Maoist

বঙ্গের মাও ব্রিগেডকে বাগে আনতে এবার সারান্ডা মডেল! ৩ রাজ্যের ভারচুয়াল বৈঠকে নীল নকশা

গোয়েন্দা তথ্য বলছে, বর্তমানে ওই স্কোয়াডটি ঘনঘন অবস্থান বদল করে পূর্ব সিংভূম, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের পাহাড়ি জঙ্গলে আনাগোনা করছে।

অমিত সিং দেও
অমিত সিং দেও

শেষ আপডেট: জুলাই ৩০, ২০২৬, ২১:৪৭

options
link
বঙ্গের মাও ব্রিগেডকে বাগে আনতে এবার সারান্ডা মডেল! ৩ রাজ্যের ভারচুয়াল বৈঠকে নীল নকশা
বঙ্গের মাওবাদী ব্রিগেডকে বাগে আনতে তিন রাজ্যের পুলিশের যৌথ বৈঠক, নিজস্ব ছবি

শেষ জীবিত মাওবাদী পলিটব্যুরোর সদস্য মিসির বেসরা গ্রেপ্তার হয়েছে। এর ঠিক পরপরই তিন রাজ্যের পুলিশের টার্গেট এবার বঙ্গের আকাশ ও তার স্কোয়াড। ঝাড়খণ্ডে একের পর এক সাফল্যের পর সারান্ডা মডেলেই এবার বাংলা সীমানার ঝাড়খণ্ডে ঘেরা বন্দি করতে চলেছে যৌথ বাহিনী। ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ-গিরিডি সীমান্তে মিসির ও তার সহযোদ্ধারা গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, বৃহস্পতিবার তিন রাজ্যের পুলিশের উচ্চ পদাধিকারিকরা বৈঠকে বসেন। তাতে বঙ্গের মাও ব্রিগেডকে বাগে আনার ব্লুপ্রিন্ট ঠিক হয়েছে।

Advertisement
মাওবাদী আকাশ ওরফে অসীম মণ্ডল, পুলিশের হাতে আসা সাম্প্রতিক ছবি

জানা গিয়েছে, ভারচুয়াল ওই বৈঠকে ছিলেন ঝাড়খণ্ডের কোলহান রেঞ্জের ডিআইজি অনুরঞ্জন কিসপট্টা, ওড়িশার পশ্চিমাঞ্চলের ডিআইজি ব্রজেশ কুমার রাই, এই রাজ্যের বাঁকুড়া রেঞ্জের ডিআইজি অভিষেক মোদি-সহ পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামের দুই পুলিশ সুপার। এছাড়া ঝাড়খণ্ডের পূর্ব এবং পশ্চিম সিংভূম, সরাইকেলা-খরসোওয়া, জামশেদপুর গ্রামীণ এবং সদরের পুলিশ সুপার, ওড়িশার কেওনঝড়, রাউরকেল্লা, সুন্দরগড় এবং ময়ূরভঞ্জ জেলার পুলিশ সুপাররাও ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন।

Advertisement

গোয়েন্দা তথ্য বলছে, বর্তমানে ওই স্কোয়াডটি ঘনঘন তাদের অবস্থান বদল করে ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম এবং পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের পাহাড়ি জঙ্গলে অবস্থান করছে। ফলে মাওবাদীদের সশস্ত্র আন্দোলনের শেষ পেরেক পুঁততে সারান্ডা মডেলে শীঘ্রই ঘেরা বন্দি অপারেশনে নামছে তিন রাজ্যের পুলিশ।

২০১১ সালে বাংলায় তৃণমূল ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যে জঙ্গলমহল থেকে মাওবাদী আন্দোলন খতম হয়ে যায়। বেঁচে থাকা কয়েক ডজন সশস্ত্র গেরিলা যোদ্ধা ঝাড়খণ্ডের পূর্বাঞ্চলীয় অন্যতম মুখ্যালয় পশ্চিম সিংভূমে আত্মগোপন করে। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতকে মাওবাদমুক্ত করতে ডেডলাইন বেঁধে দেওয়ায় গোটা দেশে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে জোরদার অপারেশনে নামে যৌথ বাহিনী। যার ফলে ছত্তিশগড় থেকে ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডে শয়ে শয়ে মাওবাদী নেতা-নেত্রীরা আত্মসমর্পণ করেন। এছাড়া গুলিযুদ্ধে বহু গেরিলার মৃত্যু হয়। ছত্তিশগড় মাওবাদী মুক্ত হলেও জনা ৫০ যোদ্ধাকে নিয়ে ঝাড়খণ্ডের সারান্ডার জঙ্গলে টিকেছিলেন পলিটব্যুরোর সদস্য মিসির বেসরা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অসীম মণ্ডলরা। সেখানে সাঁড়াশি আক্রমণে একের পর মাও নেতা-নেত্রীর মৃত্যু হয়। গ্রেপ্তার হন মিসির বেসরা।

Advertisement
বৃহস্পতিবার পশ্চিম সিংভূম জেলার চাইবাসায়
পুলিশ সুপারের ওয়ার রুমে কোলহান ডিআইজি অনুরঞ্জন কিস্পোট্টা সহ পুলিশ আধিকারিকরা,
নিজস্ব চিত্র।

তারপরেই মনোবল ভেঙে অনেকেই জঙ্গল যুদ্ধ ছেড়ে পালিয়ে ঝাড়খণ্ড, বাংলা এমনকি ছত্তিশগড়ে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। চাপের মুখে সিদ্ধান্তে বদল আনে মিসির বেসরা। চলতি বছর মে মাসে সারান্ডার জঙ্গল ছেড়ে বেঁচে থাকা মাও নেতানেত্রীরা অন্যত্র পালিয়ে যায়।

বাংলায় বিধানসভার ফলাফলের পরেই অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে তিমির ওরফে মনোজ-সহ ১০ থেকে ১২ জনের এক স্কোয়াড প্রায় ১৪ বছর পর পুরুলিয়া ছুঁয়ে থাকা দলমা পাহাড়ের জঙ্গলে ফিরে আসে। এদের মধ্যে আকাশের মাথার দাম ছিল এক কোটি। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, বর্তমানে ওই স্কোয়াডটি ঘনঘন তাদের অবস্থান বদল করে ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম এবং পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের পাহাড়ি জঙ্গলে অবস্থান করছে। ফলে মাওবাদীদের সশস্ত্র আন্দোলনের শেষ পেরেক পুঁততে সারান্ডা মডেলে শীঘ্রই ঘেরা বন্দি অপারেশনে নামছে তিন রাজ্যের পুলিশ। রাজ্য পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে এক রাজ্যে পুলিশের তাড়া খেয়ে যাতে অন্য রাজ্যের সীমানায় আত্মগোপন না করতে পারে সেই কারণে একযোগে অভিযান চলবে। এই দিনের বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিন রাজ্যের পুলিশের মধ্যে আদানপ্রদান হয়। তার ভিত্তিতেই নীল নকশা তৈরি হচ্ছে এই রাজ্যের জঙ্গলমহলেও।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.