ওপেনিং ইনিংসেই যে বক্স অফিসে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ (Dhurandhar 2), তা বললেও অত্যুক্তি হয় না! মাত্র একসপ্তাহে বিশ্বজুড়ে ৭৫০ কোটির ব্যবসা করে দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির রেকর্ডও দুরমুশ করে দিয়েছে। যদিও প্রথমভাগের মতো এখনও বিতর্ক, সমালোচনা সিক্যুয়েলের সঙ্গী হয়নি, তবে এবার শিবসেনা নেতা গুরজ্যোৎ সিং কিরের মন্তব্য যেন সেই ‘সলতে’তেই আগুন দিল! আদিত্য ধর পরিচালিত সিনেমার বিরুদ্ধে উগ্র হিন্দুত্বের প্রচারের অভিযোগ আগেই উঠেছিল। এবার ‘ধুরন্ধর’ সিক্যুয়েলের বিরুদ্ধে শিখ সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুললেন শিব সেনা নেতা গুরজ্যোৎ।
আরও পড়ুন:
‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর এক দৃশ্যে দেখা যায়, রণবীর যখন গুরু গোবিন্দ সিং জি রচিত ‘দশম গ্রন্থ সাহেব’ থেকে পবিত্র গুরবাণী— ‘সূরা সো পহচানিয়ৈ জো লড়ে দীন কে হেত’ পড়ছেন, ঠিক সেসময়েই মাধবন ধুম্রপান করতে করতে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করছেন। আধ্যাত্মিক চর্চার মাঝেই অভিনেতার মুখে নেশাদ্রব্য দেখে গুরু গোবিন্দ সিং এবং শিখ ঐতিহ্যকে অপমানের অভিযোগে ফুঁসে উঠেছেন ‘শিখস ইন মহারাষ্ট্র’ সংগঠনের সভাপতি গুরজ্যোৎ সিং।
শিখ সম্প্রদায়ের তরফে আপত্তি তোলা হয়েছে, রণবীর সিং এবং আর মাধবন অভিনীত এক দৃশ্য নিয়ে। ঠিক কী রয়েছে ওই দৃশ্যে? ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর এক দৃশ্যে দেখা যায়, রণবীর যখন গুরু গোবিন্দ সিং জি রচিত ‘দশম গ্রন্থ সাহেব’ থেকে পবিত্র গুরবাণী— ‘সূরা সো পহচানিয়ৈ জো লড়ে দীন কে হেত’ পড়ছেন, ঠিক সেসময়েই মাধবন ধুম্রপান করতে করতে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করছেন। আধ্যাত্মিক চর্চার মাঝেই অভিনেতার মুখে নেশাদ্রব্য দেখে গুরু গোবিন্দ সিং এবং শিখ ঐতিহ্যকে অপমানের অভিযোগে ফুঁসে উঠেছেন ‘শিখস ইন মহারাষ্ট্র’ সংগঠনের সভাপতি গুরজ্যোৎ সিং। তাঁর মন্তব্য, “পর্দায় যখন ধর্মীয় বিশ্বাস বা সেধরণের কোনও দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়, তখন নির্মাতাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সেই প্রেক্ষিতেই মাধবন এবং রণবীর অভিনীত দৃশ্যটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এহেন চিত্রায়ণে শিখদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। এধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অজ্ঞতা এবং সংবেদনশীলতার অভাবকেই প্রতিফলিত করে। এখানেই অবশ্য থামেননি তিনি!

শিবসেনা নেতার সংযোজন, “গুরু গোবিন্দ সিং জির এই শ্লোকটি মূলত ঔরঙ্গজেবের শাসনকালে রচিত। এমন এক সময়ে, যখন হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। আর সিনেমার দৃশ্যে সেই শ্লোকের এহেন দৃশ্যায়ণ শিখদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানা ব্যতীত আর কিছুই নয়। তাই অবিলম্বে আদিত্য ধর, মাধবন এবং রণবীর সিংয়ের উচিত সমূহ শিখ সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়া। আর যদি ক্ষমা না চান, তাহলে ওঁরা যেখানেই যাবেন, ওঁদের কালো পতাকা দেখান। এর অন্যথা হলে ইতিহাস সাক্ষী আছে যে শিখ সম্প্রদায় কী কী করতে পারে।” এহেন অভিযোগে মুম্বইয়ে ‘ধুরন্ধর’ নির্মাতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন গুরজ্যোৎ। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের তরফে এও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ‘ধুরন্ধর ২’ ছবির পোস্টারে রণবীর সিংকে শিখবেশে ধূমপানরত অবস্থায় দেখা গিয়েছে, যেটা অত্যন্ত অপমানজনক। কারণ শিখ ধর্মে তামাক সেবন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
প্রধান নির্বাচক পদে আগরকর আর কতদিন? জানিয়ে দিল বোর্ড, জানানো হল উত্তরসূরি বাছার দিনক্ষণও
-
আবার বিহার! কিশোরীর পথ আটকে যৌন নিগ্রহ, অশালীন আচরণ, বন্ধুকে মার, প্রকাশ্যে ভিডিও
-
নতুন করে পুলিশি পদক্ষেপ নয়, হাই কোর্টের নির্দেশে স্বস্তিতে নন্দীগ্রামের জেলবন্দি কংগ্রেস প্রার্থী
-
একবছরে ২,৫০০ কোটির লোকসান শাহরুখের! ‘ধনকুবের’ বাদশার ক্যাশবাক্সে আচমকা টান কেন?
-
শিলিগুড়ি-সিকিম ‘লাইফ লাইনে’ ধস, অবরুদ্ধ ২০ মাইল এলাকা! বৃষ্টিতে বাড়ছে তিস্তার জলস্তর