রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক পরিণতির বিচারের দাবিতে ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন জীতু কামাল। সেদিন রাহুলের ছবির পাশে নিজের মালা পরানো ছবি রেখে আর্টিস্ট ফোরামের বিরুদ্ধে শিল্পী-কলাকুশলীদের ‘অবহেলা’ করার মতো বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন অভিনেতা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে ‘ধান্দাবাজ’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। এহেন শোকযাপনের জন্য অবশ্য গোড়া থেকেই কটাক্ষ, সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে জীতুকে। সেলেবপাড়ার অন্দরেও যা নিয়ে কম ফিসফাস হয়নি! এমনকী অভিনেতাকে পালটা ‘স্থান-কাল-পাত্র’ বিচার করে ব্যক্তিগত সমস্যা তুলে ধরার নিদান দিয়েছিলেন একাংশ। কেউ ‘সস্তার প্রচার’ বলে কটাক্ষ করেছেন, তো কেউ বা ‘ফুটেজখোর’ বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন অভিনেতার উদ্দেশে। তবে দমে যাননি জীতু। এবার রাহুলের মৃত্যুর তিন মাস ঘুরতেই মৃত্যুতদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিনেতা।
আরও পড়ুন:
রাহুলের মৃত্যুর ঘটনা যেন জটিল ধাঁধা! যা মাস তিনেক বাদে ২৯ জুনেও অমীমাংসিত। সোমবার সেই প্রেক্ষিতেই স্বরচিত কবিতার ছত্রে ছত্রে শব্দরাজিতে কড়া আক্রমণ শানালেন জীতু কমল।
গত ২৯ মার্চ, তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনেতার মৃত্যু এবং তার পরবর্তী ঘটনাক্রম অজস্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে তালসারির মতো বিপজ্জনক সমুদ্র সৈকতে শুটিং হল কীভাবে? ইউনিটের সদস্যদের বয়ানেও বিস্তর অসঙ্গতি মিলেছিল। জলে নেমে শুটিংয়ের দৃশ্য নাকি চিত্রনাট্যে ছিলই না, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত কে নিলেন? কিংবা যদি সমুদ্রে নেমে শুটিংয়ের পরিকল্পনা ছিলই, তাহলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি? যদি থাকেই, তাহলে ঠিকসময়ে রাহুলকে উদ্ধার করতে পারল না কেন? রাহুলের মৃত্যুর ঘটনা যেন জটিল ধাঁধা! যা মাস তিনেক বাদে ২৯ জুনেও অমীমাংসিত। সোমবার সেই প্রেক্ষিতেই স্বরচিত কবিতার ছত্রে ছত্রে শব্দরাজিতে কড়া আক্রমণ শানালেন জীতু কমল।

“গৌতম-পুত্রের মৃত্যু তদন্ত, তদন্তেই থেকে যায়। নেতা যায়,নেতা আসে, আসার আগেই ভালোবাসে। আঙুলের পরিবর্তনের ঝড়ে, নেতার কণ্ঠ দেয় ব্যারিটন গড়ে।…”
সোমবার, ২৯ জুন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তিন মাস হল। বিগত তিন মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে বহুল বদলের সাক্ষী থেকেছে সেলেব পাড়া। গোড়ায় অভিনেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে টলিউডে ঝড় উঠলেও সময়ের সঙ্গে তা থিতিয়ে গিয়েছে বললেও অত্যুক্তি হয় না! এদিকে রাহুলের মৃত্যুতদন্তের কোনও অগ্রগতি না দেখে এবার কড়া প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন জীতু। অভিনেতার কথায়, “২৯ আসে,ঊনত্রিশ যায়। গৌতম-পুত্রের মৃত্যু তদন্ত, তদন্তেই থেকে যায়। নেতা যায়,নেতা আসে, আসার আগেই ভালোবাসে। আঙুলের পরিবর্তনের ঝড়ে, নেতার কণ্ঠ দেয় ব্যারিটন গড়ে। বলেছিল, আমরা সবাই এক কাট্টা… জেতার পরই ভো-কাট্টা। মুখে বিরোধীর সুখ্যাতি, দরকার ছিল কী ভাই!…” এখানেই অবশ্য থামেননি অভিনেতা। জীতুর সংযোজন, জেতার আগের সেই কুখ্যাতি। কমিটি-কমেটিতে আজও চেনা মুখোশ ও মুখ, অচেনা শুধু জেতানোর বোকা কতকগুলো মুখ। এখনো করি তোমায় বিশ্বাস, নতুন কণ্ঠ আর চোখ দিয়ে, ভেঙে দিও না,সে আশ্বাস।”
“১৫ বছরও, ছিল পুলিশ,ছিল মন্ত্রী, ছিল অনেক ষড়যন্ত্রী। হয়েছিলাম সোচ্চার, দিয়েছিলাম কানমোলা। প্রয়োজনে আবারও উঠবে, বিপ্লবের সেই নির্ভীক গলা।…”
কবিতার ছত্রে প্রাক্তন সরকারকেও বিঁধেছেন তিনি। জীতু লিখেছেন, ১৫ বছরও, ছিল পুলিশ,ছিল মন্ত্রী, ছিল অনেক ষড়যন্ত্রী। হয়েছিলাম সোচ্চার, দিয়েছিলাম কানমোলা। প্রয়োজনে আবারও উঠবে, বিপ্লবের সেই নির্ভীক গলা। বরাভয় নাকি ভয় ভয় ভয়, করি না গো তোমায়, এতটুকু ভয়।…” অতঃপর রাজ্যে সরকারের পালাবদল হলেও জীতু কমল যে অকুতোভয়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন, সেটাই স্পষ্ট করলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সামুরাই সূর্যাস্ত, শিষ্য জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় গুরু ব্রাজিল
-
‘তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নেই’, বঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক কংগ্রেস নেতা বেনুগোপালের
-
এবছরই দেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার, কী বলল ঢাকা?
-
‘বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি’, টোপর পরিয়ে ‘জামাই আদর’, তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে জনরোষ!
-
বাড়বে স্ক্রিনের সংখ্যা! ভারতীয় সিনে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতিতে একগুচ্ছ ঘোষণা কেন্দ্রের