সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হরিয়ানার রায়ান ইন্ট্যারন্যাশনাল স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়া প্রদ্যুম্ন হত্যাকাণ্ডে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে মূল অভিযুক্ত একাদশ শ্রেণির ছাত্র। পুরো ঠান্ডা মাথায় সে খুন করেছে খুদে ছাত্রটিকে। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে, সিবিআই তদন্তে সামনে আসছে ওই ছাত্রটি সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
[যোগীর রামমূর্তির জবাব, সুউচ্চ কৃষ্ণমূর্তি বানাচ্ছেন অখিলেশ]
ওই ছাত্রটিকে আটক করার পর, তার মোবাইল ও কম্পিউটার বাজেয়াপ্ত করেছেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। সেগুলি ঘেঁটেই তাঁরা জানতে পেরেছেন, ইন্টারনেটে বিভিন্ন বিষ সম্পর্কে পড়াশোনা করত একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্র। কীভাবে সেগুলি ব্যবহার করা যাবে? এছাড়া কীভাবে ছুরি থেকে আঙুলের ছাপ তুলতে হয়? এই সমস্ত কিছুই দেখত সে। এরপরই সিবিআইয়ের আধিকারিকরা ধারণা করেন যে, প্রদ্যুম্নকে খুন করার আগে বেশ ভালমতোই নিজেকে তৈরি করেছিল ওই অভিযুক্ত। যদিও ল্যাপটপ এবং মোবাইল ঘেঁটে কী কী তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা খোলসা করে জানাননি গোয়েন্দারা। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি তাঁরা। এদিকে সিবিআইয়ের আরেক সূত্রের খবর, প্রদ্যুম্নকে খুন করার পর ইচ্ছে করেই ছুরিটি শৌচাগারের কমোডে ফেলে দিয়েছিল অভিযুক্ত। আর ছুরিটি সে কিনেছিল সোহনার একটি দোকান থেকে ঘটনার আগের দিন। যদিও ওই দোকানী অভিযুক্তকে চিনতে পারেনি। এমনকী ওই ছাত্রও তাঁকে চেনেনি। তবে ছুরিটি ওই দোকান থেকেই কেনার কথা স্বীকার করে নিয়েছে।
[আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল চারতলা বাড়ি, দায় কার?]
এদিকে, অভিযুক্তর বাবার অভিযোগ, ছেলেকে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর, অত্যাচার করা হয়েছে সিবিআই হেফাজতে। অর্থাৎ, মার খেয়েই ধৃত ছাত্র অপরাধ কবুল করেছে বলে আঙুল তুলেছেন তিনি। যদিও সিবিআই সে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শনিবার গুরুগ্রাম জুভেনাইল বোর্ড ধৃত ছাত্রকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত হোমে পাঠিয়েছে। সেখানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। সিবিআই জানিয়েছে, তদন্ত হাতে নেওয়ার প্রথম সপ্তাহ থেকেই ধৃত ছাত্রকে তারা সন্দেহের তালিকায় রেখেছিল। তার আচরণে অনেক অসঙ্গতি ছিল। সহপাঠীদের সঙ্গে প্রায়শই গণ্ডগোল হত ওই ছাত্রের। তারা আদালতে জানায়, নিজের বাবা ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সামনে ওই ছাত্র খুনের কথা স্বীকার করেছে। যদিও শনিবার তার উলটো সুরে ধৃত ছাত্রের বাবা বলেছেন, “আমার ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ। তার উপর অত্যাচার চলছে। উলটো করে ঝুলিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়েছে।”
[বিরল দৃশ্য, সোমবার পরস্পরের খুব কাছাকাছি আসবে বৃহস্পতি ও শুক্র গ্রহ]
তাঁর আরও দাবি, শিক্ষকরা তাঁর ছেলের আচরণের প্রশংসাই করেছেন। “এখনও পর্যন্ত একটাই পেরেন্ট-টিচার বৈঠক হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষক আমার ছেলের পারফরম্যান্স ও আচরণের প্রশংসা করেছেন। ওর মার্কশিটও আমার কাছে আছে,” মন্তব্য বাবার। অর্থাৎ পরীক্ষা পিছতে চেয়ে খুনের তত্ত্ব তিনি প্রকারান্তরে খারিজ করেছেন। তাঁর আরও প্রশ্ন, “ওই ধরনের ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়ে অতটুকু বাচ্চা ছেলে এতদিন ধরে স্বাভাবিক থাকতে পারে কীভাবে?” যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর কথায় আমল দিচ্ছে না সিবিআই। উলটে তদন্ত এগিয়ে চলেছে। পাশাপাশি, রায়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে গিয়ে খুনের ঘটনার পুনর্নিমাণও করেছে।
সর্বশেষ খবর
-
‘কেউ যেন বলতে না পারে মেয়েরা কিছু পারে না’, প্রার্থনা রাজ্যের প্রথম মহিলা মেকানিক সোনালির
-
দশমীতে মায়ের পাতে চিঁড়ে, চ্যাং মাছ পোড়া! তিন শতকে অটুট দুর্গাপুরের এই পুজোর রীতি
-
‘মা নাড়ু বানিয়েছ?’ পুজো এলেই শহিদ ছেলের ডাক মনে পড়ে মমতার
-
দুর্ঘটনার কবলে ফরাক্কা এক্সপ্রেস, লাইন থেকে নেমে গেল ইঞ্জিন, তীব্র আতঙ্কে যাত্রীরা
-
নৈতিকতা ও ন্যায়বিচারের সংঘাত! খার্কি উর্দিতে কতটা জমল করিনা, পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের ‘দায়রা’?