Asha Bhosle Death

সুরলোকে পাড়ি আশা ভোঁসলের, ‘অপূরণীয় ক্ষতি’র কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন হৈমন্তী, শুভমিতারা

রবিবার ভোরে ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ের হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীতশিল্পী।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১৯:১৫

options
link
সুরলোকে পাড়ি আশা ভোঁসলের, ‘অপূরণীয় ক্ষতি’র কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন হৈমন্তী, শুভমিতারা
আশা ভোঁসলের জীবনাবসানে শোকাহত বাংলার সঙ্গীতজগত।

দেশের সঙ্গীতজগতকে আবারও শূন্য করে দিয়ে সুরলোকে পাড়ি দিয়েছেন প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। রবিবার বেলা নাগাদ তাঁর প্রয়াণ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর রোদেলা আবহাওয়া কেমন ম্লান হয়ে গিয়েছে। বাংলার সঙ্গে তাঁর সুরের সুতোটা যে এভাবে ছিন্ন হয়ে যাবে, তা ভাবতে পারেননি কেউ। বাংলার সঙ্গীতজগতে আজ বড় এক শোকের দিন। আশা ভোঁসলের মতো মহীরূহের ছায়াটা হঠাৎ করে মাথার উপর থেকে সরে যাওয়ায় অসহায় বোধ করছেন হৈমন্তী শুক্লা, শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। আপনজন হারানোর কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন হৈমন্তী শুক্লা। ভাগ করে তাঁর সঙ্গে আশাজির সুন্দর মুহূর্তগুলো। আশা ভোঁসলের প্রয়াণের খবরে (Asha Bhosle Death News) অত্যন্ত ব্যথিত বলে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

Advertisement

আশা ভোঁসলের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে হৈমন্তী শুক্লা জানালেন, ”একবার আমার গান রেকর্ডের পর ওঁর (আশা ভোঁসলে) রেকর্ড হওয়ার কথা। আমি বেরিয়ে যাচ্ছিলাম স্টুডিও থেকে। উনি এসে আমার হাত ধরে বললেন, চলো আমার সঙ্গে, ওখানে বসবে।তারপর খুঁটিয়ে জানতে চাইলেন, তাঁর গানটা ঠিক কোন দৃশ্যের জন্য রেকর্ড করা হচ্ছে। এত সুন্দর করে গাইলেন…কী বলব? আমার এত খারাপ লাগছে।” এই বলেই কেঁদে ফেলেন হৈমন্তী শুক্লা। 

কান্নাচাপা গলা নিয়েই সঙ্গীতশিল্পী হৈমন্তী শুক্লা জানালেন, ”উনি তো শুধু প্লেব্যাক করতেন না।গানের কোন কথা কী অর্থ, তা জানতে চাইতেন। কোন দৃশ্যে গানটি ব্যবহৃত হবে, তা স্পষ্ট বুঝে নিতেন। একেবারে ছবির মতো সবটা তাঁর কাছে পরিষ্কার হয়ে যেত। আর তাই তাঁর গলায় গানগুলো এত জীবন্ত হয়ে উঠত। আমরা সুরের আলোয় ভেসে যেতাম যেন!” কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি জানালেন, ”একবার আমার গান রেকর্ডের পর ওঁর (আশা ভোঁসলে) রেকর্ড হওয়ার কথা। আমি বেরিয়ে যাচ্ছিলাম স্টুডিও থেকে। উনি এসে আমার হাত ধরে বললেন, চলো আমার সঙ্গে, ওখানে বসবে।তারপর খুঁটিয়ে জানতে চাইলেন, তাঁর গানটা ঠিক কোন দৃশ্যের জন্য রেকর্ড করা হচ্ছে। এত সুন্দর করে গাইলেন…কী বলব? আমার এত খারাপ লাগছে।” এই বলেই কেঁদে ফেলেন হৈমন্তী শুক্লা। 

Advertisement

আশা ভোঁসলের মতোই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সঙ্গীতশিল্পী ঊষা উত্থুপ। আশাজির মতো তিনিও নানা ভাষায় রেকর্ড সংখ্যক গান রেকর্ড করেছেন। ‘সুরসাধিকা’ প্রয়াণে তাঁর প্রতিক্রিয়া, “আশা ভোঁসলে সিনেমা থেকে সঙ্গীতের দুনিয়া – সবক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। শুধু বলিউডের ছবিতেই নয়, বাংলাতেও প্রচুর গান গেয়েছেন। ওঁর পুজোর গান আজও লোকমুখে ফেরে। আমরা প্রত্যেকে আশা ভোঁসেলের অন্ধ ভক্ত। ওঁর মতো একজন বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন শিল্পীকে হারানো সঙ্গীতের দুনিয়ায় বিরাট ক্ষতি। আশাজির ‘দম মারো দম’ ছাড়া আমার কোনও প্রোগ্রাম হয় না। সঙ্গীত কোনওদিন ফুরিয়ে যায় না। গানের মাধ্যমেই তিনি আমাদের মধ্যে চিরদিন বেঁচে থাকবেন। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।”

Advertisement

সঙ্গীতশিল্পী জোজো বলছেন, ”ভগবানকে খুব নিষ্ঠুর মনে হচ্ছে। লতাজি চলে গেলেন, এবার উনিও চলে গেলেন। এঁদের গান শুনে তো আমাদের বড় হওয়া। এমন মানুষজন চলে গেলে যে কী বোধ হয়, বলতে পারব না। বুকের ভিতরটা ফোঁপরা হয়ে যাচ্ছে।”

আশার প্রয়াণে সঙ্গীতশিল্পী জোজো বলছেন, ”ভগবানকে খুব নিষ্ঠুর মনে হচ্ছে। লতাজি চলে গেলেন, এবার উনিও চলে গেলেন। এঁদের গান শুনে তো আমাদের বড় হওয়া। এমন মানুষজন চলে গেলে যে কী বোধ হয়, বলতে পারব না। বুকের ভিতরটা ফোঁপরা হয়ে যাচ্ছে। তবু মানুষকে তো একদিন চলে যেতেই হয়। শুধু এগুলো মেনে নেওয়া যায় না। গানের জগতে বড় স্তম্ভ ছিল, সেটা পড়ে গেল।ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। সামনে থেকে ওঁর গান শোনা যে কী এক অভিজ্ঞতা, যাঁদের হয়নি তাঁরা বুঝতে পারবে না।”

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ”আশাজির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুব ভালো ছিল। আমার পরিচালনায় একটি ছবিতে উনি গান গেয়েছিলেন। আমার মা ওঁর খুব বড় অনুরাগী ছিলেন। এত বড় অনুরাগী বোধহয় আর কেউ নেই। যে কোনও ভাষায় গানে একটা ট্রেন্ড সেট করেছিলেন। দূর থেকে শুনে বোঝা যেত যে তাঁর গান এটা। গানের জগতে আশাজি, লতাজি দুটো নাম। তাঁদের জীবনাবসান বড় ক্ষতি।”

শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, ”আমরা অভিভাবক হারালাম। কী যে ক্ষতি হয়ে গেল বলার কথা নয়।” একসময়ে টলিউড কাঁপানো দেবশ্রী রায় কাঁদতে কাঁদতেই বললেন,  “আমার কেরিয়ারে আশাজির অবদান এতখানি, বলে বোঝাতে পারব না। আমার লিপে যত হিট গান, সব ওঁর। আমার অত্যন্ত পছন্দের শিল্পী শুধু নয়, ব্যক্তিগত ভাবেও অত্যন্ত কাছের মানুষ। আশাজি ছাড়া এত ভালো গান উপহার দিয়েছেন আমাকে।” 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.