Anubrata Mondal

প্রতি মাসে গায়েব ৭০-৮০ কোটি! অনুব্রতর মন্তব্যের পরই তৃণমূল জমানায় রাজস্ব জমা নিয়ে প্রশ্ন

এই প্রেক্ষাপটে অনুব্রত মণ্ডলের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে সেই পুরনো অভিযোগগুলিকেই উসকে দিয়েছে। যদিও তিনি রাজস্ব আদায়ের পর সেই অর্থের সরকারি হিসাব বা সম্ভাব্য গরমিল নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।

সৌরভ চক্রবর্তী
সৌরভ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: জুলাই ১৯, ২০২৬, ২১:২১

options
link
প্রতি মাসে গায়েব ৭০-৮০ কোটি! অনুব্রতর মন্তব্যের পরই তৃণমূল জমানায় রাজস্ব জমা নিয়ে প্রশ্ন
ফাইল ছবি।

বীরভূম জেলা থেকে পাথর শিল্পের রাজস্ব আদায় নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। সদ্য ঋতব্রত তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনুব্রত মণ্ডল দাবি করেন, তাঁর দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে বীরভূম থেকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা এবং বর্ষাকালে গড়ে প্রায় তিন কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করা হত। সেই হিসেবে প্রতি মাসে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব রাজ্যের কোষাগারে জমা পড়ার কথা।

Advertisement

মাঝে টুলু মণ্ডল নামে জেলার এক পাথর ব্যবসায়ী ছিলেন, যিনি নকল ডিসিআর তৈরি করে সরকারি রাজস্বের সিংহভাগ লুট করতেন। সেই লুটের ভাগ পৌঁছাতো তৃণমূলের রাজ্যস্তরের সর্বোচ্চ নেতৃত্বদের কাছেও।

অন্যদিকে, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী তথা সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় একাধিকবার জানিয়েছেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বীরভূম জেলা থেকে মাসিক সর্বোচ্চ ২২ থেকে ২৩ কোটি টাকা রাজস্ব সরকারি খাতায় জমা পড়ত। তাঁর দাবি, যে বছরগুলিতে নির্বাচন হয়েছে, সেই সময় এই অঙ্ক আরও কমে যেত। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে। বর্ষা কাটলেই আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মাসিক রাজস্ব ১০০ কোটি টাকার গণ্ডি অতিক্রম করবে বলেও তিনি দাবি করেছেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

দুই রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের মধ্যে এই বিপুল ফারাক স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একদিকে অনুব্রত মণ্ডলের দাবি অনুযায়ী যদি প্রতি মাসে ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা হয়ে থাকে, অন্যদিকে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী যদি সরকারি খাতায় জমা পড়ত মাত্র ২২-২৩ কোটি টাকা, তাহলে বাকি অর্থ কোথায় গেল? তা নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।

Advertisement

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে বীরভূম জেলার সাধারণ মানুষ, সকলেই বারবার এই অভিযোগ তুলেছেন যে বীরভূম জেলা থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হত, তার সবটা তৃণমূল আমলে সরকারি খাতায় গিয়ে পৌঁছাতো না। মাঝে টুলু মণ্ডল নামে জেলার এক পাথর ব্যবসায়ী ছিলেন, যিনি নকল ডিসিআর তৈরি করে সরকারি রাজস্বের সিংহভাগ লুট করতেন। সেই লুটের ভাগ পৌঁছাতো তৃণমূলের রাজ্যস্তরের সর্বোচ্চ নেতৃত্বদের কাছেও। নিজের বক্তব্যে সেই তত্ত্বকেই কার্যত মান্যতা দিলেন তৎকালীন বীরভূমে তৃণমূলের অবিসংবাদী নেতা! এই প্রেক্ষাপটে অনুব্রত মণ্ডলের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে সেই পুরনো অভিযোগগুলিকেই উসকে দিয়েছে। যদিও তিনি রাজস্ব আদায়ের পর সেই অর্থের সরকারি হিসাব বা সম্ভাব্য গরমিল নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.