এক সাহিত্যিকের ‘ঘরে ফেরা’ উদযাপন অনুষ্ঠানে আরেক সাহিত্যিকের অপমান! শনিবার রবীন্দ্রসদনে তসলিমা নাসরিনের (Taslima Nasrin) অনুষ্ঠানে মঞ্চে ডাক পাওয়া প্রবাদপ্রতিম কবি জয় গোস্বামীকে (Joy Goswami)যেভাবে দর্শকদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল, তার রেশ চলছে রবিবারও। ঘটনার ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পর এনিয়ে মুখ খুললেন জয় গোস্বামী নিজে। সংবাদমাধ্যমে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘আমি ওই মঞ্চে থাকার অধিকারী নই। যাঁরা আমাকে ধিক্কার দিয়েছেন, তাঁরা ঠিকই করেছেন। কিন্তু তসলিমা ডাকলে আবার যাব। আবার অপমানিত হলে হব।”
আরও পড়ুন:
কবির কথায়, ‘‘আমার তো মঞ্চে থাকার অধিকার ছিল না। কারণ, গত ১৫ বছরে আমি তসলিমাকে ফেরাতে কোনও কথাই বলিনি। এই কথাটাই আমি স্টেজে দাঁড়িয়ে বলতাম। আর তসলিমার জন্য একটি কবিতা পাঠ করতাম। আমি মনে করছি, যাঁরা ধিক্কার দিয়েছেন, তাঁরা ঠিক করেছেন। কিন্তু আবারও যদি তসলিমা আসেন, আবার আমাকে ডেকে বলেন – ‘জয়, আপনি আসুন’, তাহলে আমি আবার যাব। আবার অপমানিত হলে হব। আজীবন তসলিমাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে যাব।”
রবীন্দ্রসদনে শনিবার সন্ধ্যায় তসলিমা নাসরিনের অনুষ্ঠান ছিল পূর্বনির্ধারিত। প্রতিবাদী লেখিকাকে স্বাগত জানিয়ে নাগরিক সংবর্ধনা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর তসলিমা নাসরিনকে বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি উঠে দর্শকাসনে বসে থাকা শ্রদ্ধেয় কবি জয় গোস্বামীকে মঞ্চে আহ্বান জানান। বলেন, ‘‘দেখতে পাচ্ছি আমার অগ্রজ, শ্রদ্ধেয় কবি জয় গোস্বামী ওখানে বসে আছেন। আমি তাঁকে মঞ্চে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।” জয় গোস্বামী আসন ছেড়ে উঠতেই দর্শকাসন থেকে হইহই শুরু হয়। বোঝা যায়, কবির মঞ্চে ওঠা তাঁদের অপছন্দের। সমবেত আপত্তিতে জয় মাঝপথেই ফিরে আসেন নিজের আসনে। কিছুক্ষণের জন্য অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এনিয়ে নিজের ভাষণে কিছু না বললেও পরে তসলিমা প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিষয়টি তাঁর খারাপ লেগেছে, এটা আশা করেননি।

এবার ঘটনাটি নিয়ে জয় গোস্বামী নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন। তাঁর কথায়, ‘‘তসলিমা নাসরিন কলকাতায় আসবেন শুনে আমি ঠিক করেছিলাম, তাঁর অনুষ্ঠানে যাব। গিয়েছিলাম। উনি মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে আমাকে নজর করেন এবং মঞ্চে আহ্বান জানান। আমি উঠে মঞ্চের দিকে এগোতেই খুব হইহট্টগোল শুরু হল। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি যে ওটা ধিক্কার ধ্বনি। তসলিমার দিকে তাকিয়ে দেখলাম, ওঁর মুখটা পাংশু হয়ে গিয়েছে। খুব সংবেদনশীল মানুষ তো, এটাই স্বাভাবিক। আমি আর তসলিমাকে বিব্রত করতে চাইনি। আমি মঞ্চে না গিয়ে ফিরে এসেছি।”
কিন্তু কেন জনতার এই আপত্তি? এর উত্তরে কবি বলেন, ‘‘আমার তো মঞ্চে থাকার অধিকার ছিল না। কারণ, গত ১৫ বছরে আমি তসলিমাকে ফেরাতে কোনও কথাই বলিনি। এই কথাটাই আমি স্টেজে দাঁড়িয়ে বলতাম। আর তসলিমার জন্য একটি কবিতা পাঠ করতাম। আমি মনে করছি, যাঁরা ধিক্কার দিয়েছেন, তাঁরা ঠিক করেছেন। কিন্তু আবারও যদি তসলিমা আসেন, আবার আমাকে ডেকে বলেন – ‘জয়, আপনি আসুন’, তাহলে আমি আবার যাব। আবার অপমানিত হলে হব। আজীবন তসলিমাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে যাব।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাথার দাম ১ কোটি, বঙ্গেই গা ঢাকা! মদনকে জেরায় মাওবাদী নেতা আকাশের তথ্য পেল পুলিশ
-
ভবানীপুরে বিজেপি কর্মীকে মারধর, মাকে শ্লীলতাহানি! পুলিশের জালে তৃণমূল নেতা
-
‘টোটো অবৈধ, এ বার ই-রিকশা’, ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের
-
বিচ্যুতি দেখলেই ‘অ্যাকশন’, ‘তোলাবাজ’ ধরতে জেলা পর্যবেক্ষকদের গুরুদায়িত্ব শমীকের!
-
যশের দ্বৈত চরিত্রে ঘায়েল দর্শক, ‘টক্সিক’-এর ট্রেলারে উঠে এল নয়ের দশকের অন্ধকার জগৎ