ফুচকা গ্রাম

ঝাঁকাভরতি ফুচকা পড়ে দালানেই, লকডাউনে সংসার অচল ‘ফুচকা গ্রামের’ বাসিন্দাদের

দক্ষিণ ২৪ পরগনার চকশুকদেব গ্রামের সবকটি পরিবারই ফুচকা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৪, ২০২০, ১৯:১৩

options
link
ঝাঁকাভরতি ফুচকা পড়ে দালানেই, লকডাউনে সংসার অচল ‘ফুচকা গ্রামের’ বাসিন্দাদের

সুরজিৎ দেব, ডায়মন্ড হারবার: মুচমুচে ফোলা ফোলা ফুচকা। তিনভাগই যার তেঁতুলজল আর মশলাদার আলুর পুরে ভরা। জিভে জল তো আসবেই। স্কুল-কলেজের গেটের বাইরে, মেলা-পার্বণে, কিংবা শপিংমলের সামনের সেই ফুটপাথে। গোল হয়ে দাঁড়িয়ে একটার পর একটা গলাধ:করণ। কেউ দশটা, তো কেউ বিশটা। পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগিতা। আর শেষের ফাউটা? ওতে তো সকলেরই সমান অধিকার। মনে পড়ে সেসব কথা? আলুমাখা মশলায় ঝাল একটু বেশি কি তেঁতুলজলে টকটা সামান্য কম হলেই মুশকিল। কতই না অভিযোগ, অনুযোগ…

Advertisement

বেশিদিন আগেকার কথা নয় এসব। তবু এ সবই স্মৃতি। লকডাউন, তাই বন্ধ ফুচকার বিক্রিবাটা। বন্ধ ফুচকাওয়ালাদের রোজগারও। কিন্তু এই দু:সময়ে কেমন আছে ওই ফুচকাওয়ালার দল? কেমন চলছে ওঁদের সংসার? দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিষ্ণুপুর ২ নম্বর ব্লকের বাখরাহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের চকশুকদেব গ্রাম। এলাকায় প্রসিদ্ধি ‘ফুচকা গ্রাম’ হিসেবেই। ফুচকা তৈরি থেকে বিক্রি – গোটা পদ্ধতির সঙ্গেই জড়িত গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার। ফুচকা শিল্পের উপরই নির্ভর ছিল ওঁদের জীবন-জীবিকা। বাড়ির ছেলে, বুড়ো, মহিলা সকলেই জড়িত ছিলেন এই ব্যবসার সঙ্গেই।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই, রেড জোনেও মাস্ক ছাড়াই মদের দোকানে উপচে পড়া ভিড়]

বাড়ির মহিলারা আটা মেখে, বেলে, ভাজার কাজটি সারতেন। আর ফুচকা ভরতি ঝাঁকা মাথায় নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন পরিবারের ছেলে-বুড়োর দল। সারাটা দিন এ গলি, ও গলি, তস্য গলি ঘুরে বেচে বেড়াতেন ফুচকা। ঝাঁকার ফুচকা শূন্য হয়ে গেলে দিনশেষে লাভের সামান্য অঙ্কটুকুর হিসেব কষা। আর সেই হিসেব কষতে কষতেই রাতে বাড়ি ফেরা। প্রতিদিনের ওই সামান্য রোজগারেই টেনেটুনে চলত সংসার। অনটনেও তবু সুখ ছিল ‘ফুচকা গ্রামের’ বাসিন্দাদের জীবনে। সংসারে ছিল শান্তি।

Advertisement

Fuchka owner

আজ সব তলানিতে। নিত্যদিনের অভাবে দুর্বিষহ জীবন। কপর্দকশূন্য ফুচকাওয়ালার দল আজ যেন বড় অসহায়। রাস্তার মোড়ে, পাড়ায় পাড়ায়, মেলা, পার্বণে ফুচকা বিক্রি করেই সংসার চলত প্রবীণ মহিম দাসের। বিয়ের মরশুমে কত অর্ডার পেতেন। চলছিল ভালই। বিনা মেঘে আমচকাই বজ্রপাত। এখন আর লাভের হিসেব কষতে হয় না তাঁকে। বরং কুরে কুরে খায় বাড়তে থাকা দেনার অঙ্কটা। দু:স্বপ্ন তাড়িয়ে বেড়ায় সারাটা দিন। কর্মব্যস্ত দিনগুলোর কথা মনে পড়ে স্ত্রী শোভাদেবীর। সকাল হলেই আটা মাখতে বসা, লেচি করে বেলে একটার পর একটা ফুচকা ভেজে যাওয়া। হাঁড়ির
তেঁতুলজলের স্বাদটাও একবার চেখে দেখে নিতে হত তাঁকেই। পনেরোটা বছর ধরে এভাবেই কাটত দিনগুলো। এখন অখণ্ড অবসরে শুধুই চোখের জল ফেলা।

[আরও পড়ুন: লকডাউনে বন্ধ উপার্জন, গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা চায়ের দোকান মালিকের]

লকডাউন ঘোষণা হয়েছে, জানতেনই না ওই প্রবীণা। সকালে উঠেই প্রতিদিনের মত ভেজেছিলেন প্রচুর ফুচকা। যা আজও বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে। মাধাই দাসের সংসারে ছ—ছ’টা পেট। তবু ফুচকা বেচার সামান্য আয়ে চলে যাচ্ছিল। আজ চরম অনটনে নিত্য অশান্তি তাঁর পরিবারে। একই গ্রামের বাসিন্দা সুদর্শন শী, রবীন দাসদের একই রকম দুর্দশা। ফুচকা বিক্রি ছিল তাঁদেরও পেশা। এখন পুরোপুরি বেকার। ভরসা বলতে রেশনের চাল আর আটা। কিন্তু শুধু চাল আর আটায় কি হবে। আলু, তেল, নুন কেনারও সামর্থ নেই যে! সংসারে অতগুলো মানুষ পেট। সকলেই যে মুখ চেয়ে বসে আছে তাঁদের। একবেলা আধপেটা খেয়ে বাকিটুকু রাতের জন্য বাঁচিয়ে রাখার এক নতুন নিয়ম দিনকয়েক হল চালু হয়েছে ওঁদের সংসারে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? স্বপ্ন এখনও দেখেন ‘ফুচকা গ্রামের’ ফুচকাওয়ালার দল। একদিন আবার খুলবে স্কুল-কলেজ, দোকান-বাজার। ডাক পাবেন বিয়ে—বৌভাতের অনুষ্ঠানে। ফের ফুচকা ভরতি ঝাঁকা নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন ওঁরা। ঠিক যেমন চলছিল আগে, তেমনই চলবে সবকিছু।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.