ময়ূরাক্ষী আর অজয়ের পাড়। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন দুই নদীর তীরজুড়ে আকাশ ভরে উঠত হাজার রঙের ঘুড়িতে। চলত একের পর এক লড়াই। কোনও ঘুড়ির সুতো কেটে মাটিতে নামিয়ে আনলেই উঠত ‘ভোকাট্টা’র চিৎকার। সেই লড়াইয়ের পিছনে ছিল হেতমপুর রাজপরিবার, রাজনগরের নবাব পরিবার এবং বীরভূমের বিভিন্ন বর্ধিষ্ণু গ্রামের জমিদার পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতা। জেলার সেরা ঘুড়িবিশারদদের দেওয়া হত মোটা অঙ্কের পুরস্কার। ফলে ঘুড়ি ওড়ানো নিছক বিনোদন নয়, বীরভূমের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ হয়ে উঠেছিল। জমিদারতন্ত্রের পতনের সঙ্গে হারিয়েছে সেই পৃষ্ঠপোষকতা। তবু একদিনে থামেনি ঘুড়ির লড়াই। দীর্ঘদিন নদীর পাড়ে চলেছে প্রতিযোগিতা। পরে নদীর তীর ছেড়ে লড়াই উঠেছে পাকা বাড়ির ছাদে। বদলেছে পরিবেশ, বদলেছে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়। কিন্তু বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ি ওড়ানোর আকর্ষণ টিকে ছিল। সেই পরম্পরার শেষটুকুও এ বার হারানোর পথে।
আরও পড়ুন:
বিশ্বকর্মা পুজোয় সিউড়ির (Siuri) জেলা সদরের একমাত্র ঘুড়ির দোকানটিও বন্ধ। একসময় জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বসত ঘুড়ির দোকান। পাড়ার মোড়ে মিলত পেটকাটি, চাঁদিয়াল, মোমবাতি, বগ্গার মতো নানা ঘুড়ি। এখন দোকানের সংখ্যা প্রায় শূন্য। নতুন প্রজন্মকে টানতে বাজারে এসেছিল প্লাস্টিকের ঘুড়ি। ছোটা ভিম, মিকি মাউস, টম অ্যান্ড জেরির ছবি থাকত তাতে।
বিক্রেতাদের দাবি, সামান্য বিক্রির বড় অংশই সেগুলি। অভিভাবকেরা কিনে দিলেও ওড়ানোর কৌশল শেখানোর লোক কম। মোবাইল ও ডিজিটাল বিনোদনের যুগে তাই হারাচ্ছে ছাদে দাঁড়িয়ে সুতোয় টান দেওয়ার আনন্দ। সিউড়ির শেষ ঘুড়ির দোকানের বন্ধ দরজা যেন সেই হারানো সময়েরই প্রতীক।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপ জিতবেন বিরাট-রোহিতকে নিয়েই! ‘অধরা মাধুরী’ নিয়ে ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য গিলের
-
হনুমান চালিশা পাঠেই ‘হিরো’ পাইলট মচ্ছর, ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা ভাগ করে অভিনেত্রী দেবলীনা বললেন…
-
গতবছরই বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন, সেই নার্সিংহোমেই শিশুমৃত্যু! হুলস্থুল জামালপুরে
-
৭ মাস ধরে বন্ধ আয়ুর্বেদ হাসপাতালের অস্ত্রোপচার, সমস্যায় দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা!
-
১৫ বছরেই ইতিহাস! এশিয়াডে সোনাজয়ের সঙ্গে বৈভবের ঝুলিতে নতুন রেকর্ড