নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। আজও বাঙালি মননে এই আগ্নেয় পুরুষের স্থান যেন সবার উপরে। বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ যুগপুরুষের সঙ্গে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর (Durga Puja) সংশ্লেষে নির্মিত এক অনন্য ইতিহাস রয়েছে, যা আজ হয়ে গিয়েছে মিথ। যা মিশে রয়েছে বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনার গভীরে।
আরও পড়ুন:
সেটা ১৯২৫ সাল। সুভাষ (Netaji Subhas Chandra Bose) তখন মায়ানমারের (সেই সময়ে বলা হত বর্মা) মান্দালয় কারাগারে রাজবন্দি। গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আগের বছরই। তবে তাঁকে ওই জেলে পাঠানো হয় ১৯২৫-এর শুরুতে। সেবছরই কারাগারের মধ্যে তিনি শুরু করেন দুর্গাপুজো। সেটা অক্টোবর মাস। অন্য রাজবন্দিদের সঙ্গে মিলে নেতাজি পরিকল্পনা করলেন দুর্গাপুজোর। তখন তাঁর বয়স ২৮ বছর। পরিপূর্ণ তরুণ সুভাষের পরিপক্ক হয়ে ওঠার সময় সেটা। ব্রিটিশ সরকার জানাল তারা পুজোর খরচ দেবে না! কিন্তু সুভাষ ও বাকিরা অনশন শুরু করলেন। শেষপর্যন্ত অবশ্য সাহেবরা হার মানতে রাজি হয়েছিল। সারা জীবন যেভাবে ইংরেজদের পদানত করে রেখেছিলেন সুভাষ, এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
সেটা ১৯২৫ সাল। সুভাষ তখন মায়ানমারের (সেই সময়ে বলা হত বর্মা) মান্দালয় কারাগারে রাজবন্দি। গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আগের বছরই। সেবছরই কারাগারের মধ্যে তিনি শুরু করেন দুর্গাপুজো।
এই পুজোর উল্লেখ আমরা পাই রাখাল বেণুর লেখা ‘স্মৃতি-বিস্মৃতি’ নামের এক রচনায়। সেকালের বিখ্যাত সাহিত্যিক হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় শৈশবে বাবার সঙ্গে সেই জেলে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুজোর সময়। যে অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘‘পুরোহিত ছিল কিনা মনে পড়ছে না। গৌরবর্ণ, সৌম্য চেহারার একটি প্রাণবন্ত যুবক মন্ত্রোচ্চারণ করে চলেছেন। মাঝে মাঝে অঞ্জলি থেকে কুসুম ছুড়ে দিচ্ছেন দেবীর চরণে। আমরা পিছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। কোথাও সামান্য শব্দ নেই। সান্ত্রীরা পর্যন্ত সার দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক পাশে। সুপার বাবার কানে মৃদুস্বরে বললেন, যিনি মন্ত্র পড়ছেন উনিই সুভাষচন্দ্র বসু।’’ পরবর্তী সময়ে এই জেলেই প্রবল অসুস্থ হয়ে পড়েন সুভাষ। যক্ষ্মা বাধিয়ে বসেন। তবু সেই অসুস্থতার মধ্যেই জীবনের অনন্য এক পর্বে উত্তরণ ঘটে তাঁর।
গৌরবর্ণ, সৌম্য চেহারার একটি প্রাণবন্ত যুবক মন্ত্রোচ্চারণ করে চলেছেন। মাঝে মাঝে অঞ্জলি থেকে কুসুম ছুড়ে দিচ্ছেন দেবীর চরণে।
এর দেড় দশক পরের কথা। সেটা ১৯৪০ সালে। সেই সময় সুভাষ প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি। সেখানেও বাকি বন্দিদের নিয়ে তিনি পুজোর আয়োজন করেন। ব্রিটিশদের অস্বস্তিতে রেখে সেই পুজো হয়ে উঠেছিল ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। পরাধীন এক দেশে সকলে একযোগে কারাগারে পুজোর আয়োজনের মধ্যে দিয়ে জাতীয়তাবাদী চেতনারও উন্মেষ ঘটাতে চেয়েছিলেন। সেই ইতিহাস আজও আমাদের উদ্বুদ্ধ করে। দীর্ঘ সময় পেরিয়েও তা থেকে গিয়েছে এক অনন্য আখ্যান হয়ে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ভারতীয় রণতরীতে জোর ধাক্কা! কী উদ্দেশ্যে ছিল পাক যুদ্ধজাহাজের? প্রকাশ্যে বিস্ফোরক তথ্য
-
এবার সেন্সর বোর্ডে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কমিটিতে প্রীতি জিন্টা, পঙ্কজ ত্রিপাঠী-সহ আর কারা?
-
একদিনও কর্মস্থলে যাননি! তবু মাসে ৭০ হাজার বেতন পান কর্নাটকের কংগ্রেস বিধায়কের ভাইঝি
-
জোড়া ব্যধিতে ‘মহামারী’ বাংলাদেশে! ৬ মাসে হাম কাড়ল ১,০৪৪ প্রাণ, সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুতে মৃত ৬০
-
সালকিয়া ফ্রেন্ডস থেকে মনোনয়ন জমা সৌরাশিসের, প্রথমবার উপস্থিত থাকছেন বার্ষিক সভায়