রাজ্যের মন্ত্রী-বিধায়কের মধ্যে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব, বাগবিতন্ডা। তোলাবাজি, সিন্ডিকেন্ড রাজ নিয়ে প্রকাশ্যেই জোর দ্বন্দ্ব দেখা গেল। দমদম পার্ক এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ ইস্যুতে প্রকাশ্যে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলেন রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। সেসময় মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় কিছুটা অস্বস্তিতেই বসেছিলেন। সরকারে আসার মাত্র চারমাসের মধ্যেই শারদ্বত ও পীযূষের প্রকাশ্যে এই তর্কে জড়ানো নিয়ে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে। দলও বিড়ম্বনায় পড়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ‘বিধায়ক দরবারে’ কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বিধাননগরের বিধায়ক তিনি। সন্ধ্যায় সেখানে মন্ত্রী, এলাকার বিজেপি কর্মীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষজন উপস্থিত হয়েছিলেন। রাত আটটা নাগাদ এলাকার একটি স্কুলে ওই কর্মসূচি শুরু হয়। সেসময় সেখানে উপস্থিত হন বিজেপি বিধায়ক। তিনি সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন না। এভাবে বিধায়ককে উপস্থিত হতে দেখে হতবাক হয়েছিলেন মন্ত্রী থেকে অন্যান্যরা।
আরও পড়ুন:
বিধায়ককে জনসাধারণের মধ্যে উপস্থিত থাকতে দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি মঞ্চে পীযূষকে মঞ্চে আসন গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন। তবে প্রথমে সেই কথা রাখতে চাননি তিনি। পরে জোরাজুরিতে তিনি মঞ্চে উঠে মন্ত্রীর পাশে আসন গ্রহণ করেন।
ওই এলাকার বাসিন্দা হওয়ার কারণে ‘বিধায়ক দরবারে’ কর্মসূচিতে হাজির হয়েছিলেন পীযূষ কানোরিয়া। সেই কথা বলে সাধারণ বাসিন্দা হিসেবে সকলের মধ্যে আসন গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এদিকে বিধায়ককে জনসাধারণের মধ্যে উপস্থিত থাকতে দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি মঞ্চে পীযূষকে মঞ্চে আসন গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন। তবে প্রথমে সেই কথা রাখতে চাননি তিনি। পরে জোরাজুরিতে তিনি মঞ্চে উঠে মন্ত্রীর পাশে আসন গ্রহণ করেন। তবে ঘটনায় উপস্থিত সাধারণ মানুষ, দলীয় কর্মীদের মধ্যে তখনও মুখ চাওয়াচাওয়ি চলেছে।

কিন্তু পরের অংশে রীতিমতো চর্চা, গুঞ্জন উঠে আসে। মন্ত্রী তথা বিধায়ক সাধারণ মানুষের লেখা কিছু চিঠি পড়তে শুরু করেন। সেগুলির মধ্যে বেশিরভাগই ছিল বেনামি। প্রায় সবগুলিতেই এলাকার তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। মন্ত্রী সেসব পড়ে বলেছিলেন, সব অভিযোগই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। ‘ভয় ইন ভরসা আউট’ বার্তাও দেন তিনি। শারদ্বতের কথায়, “না খাব, না কাউকে খেতে দেব। কাউকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। তৃণমূল জমানায় এসব হত।’’ সেই কর্মসূচির মধ্যে একদম শেষ অংশে মন্ত্রীর কথার রেশ টেনে মাইক হাতে বক্তব্য রাখেন এলাকার বাসিন্দা রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া।
পরের অংশে রীতিমতো চর্চা, গুঞ্জন উঠে আসে। মন্ত্রী তথা বিধায়ক সাধারণ মানুষের লেখা কিছু চিঠি পড়তে শুরু করেন। সেগুলির মধ্যে বেশিরভাগই ছিল বেনামি। প্রায় সবগুলিতেই এলাকার তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।
সেই বক্তব্যেই রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। রাজ্যে সরকার বদলের পরেও দমদম পার্ক এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ চলছে বলে অভিযোগ তোলেন। শুধু তাই নয়, তৃণমূল আমলে এলাকায় যারা ‘দাদাগিরি’ চালিয়েছে, তাদের অনেকেই শিবির বদলে বিজেপিতে (Bengal BJP) চলে আসছে বলেও অভিযোগ পীযূষের। গলা চড়িয়ে বিজেপি বিধায়ক মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, “দমদম পার্কে অনেক ঘটনা আছে। লালকুঠি থেকে আমরা এত দিন যাদের ঢুকতে দিইনি, আবার তাদের রাজনৈতিকভাবে কেন ঢোকানো হচ্ছে, সেটা আপনাকে বলতে হবে।”
‘ভিখারি’ নামে একজনের প্রসঙ্গ টেনে পীযূষ আরও বলেন, “আমাদের অফিসে মেশিন (বন্দুক-বোমা) নিয়ে ভয় দেখিয়েছিল। তাকে কেন আপনার পাশে বসা লোকেরা ঢোকাচ্ছেন? কৈফিয়ত দিতে হবে।” এখানেই শেষ নয়, সিন্ডিকেটরাজের প্রসঙ্গও তোলেন বিধায়ক। আঙুল উঁচিয়ে বিধায়ক বলেন, “এখানে দক্ষিণ দমদম পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার বসে আছেন। একটা জায়গার ১৮টা লাইটের কন্ট্রাক্ট একটা লোক পেয়েছেন। কেন পেয়েছেন? কার মদতে পেয়েছেন? উত্তর দিন।’’ পীযূষ কানোরিয়া যখন মাইক হাতে গলা উঁচিয়ে এইসব বলছেন, তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় রীতিমতো মুখভার করে বসে রয়েছেন। বিধায়ক ও মন্ত্রীর এই দ্বন্দ্বে রীতিমতো শোরগোল ছড়িয়েছে এলাকায়। বিজেপি কর্মীদের মধ্যেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
তিন বছর পর দেশে আইপিএল নিলাম, কোন শহরে, জানিয়ে দিল বিসিসিআই
-
হাঁটুর বয়সি নায়িকার সঙ্গে মামাশ্বশুর গোবিন্দার প্রেম! ‘ঘরভাঙানিদের তোল্লাই দেবেন না’, খোঁচা কাশ্মীরার
-
চাই গম্ভীরের উত্তরসূরি! এবার ঋষভদের কোচিং করাবেন লক্ষ্মীরতন, জাতীয় দলে ডাক আসবে?
-
এক ভাইপোকে সরিয়ে আরেক ভাইপোকে গুরুদায়িত্ব, মায়াবতী বলছেন, ‘এটা তো পরিবারতন্ত্র নয়’
-
টেস্টকে বাড়তি গুরুত্ব, বিশ্বকাপের আগে ‘অর্ধেক ফিট’ ক্রিকেটার চান না গম্ভীর