২৯ মার্চ অকালে অস্তাচলে অরুণোদয়। সাগরপাড়ে রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত সিনেমহল। গভীরভাবে শোকাহত সহকর্মী, সতীর্থ থেকে প্রিয়জনেরা। ইতিমধ্যেই অভিনেতা অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) মৃতদেহ ময়না তদন্ত শেষ করে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে রিপোর্ট মোতাবেক, ফুসফুসে প্রচুর পরিমাণ জল এবং বালির উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ যে সময় তিনি ডুবে গিয়েছিলেন প্রচুর পরিমাণ জল এবং বালি তার ফুসফুসে ঢুকে যাওয়ার কারণে তা ফুলে দ্বিগুণ হয়ে যায়। খাদ্যনালী এবং শাস নালীর মধ্যেও বালি এবং জলের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। রিপোর্টে আরও জানা যাচ্ছে, অল্প সময় জলে ডুবে থাকলে এমন উপসর্গ থাকে না। কয়েক হাজার মানুষ রাহুলকে শ্রদ্ধা জানাতে তমলুক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:
অভিযোগ, বিনা অনুমতিতেই চলছিল ‘ভোলে বাবা পার করে গা’-এর শুটিং। দীঘা সংলগ্ন তালসারির সমুদ্রের চোরাবালিতে তলিয়ে গিয়েই মৃত্যুর সময় সঙ্গে ছিলেন তাঁর গাড়িচালক। মালিকের মৃত্যুতে একেবারে ভেঙে পড়েছেন। ২৯ জানুয়ারি বিকেলে ঠিক কী ঘটেছিল? কীভাবে শুটিং করতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন? সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল না? সংবাদমাধ্যমের সামনে এই সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন গাড়িচালক।
অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলেছেন, “সঙ্গে থেকেও তো কিছু করতে পারলাম না। দাদা আসলে জলের গভীরতা বুঝতে পারেনি। তাই নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। সেই সময় হঠাৎ জোয়ার এসেছিল। সঙ্গে সঙ্গে আমি জলে নেমেছি। টেকনিশিয়ানরাও দাদাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। ছয় থেকে সাতজন নিজের জীবন বাজি রেখে জলে ঝাঁপ দিয়েছিল। দাদার সহ অভিনেত্রী ততক্ষণে পাড়ের অনেকটা কাছাকাছি চলে এসেছিল। উনি সুস্থ আছেন। কিন্তু, দাদার ক্ষেত্রে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল।”
রাহুল সাঁতার জানতেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, দাদা সাঁতার জানতেন কিন্তু, সেই সময় হয়তো বুঝে উঠতে পারেননি। কারণ জলের গভীরতা অনেকটাই ছিল। আমরাও প্রথমে ভেবেছিলাম খুব বেশি জল নেই। কিন্তু, পরে গভীরতা টের পেয়েছি। জোয়ারের জন্যই দুর্ঘটনাটা ঘটেছে।” যেখানে শুটিং চলছিল তার থেকে কতটা দূরে ঘটনাটি ঘটেছে? অল্প দূরত্বেই ঘটেছে বলে জানান গাড়িচালক।”
রাহুলকে উদ্ধারের পর তখনই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? তাঁর কথায়, “ইউনিটের সকলেই হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমিও ওঁদের সঙ্গে গিয়েছিলাম। কিন্তু, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ই সব শেষ। প্রাথমিকভাবে আমরাও পেট চেপে জল বের করার চেষ্টা করেছিলাম। তখনও নিঃশ্বাস চলছিল কিন্তু শেষ রক্ষা আর হল না।” শুটিংয়ে কোনও চিকিৎসক ছিল? গাড়িচালকের অকপট স্বীকারোক্তি,, “কখনই চিকিৎসক থাকে না।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
প্রমাণ লোপাটে তড়িঘড়ি অভয়ার দেহ সৎকার! তদন্তে আর পুলিশ নয়, মামলা সিবিআইয়ের হাতে
-
আমেরিকায় ‘অলৌকিক’ কাণ্ড, দু’বার বিষাক্ত ইঞ্জেকশনেও মরল না মহিলা আসামি! তারপর…
-
স্নানঘর থেকে রহস্যময় পুরুষের সঙ্গে বিছানায়! সব মিথ্যে? ৭০০০ কোটির ক্ষতিপূরণ হাঁকালেন ঊর্বশী
-
মৃত্যুমুখেও অটল! ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচানো পাইলটকে পুরস্কৃত করছে গুজরাট সরকার, বিশেষ সম্মান ইজরায়েলেরও
-
ঋত-তৃণমূলের ভোটের প্রচারে চকোলেট কুড়োতে গিয়ে মৃত্যু! নাবালিকার বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী