বছরের বাকি সময় যেমন তেমন করে কেটে যায়, কেবল দুর্গাপুজো এলে যেন বদলে যায় সব। নীল আকাশ ভরে যায় শরতের তুলোর মতো মেঘে। হাওয়ায় ঠান্ডার আভাস বোঝা যায়। মনের ভিতর আচমকাই জমা হয় আনন্দের কয়েক কুচি। কিন্তু সকলের মনের অন্ধকার কি দূর করতে পারে পুজোর আলো-আনন্দ (Durga Puja 2026)?
আরও পড়ুন:
জীবনে শুধুমাত্র এক শান্তির নীড় চেয়েছিলেন মুসলিম পরিবারের মেয়ে সোনালি! অল্প বয়স থেকেই ঘর সংসার সামলে, কেবল সন্তানকে দুধেভাতে রাখার স্বপ্ন বুনতেন তিনি। সে স্বপ্ন অবশ্য পূরণ হয়নি এই টালিগঞ্জবাসীর। বদলে শুরু করতে হয়েছে এক ভিন্ন লড়াই।
প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের গ্যারাজে যাতায়াত শুরু হয় সোনালি বিবির। শুরু করেন গ্যারেজে গাড়ি মেকানিকের কাজ। সেই শুরু। আজ প্রায় ৩৫ বছর পর তিনি বিবি থেকে হয়েছেন ‘মিস্ত্রি’! স্বামী, সন্তান ভরা জীবনে আজও কাজের খোঁজে সংগ্রাম করতে হয় এই লড়াকু ‘দুর্গা’কে।

প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে এই কাজ করেন তিনি। বর্তমানে ছেলের কাছে থাকেন। হাঁটতে কষ্ট হয়, শরীর সঙ্গ দেয় না। তবুও সোনালি বাঁচেন কাজেই। স্ক্রু অথবা মোটর বাইকের ব্যাটারি, অথবা তারের জোড়ে খুঁজে পান সুখ! বিশ্বকর্মার মতোই তিনিও যেন তৈরি করেন কারিগরির এক ভিন্ন স্বর্গ!
প্রাথমিকভাবে এ কাজ সহজ ছিল না তাঁর পক্ষে। মুসলিম পরিবারের গৃহবধূ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে গাড়ি সারাই করবে— বিষয়টা ভালো চোখে দেখেননি রক্ষণশীলদের অনেকেই। তবুও পেটের জ্বালায় কাজ করেছেন সোনালি মিস্ত্রি। তাঁর কথায়, ‘‘আমি প্রথমে ভাবিনি এমন কাজ করব। একটা সময় প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের ওই গ্যারাজে আমার স্বামীর সঙ্গে কিছু লোকজন অশান্তি করে। তখন সংসার চালাতে ওর অনুপস্থিতিতে দোকানে যেতাম আমি। ছেলেমেয়েকে স্কুলে দিয়ে, রান্না করে অন্য হেল্পারদের সঙ্গে কাজ করতাম। তারপর ধীরে ধীরে কাজ শিখতে থাকি। স্বামীকে সাহায্য করার জন্য যেতাম।’’
সাহায্য করতে গিয়েই পাকা মিস্ত্রি হয়ে ওঠেন সোনালি। কিছু হিতাকাঙ্ক্ষী মানুষের সহযোগিতায় বাংলার প্রথম গ্যারাজ মেকানিক হিসেবে শুরু হয় তাঁর নতুন পথচলা। সোনালির কথায়, ‘‘কষ্ট পেতাম, কান্না পেত, কত মানুষের খারাপ কথা শুনতাম। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। লড়াই করেছি রোজ।’’ পুঁথিগত শিক্ষায় সিদ্ধহস্ত না হয়েও অলিখিত ইঞ্জিনিয়ার সোনালি। বলেন, ‘‘আমি বাইকের চলন দেখেই বলে দিতে পারি কী সমস্যা, রোগ ধরতে পারি। অসুবিধা হয় না।’’
সোনালি মিস্ত্রি সংগ্রামের মধ্যেই থাকেন। বাড়িতে বসে জীবন কাটাতে চান না, আবারও ফিরতে চান কাজে! মহিলাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘সকলেই স্বাবলম্বী হোক, যাতে কেউ বলতে না পারে যে আমরা নারীরা কিছু পারি না।’’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ড্রাগন-হাতির ট্যাঙ্গো চাইছে বেজিং! সীমান্ত বিতর্কের মাঝেই কলকাতায় চিনা দূতের মুখে মৈত্রীর বার্তা
-
তিন বছর পর দেশে আইপিএল নিলাম, কোন শহরে, জানিয়ে দিল বিসিসিআই
-
হাঁটুর বয়সি নায়িকার সঙ্গে মামাশ্বশুর গোবিন্দার প্রেম! ‘ঘরভাঙানিদের তোল্লাই দেবেন না’, খোঁচা কাশ্মীরার
-
চাই গম্ভীরের উত্তরসূরি! এবার ঋষভদের কোচিং করাবেন লক্ষ্মীরতন, জাতীয় দলে ডাক আসবে?
-
এক ভাইপোকে সরিয়ে আরেক ভাইপোকে গুরুদায়িত্ব, মায়াবতী বলছেন, ‘এটা তো পরিবারতন্ত্র নয়’