অর্ণব দাস, বারাকপুর: সিবিআইয়ের নাম করে পাকিস্তানের নম্বর থেকে ভাটপাড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে ফোন! তাঁদের মেয়েকে সিবিআই হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ৪০লক্ষ টাকা দাবি। মঙ্গলবার এই ঘটনা জানাজানি হতেই হুলুস্থুল কাণ্ড। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পর কলেজে গিয়ে মেয়েকে দেখতে পেয়ে স্বস্তি ফেরে পরিবারে। গোটা ঘটনা জানিয়ে ভাটপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা নিশ্চিত, এই ফোন একেবারে ভুয়ো।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাটপাড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দেবজ্যোতি ঘোষ। তাঁর স্ত্রী ঐন্দ্রিলাদেবীর কাছে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ ‘+৯২’ কোড দেওয়া নম্বর থেকে প্রথম ফোনটি আসে। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে হিন্দি কণ্ঠস্বরে সিবিআই পরিচয় দিয়ে জানানো হয়, মেয়েকে হেফাজতে নেওয়া হবে। বাঁচাতে চাইলে ৪০লক্ষ টাকা দিয়ে সেটেলমেন্ট করতে হবে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। খোঁজ পেতে মেয়েকে ফোন করেন তারা। কিন্তু না পেয়ে পরিবারের দুঃশ্চিন্তা আরও বাড়ে। ততক্ষণে বেশ কয়েকবার ওই অচেনা নম্বর থেকে পর পর ফোন চলে এসেছে। বারবার ৪০লক্ষ টাকার দাবি জানানো হয়।
[আরও পড়ুন: গোয়া নির্বাচনে ছিলেন আপের আর্থিক দায়িত্বে, লোকসভা ভোটের আগে ইডির হাতে গ্রেপ্তার সেই চনপ্রীত]
এদিকে দেবজ্যোতিবাবু ততক্ষণে মেয়ের সল্টলেকের কলেজে গিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। অবশেষে সেখানে মেয়েকে দেখতে পেয়ে স্বস্তি ফেরে পরিবারে। তখন জানা যায়, কলেজে পরীক্ষা থাকার কারণে মেয়ে বাড়ির ফোন তুলতে পারেনি। খবর পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান মন্ত্রী তথা বারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী পার্থ ভৌমিক, বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম-সহ অন্যান্যরা। তারা দলীয় নেতার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন। দেবজ্যোতিবাবু বলেন, “ফোন আসার পর থেকে মেয়েকে দেখতে পাওয়া, এই দুই ঘণ্টা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে কেটেছে। পরিবারের অন্যান্যদের এখনও আতঙ্ক রয়েছে। পনেরো-কুড়িবারের বেশি ফোন এসেছিল। মেয়ের খোঁজ পাওয়ার পরেও ওই নম্বর থেকে ফোন এসেছে। পুলিশ বারণ করায় পরে আর ফোন তোলা হয়নি। এই ঘটনার পিছনে যদি রাজনৈতিক অভিসন্ধি থাকে, তাহলে খুবই নিম্নমানের ঘটনা।”
এবিষয়ে সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী পার্থ ভৌমিক। তিনি বলেন, “আমাদের দলের নেতারা কাছে বাইরে থেকে সিবিআইয়ের নামে হুমকির ফোন আসছে। আমি বলব অর্জুন সিংয়ের হয়ে যারা এগুলি করছেন, তারা মনে রাখবেন ২০২৬ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ প্রশাসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। কে এগুলি করছে সেটা কিন্তু বেরবেই।” যদিও অর্জুন সিং বলেন, “পার্থ ভৌমক যা খুশি বলতেই পারেন। থানায় অভিযোগ করুক। যে করেছে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করবে।”
[আরও পড়ুন: বিরোধীদের ভূরি ভূরি অভিযোগের মাঝেই ইডিকে দরাজ সার্টিফিকেট মোদির]
সর্বশেষ খবর
-
এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগ, পুলিশের দ্বারস্থ বধূ
-
‘খুব বাঁচা বেঁচেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ’, রচনার সুরবদলের পরই কেন একথা বললেন মনোরঞ্জন?
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও চুনকাম! ১০৫০ দিন পর সিরিজ হার ভারতের, কেন খেলানো হল না বৈভবকে?
-
‘তোলাবাজি’র অর্থে মেয়ে-স্বামীর নামে সম্পত্তি, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন! তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ
-
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ থেকে বিদায়, বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গ ভারতের মেয়েদের