বাংলা সিনেমায় তাঁর দাপুটে অভিনয় বারবার দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সমান পারদর্শীতার সঙ্গে যে কোনও চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে জুড়ি মেলা ভার। তিনি টলিপাড়ার প্রতিভাবান অভিনেতা রজতাভ দত্ত। বেশ কয়েকটি হিন্দি ছবিতে রজতাভর অভিনয় দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়েছে। এবার দক্ষিণে পাড়ি রজতাভর। রামচরণের মতো সুপারস্টারের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ারের সুযোগ পেয়েছেন। সৌজন্যে, আসন্ন তেলুগু ছবি ‘পেড্ডি’। আগামী এপ্রিলে মুক্তি পাবে রজতাভ অভিনীত প্রথম দক্ষিণী ছবি। তার আগে রামচরণের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সংবাদ প্রতিদিনের কাছে মুখ খুললেন রজতাভ দত্ত।
কাজ নিয়ে তো অবশ্যই ভীষণ খুশি কিন্তু, তার চেয়েও বেশি রজতাভর মনকে প্রভাবিত করেছে রামচরণের মানবিক দিকটি। তাঁর মতো একজন সুপারস্টার স্টারডমকে তোয়াক্কা না করে তেলুগু ইন্ডাস্ট্রির ‘নবাগত’ বয়জ্যেষ্ঠ অভিনেতাকে যেভাবে সম্মান করার কায়দা দাগ কেটেছে রজতাভর মনে।
আরও পড়ুন:

রামচরণের ব্যবহারে মুগ্ধ রজতাভ বলেন, “রামচরণ অসম্ভব বিনয়ী ও ভদ্র মানুষ। শুটিং ফ্লোরে ভিন্ন ভাষার অভিনেতার ছিলেন। সেই সংখ্যাটা প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০। সকলের মাঝে এসে বারাবার আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, কাজের প্রশংসা করেছেন। এটা খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক।”

আরও একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, “আমরা একদিন এমন একটি জায়গায় শুটিংয়ে গিয়েছিলাম সেখান থেকে ভ্যানগুলো অনেকটাই দূরে ছিল। তাই প্রত্যেকের জন্য আলাদা তাবুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এসি থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সবকিছুই ছিল। আমরা যখন ওখানে শুটিংয়ের জন্য ছিলাম তখন অনেক বাচ্চা ছেলেমেয়েদের দেখিছ। গ্রাম্য পরিবেশে বাচ্চারা যেমন ঘুরে বেড়ায় ঠিক তেমনই। ওরা একটু উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু, রামচরণের দেহরক্ষীরা তো ত্রিসীমানায় আসতে দিচ্ছিল না। তখন ওঁর ম্যানেজার ভিতর থেকে এসে ওদের আটকাল আর প্রত্যেক বাচ্চাকে ভিতরে নিয়ে গেল। যখন বেরলো ওদের হাতে চকোলেট ছিল। ওই বাচ্চাগুলো কিন্তু মোবাইল ব্যবহার করে না যে ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে। রামচরণ যে কোনও দেখনদারির জন্য এটা করেননি সেটা তো দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। ওঁর এই মানবিক দিকটা আমার মনে ভীষণ প্রভাব ফেলেছিল।”
রজতাভ বলেন, “এত বড় প্রোডাকশনে আগে কখনও কাজ করিনি। তাই অনেক নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চার করেছি। “
আবেগে ভেসে অভিনেতা বলেন, “ভবিষ্যতে কখনও যদি দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ নাও পাই এই অভিজ্ঞতাটা আজীবন মনে গেঁথে থাকবে। আরও একটা ঘটনা আমার মন ছুঁয়ে গিয়েছে। আমি হিন্দি কাজকে সত্যি একটু ভয় পাই। কারণ ওই ভাষাটার উপর দখল থাকলেও বলতে একটু সমস্যা হয়। কিন্তু, এই ছবিতে কাজ করার সময় যেন সকলে ভেবেই নিয়েছিলেন আমি তেলুগু ভাষা কোনওভাবেই বলতে পারব না। তাই আমাকে একেবারে তুলোয় মুড়ে রেখেছিল। আলাদাভাবে যত্ন করেছে। প্রতিটি সংলাপ বলার সময় প্রচণ্ডরকম সাহায্য করেছে। এমনটাও যে সম্ভব এই ছবিতে কাজ না করলে জানতাম না। এত বড় প্রোডাকশনে আগে কখনও কাজ করিনি। তাই অনেক নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চার করেছি।”

“স্ক্রিনটাইম হয়তো অনেকক্ষণের নয় তবে যে কাজটা করেছি সেটা নিয়ে খুব খুশি। আমার বিশ্বাস, দর্শকের ভালো লাগবে। ওঁরা আমার কাজকে প্রাধান্য দিয়েগল্পের সঙ্গে সুন্দর করে সামঞ্জস্যতা বজায় রেখেছেন। চরিত্রটাকে মাঝপথে বাদ দেওয়ার সুযোগ ওদের কাছে ছিল, কিন্তু সেটা করেননি। যতক্ষণ না পুরোটা দেখব ততক্ষণ তো আমি নিজেও বুঝতে পারব না। ওঁরা যে পুরো চেষ্টাটা করেছে সেই বিষয়ে কোনও ক্ষোভের জায়গা নেই।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন? অস্ত্র মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ খান স্যরের
-
বরানগর-বারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের অগ্রগতি, হকারের পুনর্বাসনের আর্জি জানিয়ে রেলমন্ত্রীকে চিঠি বিধায়ক কৌস্তভের
-
কেন ভাঙা হবে না পুরবোর্ড? ৭২ ঘণ্টায় জবাব চাইল রাজ্য, এবার কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক!
-
‘পদে পদে বাধা দিত আগের সরকার’, চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ দেখে তৃণমূলকে তোপ রেলমন্ত্রী বৈষ্ণবের
-
‘গিলগিট-বালটিস্তান ভারতের অংশ’, অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচনের মাঝেই পাকিস্তানকে কড়া বার্তা নয়াদিল্লির