SIR in West Bengal

‘১৫ জানুয়ারি হাজিরা দিন’, SIR শুনানির আড়াই মাস পর নোটিস পেলেন ১১০০ ভোটার! তুমুল বিক্ষোভ

নোটিসে লেখা রয়েছে, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ সালে তাঁদের দুপুর ৩ টে থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে সাঁকরাইলের বিডিও অফিসে শুনানিতে হাজির হতে হবে। আজকের তারিখ মার্চ মাসের ৮ তারিখ। অর্থাৎ, ১১০০ ভোটারকে শুনানির দিনের প্রায় আড়াই মাস পর শুনানিতে যাওয়ার জন্য নোটিস দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

Advertisement
অরিজিৎ গুপ্ত
অরিজিৎ গুপ্ত

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১৯:৫২

options
link
‘১৫ জানুয়ারি হাজিরা দিন’, SIR শুনানির আড়াই মাস পর নোটিস পেলেন ১১০০ ভোটার! তুমুল বিক্ষোভ
ফাইল ছবি

নাম নেই ভোটার তালিকায়। নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে ঘুরছেন ৬টি বুথে প্রায় ১১০০ জন ভোটার। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই মুসলিম। কয়েকমাস ধরে কোনও উত্তর পাচ্ছিলেন না। এই আবহে বুধবার আচমকাই ৬টি বুথের বিএলও ওই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে এলেন শুনানির নোটিস। সেই নোটিস পড়ে ভোটাররা তাজ্জব বনে গিয়েছেন তাঁরা। নোটিসে লেখা রয়েছে, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ সালে তাঁদের দুপুর ৩ টে থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে সাঁকরাইলের বিডিও অফিসে শুনানিতে হাজির হতে হবে। আজকের তারিখ মার্চ মাসের ৮ তারিখ। অর্থাৎ, ১১০০ ভোটারকে শুনানির দিনের প্রায় আড়াই মাস পর শুনানিতে যাওয়ার জন্য নোটিস দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

Advertisement

অবাক করা ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার সাঁকরাইল ব্লকের মানিকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। সাঁকরাইল ব্লকের মানিকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৩৫, ২৩৬, ২৩৭, ২৩৮, ২৩৯ ও ২৪০ নম্বর বুথে প্রায় ১১০০ ভোটারের নাম ভোটারের তালিকায় নেই। এদিকে শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এসেছে নোটিস। নোটিসটি দেখেই ভোটার তালিকায় নাম না থাকা মানিকপুর পঞ্চায়েতের প্রায় ১১০০ ভোটারের মাথায় হাত। সাঁকরাইল থানার অন্তর্গত মানিকপুর ফাঁড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে জাফুরুল্লা মণ্ডল বললেন, ‘‘যাঁরা আমাদের ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলছেন নির্বাচন কমিশনের সেই আধিকারিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। এভাবে চক্রান্ত করে ভোটার তালিকা থেকে আমাদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। এটা আমরা মেনে নেব না।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
SIR in West Bengal: 1100 voters got SIR hearing notice after process is over
বিতর্কিত সেই নোটিস। নিজস্ব চিত্র

বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সাঁকরাইলের বিডিও কামারুল মনির। তিনি অবশ্য এই প্রসঙ্গে কিছু বক্তব্য রাখতে চাননি। নির্বাচন কমিশনের কাজের দায়িত্বে থাকা সাঁকরাইলের বিডিও-র বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কাগজের ভুলকে ধামাচাপা দিতে এদিন বিডিও ১৫ জানুয়ারির তারিখ কেটে নোটিসের তলায় ০৮.০৪.২০২৬ তারিখ লিখে দেন। বিক্ষোভকারীরা এ দিন দাবি করেন, এই পরিস্থিতিতে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় তুলে দিতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, আড়াই মাস আগে শুনানির দিন ছিল। সেই নোটিস এখন পাচ্ছেন। শুনানির কথা তাঁরা জানতেই পারেনি। সাহানা শেখ নামে মানিকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৩৫ নম্বর বুথের এক ভোটার বলেন, “সময়মতো শুনানির কাগজ পেলে আমরা অংশ নিতে পারতাম। আমাদের কাছে তো সবরকম কাগজপত্র রয়েছে। সময়মতো কাগজ না পাওয়ায় আমাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেল।”

Advertisement

এই প্রসঙ্গে সাঁকরাইলের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি অমৃত বোস জানালেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালিপনা নাকি, ইচ্ছাকৃতভাবে কমিশন এতগুলো সংখ্যালঘু মুসলিম ভাই বোনেদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিল তা আমরা কমিশনের কাছে জানতে চাইছি। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা। আর ওই ১১০০ ভোটার যাঁরা এখন বিপদে পড়েছেন তাঁদের পাশে রয়েছে তৃণমূল।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন