সামান্য হলেও জলের স্তর নেমেছে। তবে মালদহের ভূতনি-সহ আশপাশের বন্যা পরিস্থিতি এখনও তেমন উন্নত হয়নি বলে দাবি সাধারণ মানুষের। এখনও বিচ্ছিন্ন বহু এলাকা। খাবার, পানীয় জলের জন্য বেড়েই চলেছে হাহাকার। বানভাসীদের অনেকেই জলে ভিজে, রাতের পর রাত জেগে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ওই পরিস্থিতিতে বানভাসীদের কাছে দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনের কাছে। তাই উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৈরি করা হচ্ছে জোনাল গুদাম। ভূতনি সেতু থেকে দুর্গত এলাকায় পৌঁছতে অনেকটা সময় লাগছে। এখন ওই গুদাম থেকে গঙ্গার কাছাকাছি গ্রামগুলিতে দ্রুত ত্রাণ পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন:
শুধু ত্রাণ নয়, গুদাম এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে শুরু করে সমস্ত জরুরি পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। থাকবে ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসা পরিষেবাও। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী টয়লেট। বিদ্যুৎহীন এলাকায় জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার থেকে ওই পরিষেবা চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মালদহের জেলাশাসক রাজেন বীর সিং কাপুর। প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, দুর্গতদের কাছে কত তাড়াতাড়ি পৌঁছনো যায় সেটাই এখন চ্যালেঞ্জের। ভূতনির বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলের তলায়। ফলে বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ, ভোগান্তি রয়েছে এখনও চরমে।

প্রসঙ্গত ৩ সেপ্টেম্বর ভূতনির গঙ্গা বাঁধ ভেঙে হুহু করে জল ঢুকে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। উত্তর চণ্ডীপুর, দক্ষিণ চণ্ডীপুর-সহ হীরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত পুরোপুরি জলের নিচে। প্রায় দু’লক্ষ মানুষ বন্যার কবলে। তাদের মধ্যে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে সরকারি ত্রাণ শিবিরে অথবা বাঁধের উঁচু অংশে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে শুক্রবার থেকে ২৪ ঘন্টায় সেভাবে গঙ্গার জল বাড়েনি এটাই রক্ষা। ৩ মিলিমিটার জলের স্তর নেমেছে বন্যা কবলিত এলাকায়। আজ, শনিবার প্লাবিত বৈষ্ণবনগর থানার বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন বিজেপির এক প্রতিনিধি দল। কথা বলেন বানভাসি মানুষদের সঙ্গে।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদক নীলাঞ্জন দাস-সহ অন্য নেতৃত্ব। দলটি বৈষ্ণবনগর বিধানসভার পারদেওনাপুর শোভাপুর অঞ্চল ঘুরে দেখে। এদিন নৌকায় ঘুরে চিকিৎসা পরিষেবা দেন জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হেমনারায়ণ ঝা। জলবন্দি ভূতনির বহু গ্রামে বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়ে আছে মানুষ। প্রশাসনের তরফে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ত্রাণের ত্রিপল। জানা গিয়েছে, মানিকচকের ধরমপুর অঞ্চলের ওয়াহেদ টোলার বাঁধের পশ্চিম পাড়ে মুন্নার বাগানে কিছু পরিবার অন্তত ২০ দিন থেকে জলবন্দি হয়ে আছে। বাসিন্দারা টিনের ডোঙ্গায় ঝুঁকি নিয়ে পারাবার করছেন। বানভাসিদের অভিযোগ, এখনও সরকারি ত্রাণ এলাকায় পৌঁছয়নি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকতে গেলে এবার মানতে হবে এই শর্ত, কেন বিরাট বদলের পথে বিসিসিআই?
-
বুক চিড়ে শেহনাজের মুখের ট্যাটু, ভক্তের কীর্তিতে হতবাক অভিনেত্রী, ভাইরাল ভিডিও
-
টার্গেট নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট! প্রথম প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারে কংগ্রেস
-
‘হিন্দি চিনি ভাই ভাই’ বলেই নেহরুর পিঠে ‘ছুরি’! মোদির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফের রঙ বদলাবেন জিনপিং?
-
বামেরা বলত ‘ভণ্ড’, মার্ক্স-লেনিন নিয়ে শুভেন্দুর সমালোচনায় শতরূপের ‘ঢাল’ সেই বিবেকানন্দই!