‘ওহ ওহ ওহ ইতনে সারে সিতারে! দিল্লি মে নেহি মিলতা হে।’ পুরুলিয়ার আকাশ দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রগ্রাহক রঘু রাই (Raghu Rai)। খাটিয়ায় শুয়ে পেটের উপর ক্যামেরা রেখে ছাদের চারপাশে চারজনকে রেখে পুরুলিয়ার আকাশকে বন্দি করেছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে পুরুলিয়ার ফটোগ্রাফ দুনিয়া শোকে মুহ্যমান। তাঁর নানান স্মৃতিতেই এখন ডুবে পুরুলিয়ার ফটোগ্রাফাররা।স্থির ছবির জগতে পুরুলিয়া একটি নাম। বলা যায়, ছবির ক্ষেত্র এই বনমহলের জেলা। সেই পুরুলিয়ার ল্যান্ডস্কেপকে বন্দি করতেই তাঁর পুরুলিয়া আসা দু-দু’বার। এখন সেই স্মৃতি কথা চোখের সামনে ভিড় করছে পুরুলিয়ার।
আরও পড়ুন:
রবিবার দিল্লিতে ৮৩ বছর বয়সে কিংবদন্তি আলোকচিত্রী প্রয়াত হওয়ার পর পুরুলিয়া নিয়ে তাঁর নানান কথা সমাজ মাধ্যমে ঘুরছে। শহর পুরুলিয়ার ডাক্তার, ডাঙ্গার বাসিন্দা জাতীয় ফটোগ্রাফার স্বরূপ দত্ত বলেন, ‘‘তিনি প্রথমবার যখন পুরুলিয়া এসেছিলেন তখন আমি জানতাম না। পরে যখন জানতে পেরেছিলাম খুব কষ্ট পেয়েছি। ২০১৯ সালের ৭ ডিসেম্বর আবার যখন তিনি পুনরায় পা রাখলেন এই জেলায়। তখন তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়। তাঁকে নিয়ে আমার যত বই আছে সব ক’টি বইয়ে আমি তাঁকে দিয়ে স্বাক্ষর করাই। এ যে কী অনুভূতি, ভালো লাগা বলে বোঝাতে পারব না। উনিও আমাকে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। আমার আঁকা ওনার একটি ডিজিটাল স্কেচ প্রিন্ট করিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে উনি সই করেছেন। চোখের সামনে ভাসছে সে সব কথা।”

জাতীয় ফটোগ্রাফার স্বরূপ দত্ত। নিজস্ব চিত্র।
তাঁর যে ভাষা ছিল ক্যামেরা। পুরুলিয়ার আরেক ফটোগ্রাফার তথা জেলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, প্রধান শিক্ষক শুভাশিস গুহ নিয়োগী বলেন, ‘‘সালটা ঠিক মনে করতে পারছি না। যখন প্রথম পুরুলিয়া এসেছিলেন তখন আমরা তিনজন আমি, সুদিন অধিকারী ও কবি নির্মল হালদার মিলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। সেই সময় পুরুলিয়ার আকাশ দেখে তাঁকে বলতে শুনেছিলাম, ‘ওহ ওহ ওহ ইতনে সারে সিতারে! দিল্লি মে নেহি মিলতা হে।’ আমার ক্যামেরা নিয়ে তিনি আমাদের ছবি তুলেছিলেন। আবার ওঁর ক্যামেরাতেও তিনি আমাদের ছবিতে বন্দি করেছিলেন। এ যে কত বড় পাওয়া বলে বোঝাতে পারব না।”

পুরুলিয়া শহরের পিএন ঘোষ স্ট্রিটের বাসিন্দা বরুণ রাজগড়িয়া বলেন, ‘‘আমি ওঁর ছবির ভক্ত। এক অনুষ্ঠানে কলকাতায় ওঁকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল।” আলোকচিত্রী স্বরূপ দত্ত বলেন, ‘‘আমার গাজনের ছবির বইটি আমি তাঁকে দিয়েছিলাম। তিনি সেই ছবিগুলো দেখে খুব খুশি হয়েছিলেন। বলেছিলেন আমি এই উৎসবের ছবি তুলতে চাই। আপনার সঙ্গে ঘুরে ঘুরে ছবি তুলব আর আপনার বাড়িতেই থাকব। আমার খাওয়াদাওয়া নিয়ে কোনও বায়নাক্কা নেই। খুব সাধারণ ডাল-রুটি খেয়ে আমি থাকতে পারি।” আজ মনখারাপ পুরুলিয়ার। আর তাঁর ক্যামেরার ক্লিকে ফুটে উঠবে না পুরুলিয়ার রাতের আকাশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘ট্রাস্টে মুসলিম থাকলে ওরা গুলি করে মারত’, রাম মন্দিরের টাকা চুরি ইস্যুতে সরব ওয়েইসি
-
বর্ণবিদ্বেষের বেদনা থেকে ভালোবাসার চাষ, ফুটবলের লতায়পাতায় বিশ্বগ্রাম
-
ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা নয়, তৃণমূলের দুই শিবিরকেই ২১ জুলাইয়ে ‘না’ পুলিশের
-
৩৬ বছর আগে কাশ্মীরি পণ্ডিত নার্সকে ধর্ষণের পরে খুন! অবশেষে চার্জশিট পেশ ইয়াসিন মালিকের বিরুদ্ধে
-
জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কা! আগাম জামিন চেয়ে হাই কোর্টে অতীন