Haldia

কোন অঙ্কে তৃণমূলে পদ্মশিবিরের তাপসী? অন্তর্কলহই ভাঙন ধরাচ্ছে শুভেন্দু গড়ে!

তাপসীর দলবদলের কথা আগেই নাকি জানতেন শুভেন্দু! 'জঞ্জাল' বলে কটাক্ষ সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১০, ২০২৫, ১৮:০৩

options
link
কোন অঙ্কে তৃণমূলে পদ্মশিবিরের তাপসী? অন্তর্কলহই ভাঙন ধরাচ্ছে শুভেন্দু গড়ে!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে হলদি নদীর তীরে হাওয়া বদল! পরিবর্তন রাজনৈতিক সমীকরণে। একদা লক্ষ্ণণ শেঠের দাপুটে জমিতে ফসল ফলিয়েছেন অধিকারী পরিবারের সদস্য শুভেন্দু। ২০১১ সালে এ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর হলদিয়াও নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছে। লাল দুর্গ তখনও ফিকে হয়নি। কাস্তে-হাতুড়ি-তারার সংগঠন তারপরও কিছু বছর হলদিয়ায় অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল। তার অন্যতম কাণ্ডারি তাপসী মণ্ডল। হলদিয়া জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন এই সিপিএম নেত্রী। ২০২০ সালের পর শুভেন্দু অধিকারী ঘাসফুল শিবির ছেড়ে গেরুয়া পতাকা হাতে তোলার পর আচমকাই মন পালটে ফেলেন তাপসীও। সিপিএম ছেড়ে শুভেন্দুর অনুপ্রেরণায় যোগ দেন বিজেপিতে। অমিত শাহর হাইভোল্টেজ সভায় তাঁর হাতে উঠেছিল পদ্ম-পতাকা। তারপর ফের তাঁর রাজনৈতিক জীবনে পরিবর্তন। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে সেই তাপসী এলেন শাসকশিবিরে। ঠিক কোন অঙ্কে শুভেন্দুর হাত ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে তাঁর আগমন, এর নেপথ্যে কী সমীকরণ – সেই সবই এখন হয়ে উঠল চর্চার বিষয়।

Advertisement

লড়াকু নেত্রী তাপসী যে রাজনৈতিক ছত্রছায়াতেই থাকুন না কেন, ভোটের লড়াইয়ে জিত নিশ্চিত। তার উপর একুশের বিধানসভা ভোটে পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা ছিল একেবারে শুভেন্দু অধিকারীর নিয়ন্ত্রণে। তাঁর প্রভাবেই হোক কিংবা নিজস্ব ক্যারিশ্মায়, সিপিএম থেকে বিজেপিতে গিয়ে একুশে হলদিয়া বিধানসভা নিজের দখলে রেখেছিলেন তাপসী মণ্ডল। পেয়েছিলেন তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভানেত্রীর দায়িত্ব। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটেও তৃণমূল স্তর থেকে পরিশ্রম করেছিলেন তমলুককে গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দিতে। সফলও হয়েছিলেন। ‘পরিযায়ী’ হয়েও তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের তরুণ নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যকে পরাস্ত করেছিলেন খ্যাতনামা প্রাক্তন বিচারপতি বিজেপির অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

শোনা যায়, এরপরই নাকি হলদিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ একটু একটু করে বদলাতে থাকে। অভিজিৎ-শুভেন্দু ডুয়েটে ক্রমশ কোণঠাসা হতে থাকেন তাপসী। সাংগঠনিক জেলা সভাপতি হিসেবে তাঁকে নাকি গুরুত্বহীনতার পথে ঠেলে দেন বিরোধী দলনেতা। কয়েকটি দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিলেন শুভেন্দু। অন্যদিকে, সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তলে তলে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছিল তাপসী মণ্ডলের। গত মাসে ভারতীয় মজদুর সংঘের সভা উপলক্ষে হলদিয়া গিয়ে নাকি অভিজিৎবাবু অভিযোগ তুলেছিলেন, দল ভাঙানোর খেলা চলছে হলদিয়ায়। দলেরই কেউ কেউ অন্য সংগঠন করছেন। নাম না করলেও তা যে তাপসীর উদ্দেশেই বলা, বুঝতে একবিন্দু অসুবিধা হয়নি কারও। তাই তাপসীও থেমে থাকেননি। পালটা তিনি অভিযোগ করেন, সাংসদ না জেনেই মন্তব্য করছেন।

Advertisement

ধারাবাহিক এসব ঘটনায় অভিমান জমছিল। ইতিউতি শোনা যাচ্ছিল, ছাব্বিশের ভোটে গেরুয়া শিবির থেকে আর টিকিট পাবেন না তাপসী মণ্ডল। সবমিলিয়ে পদ্মবনের মোহ কেটেই গিয়েছিল তাঁর। প্রমাণ মিলল সোমবার, ১০ মার্চ। কলকাতায় এসে সোজা তৃণমূল ভবনে গিয়েই তৃণমূলের পতাকা হাতে নিলেন হলদিয়ার বিধায়ক। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট গেরুয়া শিবিরের বিভাজন-নীতির নিন্দা করলেন, উন্নয়ন-বিমুখ প্রবণতার কথা বললেন। নাম না করেই এসব তির যে শুভেন্দু অধিকারী, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দিকে, তা বেশ বোঝা গেল। তবে কি পদ্মশিবিরের অন্তর্কলহের কাঁটায় বিদ্ধ হয়ে ঘাসফুলের আশ্রয় এলেন তাপসী? নাকি পরের বিধানসভা ভোটের টিকিট পাওয়ার লক্ষ্যেই দলবদল? প্রশ্ন উঠছেই। তাপসীর তৃণমূল যোগের পর শুভেন্দুর দাবি, এই বদলের কথা একমাস আগে থেকেই তিনি জানতেন। আর সাংসদ অভিজিতের কটাক্ষ, ”জঞ্জাল গিয়ে জঞ্জালের ভ্যাটেই পড়ল।” ফলে ছাব্বিশে হলদি নদীর তীরের রাজনীতির হাওয়া কোন দিকে ঘুরবে, তা তো সময়ই বলবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন