সৈকত মাইতি, তমলুক: অবশেষে আদালতের হস্তক্ষেপে একরকম প্রায় নজিরবিহীনভাবেই বিতর্কিত খেজুরি ২ পঞ্চায়েতের স্থায়ী সমিতি গঠন। বুধবার কঠোর নিরাপত্তায় ১৪৪ ধরা জারি করে স্থায়ী সমিতির নির্বাচনে অবশেষে ১৩-১১ আসনে জয়ী হয় বিজেপি। আর সেখানেই বিজেপির পক্ষে ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারীর বিরুদ্ধে।
ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরেও খেজুরি ২ পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন ঘিরে রাজনৈতিক পারদ ক্রমশই চড়তে শুরু করেছিল। এমন অবস্থায় গত ৫ সেপ্টেম্বর ছিল এই পঞ্চায়েতের স্থায়ী সমিতির নির্বাচন। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বোমাবাজির ঘটনায় পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। তীব্র এই বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতির মধ্যেই রীতিমতো হেনস্তার শিকার হয়ে খোদ বিডিও অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। তাই এই স্থায়ী সমিতির গঠন স্থগিত হয়ে যায়। শান্তিপূর্ণভাবে এই পঞ্চায়েতের স্থায়ী সমিতি গঠনের দাবি জানিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় বিজেপি।
[আরও পড়ুন: দক্ষিণ দমদমই আঁতুড়ঘর? ডেঙ্গুতে প্রাণহানি মতিঝিল গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রীর]
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, খেজুরি ২ পঞ্চায়েত সমিতির মোট আসন সংখ্যা ১৫। এক্ষেত্রে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের নিরিখে বিজেপি ৯টি এবং তৃণমূল ৬টি আসন পেলেও পরবর্তী ক্ষেত্রে বিজেপির দুই সদস্য তৃণমূলে যোগদান করেন। তার ফলে বিজেপির পক্ষে ৭ এবং তৃণমূলের পক্ষে ৮ সদস্য হয়। এক্ষেত্রে বিজেপি থেকে আসা দুই সদস্যের মধ্যে একজনকে এই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদে বসায় তৃণমূল। স্বাভাবিক কারণেই এরপর থেকেই এই পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতি গঠনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় তীব্র চাপানউতোর। হাই কোর্টের নির্দেশে এদিন তমলুকের নিমতৌড়িতে জেলাশাসকের দপ্তরে আয়োজন করা হয় খেজুরি ২ পঞ্চায়েত সমিতির অসম্পূর্ণ স্থায়ী সমিতি গঠনের প্রক্রিয়া।
সেখানেই দেখা যায় তৃণমূলের পক্ষে ৮ জন সদস্য ছাড়াও ছিল ২জন পঞ্চায়েত প্রধান এবং ১জন জেলা পরিষদের সদস্য। উলটোদিকে বিজেপির পক্ষে আগেই দুইজন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তৃণমূলের যোগদান করায় মোটের উপর ৭জন সদস্য ছিলেন। সেই সঙ্গে ৩জন প্রধান এবং একজন জেলা পরিষদের সদস্য এবং খেজুরির বিজেপি বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিকও। খাতায় কলমে এখনও তৃণমূল সাংসদ হলেও শিশির অধিকারী ঠিক কোন দিকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে সংশয় ছিল। অবশেষে স্থায়ী সমিতি গঠনের ক্ষেত্রে দেখা যায় ১৩-১১ ভোটে স্থায়ী সমিতি গঠন করে বিজেপি। তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়। যদিও জেলাশাসকের দপ্তরে ভোট দিতে এসে শিশির অধিকারী বলেন, “হাই কোর্টের নির্দেশে ভোট হচ্ছে। আমি উন্নয়নের পক্ষেই ভোট দিয়েছি।”
[আরও পড়ুন: ‘আপনাদের কাজ কি মানুষকে বোকা বানানো?’, সিবিআইকে ভর্ৎসনা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের]
সর্বশেষ খবর
-
আপত্তি শুধু ‘সেক্যুলার’ কংগ্রেসের! নিয়ম মেনে বন্দে মাতরম পুরোটা দাঁড়িয়ে সম্মান আবদুল্লাদের
-
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থীই দিতে পারবে না তৃণমূল? সর্বদলীয় বৈঠকে গড়হাজিরায় উঠছে প্রশ্ন
-
সম্ভব হল না অবতরণ! মাঝআকাশে চক্কর রাহুল গান্ধীর বিমানের
-
বিনা অনুমতিতে জবরদখল! ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে অভিষেককে তুলতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ বাড়ির মালিক
-
কম ফ্যাটের দই মানেই ভেজাল নয়, ২৬ বছর পর হাই কোর্টে বেকসুর খালাস কৃষ্ণনগরের মিষ্টি ব্যবসায়ী