অশোকনগর তৈলক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নয়, কাজে গতি আনাই লক্ষ্য। রবিবার অশোকনগরের ওএনজিসির তেল উত্তোলন প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে আধিকারিকদের সামনে এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর বক্তব্য, “আপনাদের কাজ বা পরিচালনাগত কোনও বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হবে না। বিজেপির কোনও কর্মী, কোনও সাংসদ বা কোনও বিধায়ক এই বিষয়ে নাক গলাবেন না। রাজ্যের খনিজ বা প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে রাজনীতি হওয়া উচিত নয়। এখানে কোনও রাজনৈতিক বিভাজনের জায়গা নেই।”
আরও পড়ুন:
কাজে গতি আনার বার্তার পাশাপাশি এতদিন প্রকল্প আটকে থাকার জন্য আগের রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগও তোলেন শমীক। তেল উত্তোলনের প্রয়োজনীয় পেট্রোলিয়াম মাইনিং লিজ (পিএমএল) প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আমাকে জানিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ইতিমধ্যে ১৯টি চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কোনও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।”
অশোকনগর প্রকল্পে শমীকের সক্রিয়তা অবশ্য নতুন নয়। অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের স্বাধীন পরিচালক থাকার সময়ই প্রকল্পের আধিকারিকরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রকল্পে অয়েল ইন্ডিয়ার ২৫ শতাংশ অংশীদারি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের বৈঠকে সরব হওয়ার পাশাপাশি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীকেও চিঠি দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে রাজ্যসভার সাংসদ থাকাকালীন প্রতিটি অধিবেশনেও অশোকনগরের প্রসঙ্গ তুলেছেন বলে জানান শমীক। তাঁর কথায়, “রাজ্যসভায় আমি যতদিন ছিলাম, প্রত্যেক সেশনেই অশোকনগরের প্রসঙ্গ তুলেছি। কখনও জিরো আওয়ারে, কখনও স্পেশাল মেনশনে, কখনও বিভিন্ন বিতর্কে বিষয়টি বলেছি।” এমনকী পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী তাঁকে বলতেন, “ইটস ইওর বেবি।”

এদিকে, অশোকনগরের বাইগাছির তেলক্ষেত্রে গত ২৮ আগস্ট থেকেই বাণিজ্যিকভাবে ক্রুড অয়েল উৎপাদন শুরু হয়েছে। ওই দিনই ১২০০ লিটার অপরিশোধিত তেলের প্রথম চালান ট্যাঙ্কারে করে হলদিয়ার পথে পাঠানো হয়। প্রকল্পে মোট পাঁচটি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। অন্য একটি কূপে প্রায় সালফারবিহীন উচ্চমানের তেল মিলছে বলে দাবি শমীকের। এই প্রকল্পে কেন্দ্রের বিনিয়োগ প্রায় ১১০০ কোটি টাকা। উৎপাদন বাড়লে অশোকনগরের পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনায় কর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে বলে জানান তিনি। রানাঘাটে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং বঙ্গোপসাগরের বেঙ্গল অফশোর এলাকায় তেল অনুসন্ধানের কথাও জানান শমীক। তাঁর কথায়, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এতদিন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে যে আপস হয়েছে, এই প্রকল্প চালু হলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ন’মাস ধরে যৌন নিগ্রহের শিকার! নাবালিকার সন্তান প্রসবের পর কু-কীর্তি ফাঁস, এন্টালিতে গ্রেপ্তার যুবক
-
দার্জিলিঙে রোপওয়ে করবে আদানিরা! শুভেন্দু সরকারের উদ্যোগে বঙ্গ পর্যটনে নতুন দিগন্ত
-
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একজোট বিরোধীরা, অপসারণের দাবিতে এবার সংসদের দু’কক্ষেই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব!
-
দুধের তৈরি না হলে বলা যাবে না ‘পনির’, ভেজালের রমরমা রুখতে কড়া নিয়মের পথে কেন্দ্র
-
পুজোয় বাঙালির পাতে পড়বে না পদ্মার ইলিশ! রুপোলি শস্য রপ্তানিতে মেলেনি ছাড়পত্র