সাবিরজামান, লালবাগ: লালবাগের একটি হোটেলে তৃণমূল নেতার রহস্যজনকভাবে মৃত্যু ঘিরে ধুন্ধুমার। মৃতের নাম কাইউম শেখ (৩৭)। ঘটনার প্রতিবাদে মৃতের পরিজনরা হোটেলে ভাঙচুর চালিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিশাল পুলিশবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই আগুন দেখে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ।
[সালিশিতে না যাওয়ায় প্রৌঢ়কে পিটিয়ে ‘খুন’, চাঞ্চল্য কাটোয়ায়]
বহরমপুর বাজারপাড়ার বাসিন্দা কাইউম শেখ। তিনি রাধার ঘাট (১) গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। গত শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন কাইউম। এই নিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা বহরমপুর থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। পুলিশ এই ঘটনায় বাজারপাড়ার বাসিন্দা রাজু শেখ ও আদরি খাতুন নামে এক যুবতীকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার লালবাগ শহরের রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন একটি হোটেলের তালাবন্ধ ঘর থেকে ওই পঞ্চায়েত সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনা জানাজানি হতে মৃতের বাড়ির লোকজন হোটেলে ঢুকে নির্বিচারে ভাঙচুর চালায়। পরে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয় ওই হোটেলে। পুলিশের সামনেই তাণ্ডব চলে বলে অভিযোগ। হোটেলে আগুন জ্বলতে দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরে দমকল আগুন আয়ত্তে আনে।
[রানাঘাট সন্ন্যাসিনী ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত ৬ অভিযুক্ত]
পুলিশের জানতে পারে আদরি নামের ওই যুবতীর বাড়ি বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায়। বেশ কিছুদিন আগে রাজু ওই যুবতীর মাকে বিয়ে করে। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে আদরিকে বহরমপুরের বাজারপাড়ায় আনা হয়। শনিবার এই আদরিকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহাসিক লালবাগ শহরে বেড়াতে যান কাইউম ও রাজু। পর্যটন কেন্দ্র ঘোরাঘুরির পর সম্ভবত তারা একটি হোটেলে ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে হোটেলে কিছুক্ষণ থাকার পর ঘরে তালা দিয়ে আদরি এবং রাজু বেরিয়ে পড়ে। তালাবন্ধ ঘর হোটেলকর্মীরা আর খুলে দেখেননি। প্রসঙ্গত, হোটেল মালিক আশিস তিওয়ারিও একটি খুনের মামলায় বর্তমানে জেলে। আটক রাজু ও আদরিকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলের ঘরের তালা ভাঙতেই পুলিশ দেখে কাইউমের মৃতদেহ বিছানায় পড়ে আছে। পুলিশ একটি গাড়ি উদ্ধার করেছে। এই খুনের সঙ্গে আর কারও যোগ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খোঁজ চলছে আদরির মায়েরও। বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের দাবি আদরির মায়ের নামে বাংলাদেশে একটি খুনের মামলা চলছে। মৃতের আত্মীয় আকবর শেখের দাবি, “দাদার কাছে তিন লক্ষ টাকা ছিল তা হাতিয়ে নিতেই রাজু ও আদরি খুন করেছে।” অন্যদিকে মহকুমা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি রাজিব হোসেন বলেন “ কাইউম রাধারঘাট এলাকার আমাদের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। এই ঘটনায় সিপিএম এবং কংগ্রেসের চক্রান্ত রয়েছে।”এব্যাপারে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলেন “ প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে মহিলা ঘটিত কারনে ওই ব্যক্তি খুন হয়ে থাকতে পারে।
ছবি: তনভির রহমান
সর্বশেষ খবর
-
সাংবিধানিক সংকট! বন্দে মাতরমে সরাসরি কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত, দুই স্তবকই গাইবে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার
-
সিআইএ-র সতর্কবার্তা শোনেননি, নেতানিয়াহুর টোপ গিলেই ইরানে জোর ফেঁসেছেন ট্রাম্প!
-
বিশ্বজুড়ে বন্ধ মার্কিন ভিসা ইন্টারভিউ, ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতির জের?
-
আড়াই বছরের ‘রাজত্ব’ খোয়ালেন বুমরাহ, শ্রীলঙ্কায় আগ্রাসী ইনিংসের পুরস্কার পেলেন পন্থ
-
লক্ষ লক্ষ টাকার সোনার গয়না ট্রেনে ফেলেই নেমে গেলেন যাত্রী, তারপর?