স্টাফ রিপোর্টার: গত দশ বছরের তাপমাত্রার মানচিত্রে নয়া রেকর্ড। জুনের শেষে কলকাতার পারদ ছুঁল ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস! যা কিনা স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ ডিগ্রি বেশি! গনগনে এই তাপপ্রবাহে পুড়ছে শহর থেকে জেলা। ভরা আষাঢ়েও দেখা নেই বৃষ্টির। মঙ্গলবার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানিয়ে দেওয়া হল, ২১ জুনের আগে রাজ্যে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। এর মধ্যে কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও তাতে গরম কিছু কমবে না।
আজ, বুধবারও চলবে হিট ওয়েভের দাপট। আংশিক মেঘলা আকাশে পারদ কমার কোনও সম্ভাবনা তো নেই, উলটে রাতের তাপমাত্রাও পাল্লা দিয়ে বাড়বে। রাজ্য সরকারের অনুরোধকে মান্যতা দিয়ে গরমের ছুটি মঞ্জুর করেছে একাধিক বেসরকারি স্কুল। যারা এখনও ছুটির নোটিস দেয়নি, খুব শীঘ্রই বৈঠকে বসতে চলেছে সেই স্কুলগুলির কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু কেন বর্ষাতেও এই ভয়ংকর গরম? আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, রাজ্যে বর্ষা ঢুকলেও বায়ুমণ্ডলে বৃষ্টিপাতের জন্য অনুকূল অবস্থা নেই। নেই কোনও শক্তিশালী নিম্নচাপও। আগামী সপ্তাহে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে। পূর্বাভাস অনুসারে সেই নিম্নচাপ যদি পশ্চিমবঙ্গের দিকে আসে তবেই সক্রিয় হবে বর্ষা।
[ট্রাকচালকের রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্য উলুবেড়িয়ায়]
এদিকে অত্যধিক গরমে রাজ্যে শুরু হয়েছে মৃত্যু মিছিল। সোম এবং মঙ্গলবার এই দু’দিনেই কলকাতায় মৃত্যু হয়েছে চারজনের। জেলায় মারা গিয়েছেন আরও দু’জন। সব মিলিয়ে অসহ্যকর এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচার পথ খুঁজছে শহর থেকে দক্ষিণবঙ্গের মানুষ।
মঙ্গলবার উত্তর কলকাতার রবীন্দ্র সরণি এলাকায় ফুটপাথে অচৈতন্য হয়ে পড়েন এক ভিখারি। বছর ৪৫ এর ওই ব্যক্তিকে মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের অনুমান অত্যধিক গরমেরই বলি হয়েছেন ওই ব্যক্তি। অন্যদিকে সোমবার হাবড়া-মাঝেরহাট লোকালে ট্রেনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এক মহিলা। ট্রেনে অচৈতন্য হয়ে পড়লে তাঁকে সহযাত্রীরা বিরাটি স্টেশনে নামিয়ে দেন। উত্তর দমদম পুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা ওই মহিলাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ‘হিট ওয়েভ’-এর বলি হয়েছেন কসবার বাসিন্দা সঞ্জয় প্রধানও(৪৪)। সোমবার দুপুরে ইকো পার্কের ৪ নম্বর গেটে কাজ করছিলেন সঞ্জয়। আচমকাই গরমে মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। তড়িঘড়ি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা সঞ্জয়কে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওইদিনই দুপুরে বাড়িতে পড়ার সময় অত্যধিক গরমে মৃত্যু হয় বাগুইআটির গৌরাঙ্গনগরের সোমা দত্তর (২৬)।
[দুধের শিশুকে খুন না করলে গ্রামে ঢোকা বন্ধ মায়ের, কী করলেন আদিবাসী তরুণী?]
শুধু কলকাতা নয় একই অবস্থা আসানসোল, বর্ধমান, পুরুলিয়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুরেরও। সব জেলাতেই বইছে লু-এর দাপট। সূর্যের তাপে পুড়ছেন জেলার মানুষ। তীব্র গরমে রাস্তায় বেরনোই দায় হয়ে উঠেছে। দুপুরের পর থেকেই রাস্তাঘাট কার্যত শুনশান হয়ে যাচ্ছে।
সোমবার রাতে হিট ওয়েভের বলি হন এক ট্রাক চালক। ট্রাক চালাতে চালাতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা কানাই রিং সিং-এর (৪৯) মৃতদেহ সোমবার রাতে তার লরির উপর থেকে পাওয়া যায়। কানাই খিদিরপুর ডকে থাকতেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাঝরাতে লরির খালাসি দেখেন ট্রাকের ছাদে বেহুঁশ হয়ে পড়ে রয়েছেন ওই চালক। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত গরমের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন চিকিৎসকরা। তীব্র গরমে বাঁকুড়াতেও সানস্ট্রোকে মৃত্যু হয় এক শ্রমিকের। মৃতের নাম তারাপদ মাঝি(৪০)। বাড়ি বাঁকুড়ার তালডাংরা থানার সাবড়াকোনের ভেদুয়া গ্রামে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার চড়া রোদে নিজের গ্রামে ১০০ দিনের প্রকল্পে নিকাশি নালা সংস্কারের কাজ করছিলেন তারাপদবাবু। সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাঁকে ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে। ভিড় বাড়ছে বিভিন্ন হাসপাতাল আর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে।
[পারিবারিক বিবাদে লুট মাধ্যমিকের মার্কশিট-সার্টিফিকেট! প্রশাসনের দ্বারস্থ তরুণী]
সর্বশেষ খবর
-
ডিমভাত নিয়ে ঝগড়াতেই বাবা-মা’কে ‘খুন’ ছেলের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিনারা পুলিশের
-
বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে চিনা সাইবার অপরাধীরা! টার্গেট ভারতীয়রা? কড়া নজর গোয়েন্দাদের
-
ধরনার আগে থানার সামনে ছড়ানো গোবর! একাই শক্তিপুর থানা চত্বরে বসে পড়লেন হুমায়ুন
-
ভূমিধসের আতঙ্ক পেরিয়ে খুলে গেল সিকিমের গুরুদংমার লেক, ঘুরে আসুন পুজোর ছুটিতে
-
টেলিভিশনকে ‘ডাস্টবিন মিডিয়াম’ কটাক্ষ রোহিতের, দেবলীনার খোঁচা, ‘রনিত রায়ের ভাই একমাত্র পরিচয়’