Purulia

গুজরাট থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ বাংলার কুড়মি শ্রমিক! ১০ মাস ধরে পথ চেয়ে মা

পার হয়ে গিয়েছে ১০ মাস। কিন্তু ঘরে ফেরেননি গুজরাটের আমেদাবাদে ওষুধ কারখানায় কাজ করতে যাওয়া পুরুলিয়ার কুড়মি সন্তান অনুপ মাহাতোর। কর্মস্থলে খোঁজখবর, পুরুলিয়ার পাড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ।

সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ২০:০৫

options
link
গুজরাট থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ বাংলার কুড়মি শ্রমিক! ১০ মাস ধরে পথ চেয়ে মা
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ তৃণমূল প্রতিনিধি দলের। নিজস্ব চিত্র

পার হয়ে গিয়েছে ১০ মাস। কিন্তু ঘরে ফেরেননি গুজরাটের আমেদাবাদে ওষুধ কারখানায় কাজ করতে যাওয়া পুরুলিয়ার কুড়মি সন্তান অনুপ মাহাতোর। কর্মস্থলে খোঁজখবর, পুরুলিয়ার পাড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ। কিন্তু ঘরের একমাত্র রোজগেরে ছেলের খোঁজ মেলেনি। তাই অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছেন মা পানুবালা মাহাতো। সম্প্রতি বরাবাজারের তুমড়াশোলের বঁাধডির সুখেন মাহাতোর ঘটনার পরেই পুরুলিয়ার পাড়া থানার কেটলাপুর গ্রামের নিখোঁজ পরিযায়ী শ্রমিক অনুপ মাহাতোর বিষয়টি সামনে আসে।

Advertisement

এরপরই রবিবার পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল ওই নিখোঁজ পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেয়। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তবে তৃণমূলের প্রতিনিধিরা তাঁর বাড়ি যাওয়ায় দলের অভ্যন্তরে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দলে ছিলেন না পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সরেন। ছিলেন রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য তৃণমূলের দুই সম্পাদক হংসেশ্বর মাহাতো ও সৌমেন বেলথরিয়া, পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো, দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুষেনচন্দ্র মাঝি ও দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা প্রাক্তন পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি প্রমুখ। পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সরেন বলেন, ‘‘নিখোঁজ পরিযায়ীর বাড়িতে যাওয়ার বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি।’’ কেন দলের জেলা সভাপতি নেই, সেনিয়ে দলের রাজ্য ও জেলা নেতারা একটি কথাও বলতে চাননি।

Advertisement

পরিবার সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের ১ মে ওই যুবক আমেদাবাদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে রওনা দেওয়ার পরেই নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, ১ মে অনুপ ট্রেনে উঠেছিলেন। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেননি।

প্রশ্ন উঠেছে ১০ মাস ধরে একজন পরিযায়ী শ্রমিক নিখোঁজ অথচ তৃণমূলের কেউ কোনও খোঁজ নেয়নি কেন? এই ঘটনায় পাড়ার দলীয় কোঅর্ডিনেটর সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় পাড়া ব্লক নেতৃত্বের প্রতি অসন্তুষ্ট। কেন দলীয় নেতৃত্বকে আগে জানানো হয়নি সেই প্রশ্ন তুলে কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আমরা যখনই জানতে পেরেছি গুজরাতে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক ১০ মাস ধরে নিখোঁজ। তখনই আমরা এখানে আসি। পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। যতক্ষণ না ওই যুবকের খোঁজ পাওয়া যায় প্রশাসনিক স্তরে যাতে খোঁজ চলে সেই বিষয়টি আমরা সুনিশ্চিত করব। আমরাও নিজেদের মতো করে নিজেদের নেটওয়ার্কে খোঁজ নেব। সেই সঙ্গে ওই পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি।”

Advertisement

পরিবার সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের ১ মে ওই যুবক আমেদাবাদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে রওনা দেওয়ার পরেই নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, ১ মে অনুপ ট্রেনে উঠেছিলেন। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেননি। মা পানুবালা মাহাতো বলেন, “আমার কাছে তো ফোন নেই, তাই ছেলে তার কাকার কাছে গত বছর এপ্রিল মাসের শেষে বলেছিল কয়েকদিনের মধ্যেই বাড়ি আসবে। ছেলে যখন বাড়ি আসার কথা জানায় তখন চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ঘরে চলে আসে। কবে থেকে পথ চেয়ে বসে আছি কিন্তু ও আর আসছে না।”

পরিবারের অজানা আশঙ্কায় মন দুলছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় একবছর আগে থেকে আমেদাবাদের ওই ওষুধ কারখানায় কাজ করছিলেন অনুপ। তাঁর বাবা ২০১৬ সালে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান। ছোট ছেলে স্বরূপ ঘরেই থাকেন। কাজের খোঁজ করছেন।

পরিবারের অজানা আশঙ্কায় মন দুলছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় একবছর আগে থেকে আমেদাবাদের ওই ওষুধ কারখানায় কাজ করছিলেন অনুপ। তঁার বাবা ২০১৬ সালে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান। ছোট ছেলে স্বরূপ ঘরেই থাকেন। কাজের খোঁজ করছেন। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় সংসারে অর্থের অভাব রয়েছে। ২০২৫ সালের মকর সংক্রান্তিতে শেষবার বাড়ি এসেছিলেন অনুপ। তবে এই ঘটনায় জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চা নামে একটি সংগঠন এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেমন চিঠি দিয়েছেন, পাশাপাশি গুজরাট সরকারকেও বিষয়টি দেখতে আর্জি জানিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে ওই রাজ্যে সিআইডি তদন্ত চলছে। কিন্তু কোনও কিনারা হয়নি। ২০২৫-এর ২৯ মে এই নিখোঁজ পরিযায়ী শ্রমিকের বিষয়ে পাড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি হয়।

পরিবার সূত্রে খবর, এই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজ্য তৃণমূলের সম্পাদক হংসেশ্বর মাহাতো তৎকালীন এসপির কাছে গিয়েছিলেন। তারপর পাড়া থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ এসপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে ওই পরিবারকে ধমক দেন বলে অভিযোগ। তারপর ভয়ে তঁারা পুলিশের কাছে যেতে পারেননি। বিষয়টি সামনে আসায় হতভম্ব জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের প্রতিনিধি দল ঘুরে আসার পরেই ওই নিখোঁজ পরিযায়ীর বিষয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ১ মে থেকেই অনুপের ফোন বন্ধ। জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চা পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদেরও দ্বারস্থ হয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.