ে নির্মাণ শৈলীর ব্যাপক পরিবর্তন, কাঠের বাড়ি তুলে দিয়ে কংক্রিটের বহুতল নির্মাণের ঝোক বিপদ ঘনীয়ে তুলেছে। এমনিতেই ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) সমীক্ষার নতুন আপডেট সিসমিক জোনেশন ম্যাপে দার্জিলিং থেকে সিকিম পুরো হিমালয় অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোন সিক্স-এ রেখেছে। এখানে রিখটার স্কেলে ৮ থেকে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.