Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Nandigram

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থীই দিতে পারবে না তৃণমূল? সর্বদলীয় বৈঠকে গড়হাজিরায় উঠছে প্রশ্ন

মঙ্গলবার সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে সব দলের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

রঞ্জন মহাপাত্র
রঞ্জন মহাপাত্র

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ২৩:০১

link
রঞ্জন মহাপাত্র
রঞ্জন মহাপাত্র

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ২৩:০১

options
link
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থীই দিতে পারবে না তৃণমূল? সর্বদলীয় বৈঠকে গড়হাজিরায় উঠছে প্রশ্ন zoom
ফাইল ছবি।
Advertisement

উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছে। তার পরেই নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচনের জন্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ভোট প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ভোটপ্রক্রিয়া যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে সব দলের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আদৌ নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে প্রার্থী দেবে তো তৃণমূল? না কী তৃণমূলের অস্তিত্ব সংকট নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন থেকেই প্রকাশ্যে আসবে? সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।

উপনির্বাচন ঘোষণা হতেই একদিকে যেমন রাজনৈতিক ময়দানে তৃণমূলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, ঠিক সেইসময় ঘর গোছাতে ব্যস্ত বিজেপি নেতৃত্ব। এদিন রেয়াপাড়ার বিধায়ক কার্যালয়ে দলীয় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো,কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী, তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মলয় সিনহা, রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল-সহ নন্দীগ্রামের স্থানীয় নেতৃত্বরা।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

উপনির্বাচনের আগে প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধির গরহাজিরকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আসন্ন উপনির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কি আদৌ প্রার্থী দিতে পারবে গত ১৫ বছর বাংলায় শাসন করা তৃণমূল কংগ্রেস? নাকি এখানে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূলের ফের ‘হাস্যকর’ লড়াই দেখতে পাবে সাধারণ মানুষ।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে এই নন্দীগ্রাম আসনটিতে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও তিনি জয়ী হওয়ায় পরবর্তীতে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। এর ফলে ফাঁকা হওয়া এই আসনে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার নিমতৌড়ির বৈঠকে উপস্থিত সব দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচনের বিস্তারিত নিয়মাবলি ও নির্দেশিকা ঘোষণা করেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। তবে সর্বদলীয় বৈঠকের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে কেন অনুপস্থিত থাকল দল, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি তমলুক বা নন্দীগ্রাম সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অনুপস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে দলের অন্দরের সাংগঠনিক ভাঙন ও আইনি জটিলতা। রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই প্রাক্তন শাসকদল ভাঙনে জর্জরিত।

পরবর্তীতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধায়কদের একটি বড় অংশ মূল সংগঠন থেকে সরে দাঁড়ায়। বর্তমানে দলটি আড়াআড়িভাবে দু’টি শিবিরে বিভক্ত ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং ‘ঋতব্রত শিবির’। আসল তৃণমূল হিসেবে দলের নাম ও দলীয় প্রতীক কোন গোষ্ঠীর দখলে থাকবে, তা নিয়ে টানাপড়েন এখনও জারি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের চিহ্নে ঠিক কোন পক্ষ প্রার্থী দেবে, তা নিয়ে দলের অন্দরেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, এই নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণেই জেলাশাসকের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকের হাজির না হয়ে রাজনৈতিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করল জোড়া ফুলের দুই শিবির।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.