টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির সুবাদেই দর্শকমহলে আজ পরিচিত মুখ রোহিত রায়। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে এক সাক্ষাৎকারে সেই টেলিভিশনেই ‘ডাস্টবিন মিডিয়াম’ বলে কটাক্ষ করেছেন। যার বাংলা তর্জমা করলে হয়, আবর্জনার মাধ্যম। এক্ষেত্রে রোহিতের জন্য বাংলায় প্রচলিত প্রবাদ ‘যে পাতে খায় সেই পাতেই ছেদ করে’ পারফেক্ট ম্যাচ। একই সুর শোনা গেল জনপ্রিয় টেলিনায়িকা দেবলীনা ভট্টাচার্যের কণ্ঠেও।
একটি ইউটিউব চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে বেশ বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন রোহিত রায়। তাঁর বক্তব্য, টেলিভিশনের কনটেন্ট নাকি দর্শক অনায়াসেই ভুলে যায়। ধারাবাহিক শেষ হতেই তা পুরনো হয়ে যায়। তাছাড়া সৃজনশীলতার অভাব রয়েছে বলেই মনে করেন রোহিত। অভিযোগ, ভারতে বিপুল পরিমাণ টিভি কনটেন্ট তৈরি হলেও একই ধরনের গল্প ও ফরম্যাট বারবার তৈরি হচ্ছে। ফলে সৃজনশীল কাজের সুযোগ কম।
‘স্বভিমান’-এর মতো কিছু কাজ মানুষের মনে থেকে গেলেও তিনি নিজে অভিনয় করা বহু ধারাবাহিকের নাম দর্শক আজ আর মনে রাখেন না। রোহিতের মতে, টেলি তারকাদের তুলনায় সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতি অনেক বেশি সাবলীল। টেলিভিশনের পাশাপাশি ‘ফ্যাশন’, ‘শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা’-র মতো ছবিতেও তিনি অভিনয় করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সাক্ষাৎকারে রোহিত নিজের মতামত প্রকাশের সময় জানান, টিভি তারকাদের আচরণ, পোশাক ও মন্তব্য অনেক সময় পেশাদারিত্বের অভাব ফুটে ওঠে। নাম না করে একজন টিভি তারকার অতিরিক্ত খোলামেলা পোশাক পরার বিষয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। যখন সঞ্চালক রোহিতকে টেলিভিশন আর সিনেমার মধ্যে শ্রেনিবিভাজনের বিষয়ে সতর্ক করেন, তখন রোহিতের পালটা যুক্তি, ‘চলচ্চিত্রের কাজের প্রভাব মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী।’

সেই সময়ই টেলিভিশনকে ‘ডাস্টবিন মিডিয়াম’ বলে টিপ্পনি কাটেন। আরও বিশদে বলেন, এই পার্থক্য অনেকটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আর রঞ্জি ট্রফি খেলার মতো। রোহিতের এই ‘বিতর্কিত’ মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন জনপ্রিয় টেলি অভিনেত্রী দেবলীনা ভট্টাচার্য। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, “মানুষের একটা অদ্ভুত অভ্যাস আছে। যে হাত তাদের খাওয়ায় সেই হাতেই কামড় বসানো। যে থালায় খায়, সেই থালাতেই ছিদ্র করা। ওঁর কথাগুলো ঠিক তেমনই মনে হচ্ছে।”

আরও বলেন, “সিনেমার কথা তো বাদই দিলাম। সত্যি বলতে ও কোন টিভি সিরিয়ালে ছিল সেটাও আমার মনে নেই। যদি সত্যি বলি বেশিরভাগ মানুষ ওকে শুধু রনিত রায়ের ভাই হিসেবেই চেনে। রনিত নিজেও টিভি থেকেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় বলে আমার মনে হয়। রোহিত নিজে কতটা বড় অবদান রেখেছেন, সেটা নিয়েও আমি নিশ্চিত নই। টেলিভিশন যদি এতটাই খারাপ হয়, তাহলে এত বছর ধরে তিনি সেখানে কাজ করার সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছিলেন? আর এখন সেই একই মাধ্যমকে ডাস্টবিন বলছেন।”
সর্বশেষ খবর
-
‘নিজে সততার প্রতীক সেজে সবাইকে ফাঁসিয়েছেন’, পুজো পাস দুর্নীতিতে মমতার নাম জড়াতেই খোঁচা দিলীপের
-
‘ভারতীয়রা প্রাণ কাড়ে না, জীবন বাঁচায়’, স্মিতকে কুর্নিশ মোদির, ট্রাম্প-শাহবাজকে নিশানা?
-
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের লক্ষ্য শুধু… মহারণের সূচি ঘোষণা হতেই বাবরদের চরম কটাক্ষ পার্থিবের
-
‘জীবনের সেরা ম্যাচ খেলো’, ব্রাজিল যুদ্ধের আগে মনবীরদের বার্তা বিশ্বকাপে খেলা বিকাশের
-
কপালের চন্দন পরিষ্কার থেকে হাতে আলতো চুমু, ‘দেশু ৭’-এর প্রচারে শুভশ্রীর প্রতি যত্নশীল দেব!