স্টেশনকে কাজে লাগাতেই হাওড়ায় ডেরা বানায় আল কায়দা জঙ্গিরা

জঙ্গি ধরতে রাতে গেস্ট হাউসে হানা এসটিএফ-এর।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯, ১৬:৫৫

options
link
স্টেশনকে কাজে লাগাতেই হাওড়ায় ডেরা বানায় আল কায়দা জঙ্গিরা

সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়: এবার হাওড়াতেও মিলল আল কায়দা জঙ্গিদের গোপন ডেরার হদিশ!
বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে এ রাজ্যে ঢুকে হাওড়ায় ঘাঁটি গেড়ে ছিল পুলিশের খাতায় ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ দুই বাংলাদেশি আল কায়দা জঙ্গি স্বপন বিশ্বাস ওরফে তামিম ওরফে মুন ওরফে সজল আহমেদ এবং নয়ন গাজি। উত্তর হাওড়ায় ঢুকে তারা তিনদিন ধরে ছিল হাওড়া স্টেশন লাগোয়া ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি গেস্ট হাউসে। শুধু তাই নয়, এই গেস্ট হাউসে থাকাকালীন তাদের সঙ্গে দেখা করে গোপন বৈঠক করেছিল আরও এক ধৃত আল কায়দা জঙ্গি শাহদত হোসেন ওরফে বাবু। এই ১৩ নম্বর ওয়ার্ডটি বিজেপির দখলে। শুক্রবার রাতে বাবুকে সঙ্গে নিয়ে লালবাজারের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের গোয়েন্দারা ওই শিবা গেস্ট হাউসে হানা দেন। এরপর গেস্ট হাউসে তালা লাগিয়ে দিয়ে কর্মীদের জেরা করে জঙ্গিদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে চান গোয়েন্দারা। হাওড়া স্টেশনকে কাজে লাগাতেই স্টেশন সংলগ্ন ওই গেস্ট হাউসকেই নিরাপদ হিসাবে ধরে নিয়েছিল জঙ্গিরা।

Advertisement

শুক্রবার শিয়ালদহ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি জঙ্গি শাহদতকে জেরা করে লালবাজারের গোয়েন্দারা জানতে পারেন, হাওড়ায় লুকিয়ে থাকা জঙ্গি নেতা তামিম বাংলাদেশের এক ব্লগার খুনের আসামি। বাংলাদেশ পুলিশের খাতায় ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ সে। বাংলাদেশ পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে গত বছরের জুলাই মাসে সামশাদ মিঞা এবং রিয়াজুলের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে এ রাজ্যে ঢুকেছিল তামিম। তাদের এ রাজ্যে ঢুকিয়েছিল ধৃত দালাল বাবু। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ছেড়ে এদেশে ঢোকে আরও এক কুখ্যাত জঙ্গি নেতা নয়ন গাজি। প্রথমে তারা সকলেই কলকাতা হয়ে চলে যায় হায়দরাবাদে। এরপর তামিম পুণে হয়ে ফিরে আসে হাওড়ায়। সে নিজেকে স্বপন বিশ্বাস পরিচয় দিয়ে হাওড়া স্টেশন লাগোয়া ওয়াটকিন্স লেনের শিবা গেস্ট হাউসে ঘর বুক করেছিল। তার সঙ্গে ছিল নয়ন গাজি। অক্টোবর মাসের ১ থেকে ৩ তারিখ পর্যন্ত ওই গেস্ট হাউসে ছিল তারা। এরপর তারা কোথায় গা ঢাকা দিয়েছে কেউ জানে না। হোটেল কর্মীদের তারা জানিয়েছিল, পুণে থেকে তারা কলকাতায় বেড়াতে এসেছে। খুব একটা মেলামেশা করত না। বেশিরভাগই বাইরেই খাওয়াদাওয়া করত। বিপদ বুঝলে খুব সহজেই ট্রেনে চেপে পালিয়ে যাওয়া যাবে। তাই স্টেশনকে কাজে লাগাতেই হাওড়াতেই ঘাঁটি গেড়েছিল জঙ্গিরা।

Advertisement
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.