শাহাজাদ হোসেন, ফরাক্কা: বিগত আড়াই মাস ধরে লকডাউনের জেরে ব্যবসায় মন্দা। তাই ছেলের মোবাইলের আবদার মেটাতে পারেননি বাবা। আর সেই অভিমানেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরের নাম মহিন খান (১৭)। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদ জেলার ফরাক্কার অর্জুনপুর গ্রামের মানিকতলায়। মৃত মহিন খান অর্জুনপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিল। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ফরাক্কার অর্জুনপুর গ্রামপঞ্চায়েতের মানিকতলার বাসিন্দা মজিবুর খান। পেশায় শ্রমিক সরবরাহের ঠিকাদার। দুই সন্তান তার। লকডাউনের জেরে দীর্ঘ দিন থেকেই কাজ বন্ধ। দুই সন্তানের মধ্যে ছোট মহিন খান। এই বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সে। মহিন বাবা-মা’র কাছে আবদার করেছিল তাকে একটি নতুন স্কিনটাচ স্মার্ট মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য। ছেলের বায়না শুনে বাবা মজিবুরও আশ্বাস দিয়েছিলেন যে লকডাউন উঠলে মোবাইল কিনে দেবেন বলে।
[আরও পড়ুন: ‘বনগাঁয় আগুন জ্বলবে’, বিজেপি কর্মীকে ব্যাপক মারধরের ঘটনায় হুঁশিয়ারি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের]
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে লকডাউন শিথিল হতেই ছেলে ফের আবদার করা শুরু করে মোবাইল কিনে দেওয়ার জন্য। ছেলের এই আবদারে অতিষ্ট হয়েই বুধবার বিকেলে বকাবকি করেন মহীনের মা। আর মায়ের বকাবকির পর থেকেই মহিনের অভিমান হয়। এরপরই বুধবার কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বয়স সতেরোর মহীন। প্রথমটায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে অর্জুনপুর গ্রামেরই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তড়ঘড়ি নিয়ে আসা হয় জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালেই হাসপাতালে মৃত্যু হয় মহিনের। তরতাজা ছেলের মৃত্যুতে গোটা ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরে পুলিশের তরফে মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
[আরও পড়ুন: ফের ত্রাতার ভূমিকায় অধীর চৌধুরি, ভিন রাজ্যে মৃত শ্রমিকের দেহ ফেরাচ্ছেন বহরমপুরের সাংসদ]
সর্বশেষ খবর
-
রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনা, নিউটাউনে দু’টি বাইকের সংঘর্ষে মৃত্যু নিরাপত্তারক্ষীর
-
দিনের পর দিন টাট্টু ঘোড়ার সঙ্গে যৌনতা! জেলে ব্রিটিশ কিশোর
-
রাজ্যবাসীকে ‘ফেস্টিভ প্যাকেজ’ উপহার খাদ্যমন্ত্রীর! ৫০ শতাংশ ছাড়ে মিলবে রেশন সামগ্রী
-
খুদে দুর্গা গড়েই চমক! দেশ-বিদেশে পাড়ি কৃষ্ণনগরের কৃশানুর অভিনব শিল্পকর্ম
-
‘তার মানে বিচার হবে’, অভয়া সৎকার মামলা সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর বললেন মা রত্না