রানাঘাট সন্ন্যাসিনী ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত ৬ অভিযুক্ত

এটি ধর্ষণ, গণধর্ষণের ঘটনা নয়। জানালেন বিচারক।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯, ১৮:৪৮

options
link
রানাঘাট সন্ন্যাসিনী ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত ৬ অভিযুক্ত

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আড়াই বছরের অপেক্ষা শেষ। রানাঘাটে সন্ন্যাসিনী ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করল নগর দায়রা আদালত। মূল অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ওরফে নজুকে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত করল আদালতে। বাকি পাঁচ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বুধবার এদের সাজা ঘোষণা হবে।

Advertisement

[নদীপথে রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে রোহিঙ্গা জঙ্গিরা, জারি সতর্কবার্তা]

Advertisement

এদিন বিচারক কুমকুম সিংহ জানান এটা গণধর্ষণ নয়। ধর্ষণ এবং ডাকাতির ঘটনা। যে প্রতিষ্ঠানে গরিব ছেলেমেয়ারা পড়াশোনা সেখানে এমন ঘটনা অত্যন্ত ঘৃণ্য। এই বাংলা মাদার টেরেজেকে পেয়েছে। সেখানে এমন ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। হাইকোর্টের এই মামলায় নির্দেশ দিয়েছিল যত দ্রুত সম্ভব মামলা শেষ করার। এই নিয়ে সরকারি আইনজীবীদের ভূমিকার প্রশংসা করে আদালত। বিচারে কিছুটা বিলম্ব হয় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য। কারণ তাদের দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে সাক্ষ্য দিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিচারক ৩৭৬ ধারায় মূল অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ওরফে নজুকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। হাবরায় গোপাল সরকারের বাড়িতে বসে অপারেশনের ছক কষা হয়েছিল। গোপালকে ২১৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আইনজীবীরা মনে করেন এই সমস্ত ধারায় দোষীদের পাঁচ থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। এদিন আদালত বুঝিয়ে দেয় এটি বিশেষ ঘটনা।

Advertisement

[পণে বাকি ১ ভরি সোনা, বর্ধমানে খুন হতে হল বধূকে]

২০১৫-র ১৪ মার্চ কী ঘটেছিল রানাঘাটের গাংনাপুরেএকদল দুষ্কৃতী জড়ো হয়েছিল মিশনের বাইরে। নিরাপত্তারক্ষী মারধর করে বেঁধে রেখে শুরু হয় অপারেশন। প্রায় ১১ লক্ষ টাকা ও সোনার গহন তারা হাতিয়ে নেয়। এরপর দুষ্কৃতীরা ঢুকে পড়ে প্রধান সন্ন্যাসিনীর ঘরে। চলে কুকর্ম। গণধর্ষণের পর বাইরে থেকে গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। ঘটনার প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল রানাঘাট। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ও রেললাইন অবরোধ করে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছিল। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশের থেকে সিআইডির হাতে তদন্ত দিয়েছিল রাজ্য প্রশাসন। এই ঘটনায় প্রথম পুলিশ জালে তোলে হাবরার গোপাল সরকারকে। এই ছিল আশ্রয়দাতা। চখালেদ মিলন সরদার, ওহিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ওরফে মধুকে শিয়ালদহ থেকে গ্রেপ্তার, মহম্মদ সেলিম শেখ। ধৃতদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, অনুপ্রবেশ, ষড়যন্ত্র সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়। ধৃতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি। তবে এখনও একজন ফেরার। এই ঘটনায় কনভেন্ট অফ জেসাস অ্যান্ড মেরির সন্ন্যাসী, পড়ুয়া ও নিরাপত্তারক্ষী-সহ ৯৭ জনের সাক্ষ্যপ্রমাণ নেওয়া হয়। তারপরই এই রায় দিল আদালত।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.