Birbhum

পুজোর মুখে পাথরশিল্পে ‘লাল সংকেত’! বন্ধের মুখে ১৯৩ ক্রাশার ইউনিট

জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশে ৮ অক্টোবরের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে হবে। নথি দেখাতে ব্যর্থ হলে প্রশাসনিক পদক্ষেপ।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১৪:৪৩

options
link
পুজোর মুখে পাথরশিল্পে ‘লাল সংকেত’! বন্ধের মুখে ১৯৩ ক্রাশার ইউনিট
বীরভূমের পাথর খাদান।

কাগজ নেই, ছাড়পত্র নেই। পরিবেশ আদালতের কড়া নজরে বীরভূমের (Birbhum) পাথর সাম্রাজ্য। পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই বীরভূমের পাথরশিল্পে বেজে উঠেছে বিপদের ঘণ্টা। বৈধ নথি নেই, প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই—এমন ১৯৩টি ক্রাশার ইউনিট (যেখানে খনি থেকে উত্তোলিত পাথর ভাঙা হয়) অস্তিত্বই এখন প্রশ্নের মুখে। জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশে ৮ অক্টোবরের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে হবে। নথি দেখাতে ব্যর্থ হলে প্রশাসনিক পদক্ষেপ। অর্থাৎ পুজোর আগেই জেলার পাথরশিল্পে নামতে পারে বন্ধের খাঁড়া! যার জেরে পুজোর মুখে চাকরি হারানোর আশঙ্কা কয়েক হাজার মানুষের। 

Advertisement

দেড় দশক ধরে পাথর খাদান ও ক্রাশার ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ কমেনি। রাজনৈতিক চাপানউতোর, প্রশাসনিক নোটিশ, জরিমানা—সবই হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, তার পরেও রমরমিয়ে চলেছে একের পর এক ক্রাশার।পরিবেশবিধি কতটা মানা হয়েছে, সেই প্রশ্নই এবার সামনে এনে দিয়েছে জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচামি এলাকার ক্রাশারগুলির বৈধ কাগজপত্র এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে নথি জমা দেওয়ার সময়সীমাও দেওয়া হয়। প্রশাসন সূত্রের দাবি, ২২৯টি ক্রাশারের মধ্যে মাত্র ৩৬টি বৈধ নথি দেখাতে পেরেছে। বাকি ক্রাশারগুলির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে। এবার সেই প্রশ্নেরই চূড়ান্ত উত্তর চাওয়া হয়েছে।শুধু পাঁচামি নয়, রামপুরহাট, তালবাঁধ, শালবাদরা, নলহাটি, মুরারই-সহ জেলার একাধিক পাথরশিল্প এলাকায় নোটিশ পৌঁছেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। জেলা প্রশাসনের দাবি, প্রায় ৪০০টি ক্রাশার মালিককে বৈধ নথি ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এদিকে বেআইনি পাথর খাদান নিয়েও দীর্ঘদিনের অভিযোগ। পরিবেশ ধ্বংস করে পাথর তোলা এবং সেই পাথর ক্রাশারের মাধ্যমে বাজারে পাঠানোর অভিযোগ ঘিরে বারবার সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। পাথর ব্যবসার আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগের তদন্তে উঠে এসেছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের নাম। নিখোঁজ টুলু মণ্ডল-সহ তাঁর আত্মীয়দের নামও সেই তদন্তের পরিসরে উঠে এসেছে।ক্রাশার মালিক সমিতির সৈয়দ ফৈজল হকের কথায়, “পাঁচামি ও তালবাঁধ মিলিয়ে ২২৯টি ক্রাশারকে আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে প্রত্যেককে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানাও দিতে হয়েছে। এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বৈধ নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ এসেছে।”

Advertisement

পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তের অভিযোগ, বীরভূমে বৈধতার তুলনায় অবৈধ ক্রাশারের সংখ্যা বেশি। পরিবেশের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিনের পর দিন এই কারবার চললে তার মূল্য দিতে হবে আগামী প্রজন্মকে। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।” এখন তাই একটাই প্রশ্ন—দেড় দশকের অভিযোগের পর এবার কি সত্যিই নামবে প্রশাসনের হাতুড়ি? পুজোর আগে ১৯৩ ক্রাশারের ভাগ্যে কি ঝুলছে বন্ধের তালা? নাকি ফের কাগজপত্রের দৌড়েই মিটে যাবে সব? ৮ অক্টোবরই দেবে সেই উত্তর।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.