Bhoot Bangla Review

হাস্যরসে পরিপূর্ণ হলেও ছিটেফোঁটাও নেই ভয়ের আবহ! রইল অক্ষয়ের ‘ভূত বাংলা’র রিভিউ

'ভূত বাংলা' অক্ষয় কুমারের কেরিয়ারের খরা কিছুটা হলেও মুকুব করতে পারবে সে কথা বললে খুব একটা ভুল বলা হবে না। অন্যদিকে হরর কমেডি ঘরানার ছবি 'ভূত বাংলা'য় অক্ষয়, পরেশ রাওয়াল আর রাজপাল যাদব, প্রয়াত অভিনেতা আশরানি দর্শককে কিন্তু, একেবারেই হল বিমুখ করবেন না।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১৮:৪০

options
link
হাস্যরসে পরিপূর্ণ হলেও ছিটেফোঁটাও নেই ভয়ের আবহ! রইল অক্ষয়ের ‘ভূত বাংলা’র রিভিউ
একটির সঙ্গে আরেকটি টিকিট ফ্রি।

আপনি যদি হাড়হিম করা হরর মুভির ভক্ত হন বিশেষ করে হলিউডের হরর মুভি, তাহলে অক্ষয়ের কুমারের ‘ভূত বাংলা’ কতটা ভালো লাগবে সেটা অবশ্যই গভীর প্রশ্ন। কিন্তু, যদি অক্ষয়ের অন্ধ ভক্ত হন তাহলে নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে। অ্যাকশন, কমেডি, প্রেম অর্থাৎ অক্ষয়ের সিনেমা বলতে সাধারণ দর্শক যা বোঝে ‘ভূত বাংলা’য় সেই ফ্লেভার অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু, সিনেমার টিজার বা ট্রেলারে ‘ভুলভুলাইয়া’র গন্ধ পেলেও এই ছবিতে কিন্তু সেই ম্যাজিক ভ্যানিশ। ‘ভূত বাংলা’ অক্ষয় কুমারের কেরিয়ারের খরা কিছুটা হলেও মুকুব করতে পারবে সে কথা বললে খুব একটা ভুল বলা হবে না। হরর কমেডি ঘরানার ছবি ‘ভূত বাংলা’য় অক্ষয়, পরেশ রাওয়াল আর রাজপাল যাদব, প্রয়াত অভিনেতা আশরানি দর্শককে কিন্তু, একেবারেই হল বিমুখ করবেন না।

Advertisement

এবার আশা যাক ‘ভূত বাংলা’র (Bhoot Bangla) গল্পে। উত্তরবঙ্গে মঙ্গলপুর গ্রামে বিয়ের আগের রাতে গায়েব হয়ে যায় নববধূ। খোঁজ পাওয়া যায় না পরিবারের বহু সদস্যেরও। আর সেই গ্রামের সঙ্গেই নিবিড় যোগ অর্জুনের (অক্ষয়), রয়েছে পারিবারিক সূত্রে একটি রাজপ্রাসাদও। সেখানেই বোন মীরার বিয়ের বন্দোবস্ত করতে বদ্ধপরিকর অর্জুন। সেই লক্ষ্যে লন্ডন ছেড়ে অর্জুন মঙ্গলপুরে পা রাখতেই গল্পে আসবে টার্নিং পয়েন্ট। ‘ভূত বাংলা’র প্রথমার্ধে প্রায় পুরোটা হাসিঠাট্টাতেই কেটে গিয়েছে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে প্রিয়দর্শন ভৌতিক আবহকে পর্দায় প্রকট করতে চাইলেও সেটা একপ্রকার ব্যর্থ। এখানেই চলে আসবে ‘ভুলভুলাইয়া’র মঞ্জুলিকার সঙ্গে তুলনা।

Advertisement

এই ছবিতে দর্শককে ভয় দেখাবে অশুভ শক্তি বুধাসুর। কিন্তু, বুধাসুরের দাপট মঞ্জুলিকার কাছে একদম ফিকে। অভিশপ্ত গাছ, মন্দিরে লুকিয়ে থাকা অজানা রহস্যের ভিড়েও ভয়ের আবহটা যেন ঠিক তৈরি হল না। প্রিয়দর্শনের ছবি থেকে দর্শক যে প্রত্যাশা করেছিল সেই তুলনায় বেশ খানিকটা হতাশ। অক্ষয় কুমারের দ্বৈত চরিত্রটাও চিত্রনাট্যের জন্য খুব একটা প্রয়োজন ছিল না। তবে পরেশ রাওয়াল, রাজপাল যাদব ও প্রয়াত অভিনেতা আশরানির উপস্থিতিতে হাস্যরসে কোনও খামতি নেই। এক্ষেত্রে অক্ষয়ের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

‘ভূত বাংলা’র ক্ষেত্রে যাঁদের কথা না বললেই নয়, তারাঁ হলেন ওয়ামিকা গাব্বি, তব্বু, যীশু সেনগুপ্ত। অক্ষয়ের সৎ বাবার ভূমিকায় যীশুর অভিনয়ের কোনও তুলনাই হয় না। অন্যদিকে অক্ষয়ের দ্বৈত চরিত্রের সঙ্গেই যুক্ত তব্বু, একাধারে স্ত্রী আবার মা। প্রিয়দর্শন ‘ভূত বাংলা’য় দর্শকের মধ্যে টানটান উত্তেজনা ধরে রাখতে ব্যর্থ হলেও ওয়ামিকার সঙ্গে প্রেমপর্ব আর গান সেই ক্ষততে কিছুটা হলেও প্রলেপ দিতে পেরেছে। হাসি, মজা, ভয়ের মিশ্রণে ‘ভূত বাংলা’ কেমন হল সেটা বলতে গিয়ে অবশ্যই একটা বিষয়ে আলোকপাত করতে হয়। ‘ভুলভুলাইয়া’তে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হয়ে এসে যে বাংলো থেকে মঞ্জুলিকাকে চিরতরে বিনাশ করেছিলেন, এবার বুধাসুরের সঙ্গে লড়াই করে অশুভ শক্তির বিনাশ করেছেন আক্কি। এই ছবি থেকে একটা শিক্ষণীয় বিষয় হল, মহাদেবের আশীর্বাদেই অন্যায়ের বিনাশ নিশ্চিত।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.