‘স্বামীর অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে চাই’, প্রতিজ্ঞা নিহত বিধায়কের স্ত্রীর

লোকসভায় প্রার্থী হয়েই মমতাকে ধন্যবাদ জানালেন রূপালি বিশ্বাস৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৯, ২১:১২

options
link
‘স্বামীর অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে চাই’, প্রতিজ্ঞা নিহত বিধায়কের স্ত্রীর

পলাশ পাত্র, তেহট্ট: সরস্বতি পুজোর অনুষ্ঠানে গিয়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন তাঁর স্বামী তথা কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস৷ মানুষের আপদে-বিপদে ছুঁটে যাওয়া জলজ্যান্ত ছেলেটার অকাল পরিণতি মন থেকে মেনে নিতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অকালে স্বামী হারিয়ে একটা দেড় বছরের শিশুকে নিয়ে কী করবে সত্যজিতের স্ত্রী? এই চিন্তাই কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল তাঁকে৷ সেই ভাবনা থেকেই এবারের লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় আসল চমকটা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্র থেকে তিনি প্রার্থী করলেন নিহত বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী রূপালি বিশ্বাসকে৷ ‘দিদি’র এই সিদ্ধান্তে স্বভাবতই খুশী রূপালি বিশ্বাস৷ জানালেন, ‘স্বামীর বাকি কাজ আমি সম্পূর্ণ করতে চাই৷ দিদি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা মেনেই সামনের পথে এগোতে চাই৷’’

Advertisement

[লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট পেলেন না যাঁরা, দেখুন একনজরে ]

Advertisement

তেহট্ট মহকুমার হরিপুরে বাপের বাড়ি রূপালির৷ আড়াই বছর আগে রানাঘাটের হাঁসখালি থানার ফুলবাড়ি এলাকার সত্যজিৎ বিশ্বাসের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর৷ এখনও পর্যন্ত কোনও নির্বাচনে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা নেই তাঁর৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে গুরু দায়িত্ব তাঁর কাঁধে তুলে দিয়েছেন, তা পালন করতে রূপালি সর্বতোভাবে প্রস্তুত বলেই মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব৷ এমনকী, স্বামীর অসম্পূর্ণ কাজকে শেষ করতে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী বলে দাবি করছেন রূপালিও৷ তাঁকে নিয়ে সমান আশাবাদী পরিবার ও এলাকাবাসীও৷ তাঁদের বক্তব্য, দেড় বছরের ছেলে সৌমজিৎকে মানুষ করার পাশাপাশি, আরও একটা বড় দায়িত্ব পেলেন রূপালি৷

Advertisement

[লোকসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হচ্ছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়-মালা রায়, ঘোষণা মমতার]

উল্লেখ্য, সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠানে গিয়ে খুন হন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস। খুব কাছ থেকে তাঁর মাথায় গুলি করে আততায়ীরা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরেই উদ্ধার হয় খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র। এই খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি৷ ঘটনায় সরাসরি বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে তৃণমূল। জানানো হয় এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে বিজেপি। বিধায়ক খুনের দায়িত্বভার সিআইডির হাতে তুলে দেয় রাজ্য সরকার। এরপরই তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্ত অভিজিৎ পুণ্ডারি, নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মণ্ডল ও কার্তিক মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। জানা যায়, ধৃতরা প্রত্যেকেই বিজেপির সক্রিয় কর্মী।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.