Choddobeshi Series Review

‘ছদ্মবেশী’ হয়ে কতটা গোয়েন্দা পসার জমাতে পারলেন পরমব্রত? পড়ুন রিভিউ

রহস্য-রোমাঞ্চের রেসিপিতে সব উপকরণ কি ঠিকঠাক পড়ল? রইল ‘হইচই’-এর নতুন গোয়েন্দা সিরিজ 'ছদ্মবেশী'র রিভিউ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৭, ২০২৬, ১৬:০৩

options
link
‘ছদ্মবেশী’ হয়ে কতটা গোয়েন্দা পসার জমাতে পারলেন পরমব্রত? পড়ুন রিভিউ
'ছদ্মবেশী' হয়ে কতটা গোয়েন্দা পসার জমাতে পারলেন পরমব্রত?

দেবত্রী ঘোষ: রহস্যের রেসিপিতে নতুন কিছুই মিলল না। রহস্য-রোমাঞ্চ বা অলৌকিক কাহিনি ইদানীং বেশ জনপ্রিয় ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। সে বই হোক কি সিনেমা-সিরিজ, এমনকী, অডিও বুকেও তাদেরই ছড়াছড়ি। বেশ কিছু সমীক্ষা বলছে, এই ধারার সৃজনশীল কিছু তৈরি হলেই তার পাঠক, শ্রোতা বা দর্শক সংখ্যা বেশির দিকেই। এই সমীক্ষার ওপর ভর করেই হয়তো এত থ্রিলার বা হরর ছবি-সিরিজের প্রাধান্য চারিদিকে। সেই তালিকার নতুন সংযোজন ‘হইচই’-এর ‘ছদ্মবেশী’। অভিরূপ সরকারের ‘চৌধুরী বাড়ির রহস্য’ বইয়ের উপর ভিত্তি করে অরিত্র সেনের পরিচালনায় তৈরি এই সিরিজটি।

Advertisement

এই কেসের সমাধান করতে পারলে, গোয়েন্দা হিসেবে আদিত্যর সুনাম তো হবেই, তার পেশাও ভবিষ্যতে আশার আলো দেখবে।

নিজেকে ‘প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর’ বলে পরিচয় দিলেও, বিবাহিত দম্পতিদের পরকীয়া ধরার কেস ছাড়া বিশেষ কিছুই জোটে না আদিত্যর (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়) কপালে। অফিস ঘরের ভাড়া গুনতে পারে না প্রতি মাসে, এমনকী, মেয়ের স্কুলের ফিজ দিতেও অপারগ। সংসারের দায়িত্ব পালনে অনীহা বলেই হয়তো তার স্ত্রী (ঋতাভরী চক্রবর্তী) মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকে। ঠিক এরকম সময়েই আদিত্যর পসারহীন জীবনে এসে পড়ে একটা বড় কেস সমাধানের দায়িত্ব। জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী মন্দাকিনী চৌধুরীর (জুন মালিয়া) আশঙ্কা কেউ তাঁকে মারার চেষ্টা করছে। কে বা কারা এই ষড়যন্ত্রের মাথা, সেটা খুঁজে বের করার দায়িত্বই তিনি দেন দ্বিতীয় স্বামী সুবীর চৌধুরীর (ভরত কল) বন্ধুর ছেলে আদিত্যকে। বলাই বাহুল্য, এই কেসের সমাধান করতে পারলে, গোয়েন্দা হিসেবে আদিত্যর সুনাম তো হবেই, তার পেশাও ভবিষ্যতে আশার আলো দেখবে।

Advertisement
রইল ‘হইচই’-এর নতুন গোয়েন্দা সিরিজ ‘ছদ্মবেশী’র রিভিউ।

সাতটি এপিসোড জুড়ে ‘ছদ্মবেশী’র গল্প এগিয়েছে, এবং তার গতিপথে সঙ্গী হয়েছে আরও বেশ কিছু চরিত্র। ‘ডিসফাংশনাল ফ্যামিলি’তে সম্পত্তি নিয়ে অশান্তি, সৎ ভাই-বোনেদের মধ্যে মনোমালিন্য, হিংসার জেরে খুনের হুমকি– এই সব গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে এই গল্পে কিন্তু নতুনত্ব তেমন নেই। এমনকী, গল্পের তাগিদে যে চরিত্রগুলি রয়েছে, বিশেষ করে মন্দাকিনীর দুই সৎ ছেলেমেয়ে ও নিজের মেয়ে (শঙ্খদীপ, শঙ্খমালা, সোহিনী) তাদের মধ্যেও বিশেষত্ব নেই। চরিত্রগুলির এমন কোনও কৌতূহলী দিক চোখে পড়ে না, যা দেখে দর্শকেরা আলাদা করে তাদের দেখার মজা পাবেন। এমনকী, এই ‘হু ডান ইট’ সিরিজে গল্পের শেষে গিয়ে অপরাধীর পরিচয় এবং অপরাধের কারণ ফাঁসটুকুও বেশ নীরস লাগে।

Advertisement

পরমব্রতর অভিনয় ভালো হলেও, আলাদা কোনও চমক নেই। তবে মন্দাকিনীর ভূমিকায় নজর কাড়েন জুন মালিয়া। অনেকদিন পর তাঁকে পর্দায় দেখতে ভালো লাগে।

সিরিজের সৃজনশীল পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। গোয়েন্দা আদিত্যর ভূমিকাতেও তিনি। তাঁর চরিত্রে এমন কোনও বৈশিষ্ট্য নেই যা দর্শক আগে আর কোনও গোয়েন্দার মধ্যে দেখেননি। পরমব্রতর অভিনয় ভালো হলেও, আলাদা কোনও চমক নেই। তবে মন্দাকিনীর ভূমিকায় নজর কাড়েন জুন মালিয়া। অনেকদিন পর তাঁকে পর্দায় দেখতে ভালো লাগে। কয়েকটি পার্শ্বচরিত্রে মন দিয়ে অভিনয় করেছেন খেয়া চট্টোপাধ্যায়, সৃজলা গুহ, সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভরত কল। মূল গল্পে উত্তেজনার ঘাটতি থাকলে, সিরিজও যে টানটান হবে না, এ তো জানা কথাই। তাই অরিত্র সেনের বড়পর্দার কাজগুলি জনপ্রিয় হলেও, এই উদ্যোগ প্রত্যাশার কাছাকাছি পৌঁছতে পারল না।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.