কট্টর মৌলবাদীদের প্রত্যাখ্যান করে তুলনামূলক উদারবাদী বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে বাংলাদেশ। অন্তত এ পর্যন্ত ওপার বাংলার ফলাফলে তেমনটাই ইঙ্গিত মিলছে। তাতে খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এপার বাংলা তথা ভারতের উদারপন্থীরা। জামায়াতে এ ইসলামির তুলনায় কম কট্টর বিএনপি বাংলাদেশে ক্ষমতা দখল করায় খানিকটা স্বস্তিতে নয়াদিল্লিও। কিন্তু প্রশ্ন হল, তাতে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ার উপায় আছে কী? অন্তত বাংলা লাগোয়া আসগুলির ফলাফল তেমন ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের নির্বাচনে (Bangladesh Election 2026) এ পর্যন্ত যা ফলাফল তাতে তারেক রহমানের বিএনপি ২১০ আসনের বেশি জিততে চলেছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১২ দলীয় ইসলামিক জোট ৬০-৭০ আসনের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। যার অর্থ, বিএনপি নিরঙ্কুশভাবে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে। জামাত বসবে বিরোধী আসনে। এই ফলাফলে অনেকে স্বস্তি দেখছেন। কিন্তু ফলাফলে ভারতের জন্য উদ্বেগের একাধিক কারণ রয়েছে বলেই মত ওয়াকিবহালের।

উদ্বেগের প্রথম কারণ, জামাত ইতিহাসের সর্বাধিক আসনে জয়লাভ করেছে। এর আগে স্বাধীন বাংলাদেশে জামাত কোনওদিন ১৮ আসনের বেশি জেতেনি। কমবেশি ৫-১০ শতাংশের বেশি ভোট কোনওকালেই জোটেনি কট্টরপন্থী ইসলামিক দলটির কপালে। এবার আওয়ামি লিগ নির্বাচনী ময়দানে না থাকায় খানিকটা বিকল্পের অভাবেই জামাতকে ভোট দিয়েছেন বিএনপি বিরোধী ভোটাররা। তাছাড়া এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে গত কয়েক বছরে ওপার বাংলায় কট্টরপন্থী সাম্প্রদায়িক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ভারতের উদ্বেগের দ্বিতীয় কারণ, ভারত তথা বাংলা লাগোয়া আসনগুলিতে জামাতের বিরাট জয়। এখনও পর্যন্ত ভোটের যা ফলাফল পাওয়া গিয়েছে, তাতে বাংলা লাগোয়া আসনগুলিতে কার্যত ক্লিন সুইপ করতে চলেছে জামাত জোট। বাংলা লাগোয়া ঠাকুরগাঁও ২, রাজশাহী ১, রংপুর ২, মিলফামারির ৩ আসন, সাতক্ষীরার ৪ আসন, চাপাইনবাবগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গার মতো আসনগুলিতে একচ্ছত্রভাবে এগিয়ে জামাত জোট। একমাত্র ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুরে জিতেছে বিএনপি।
বাংলা লাগোয়া ঠাকুরগাঁও ২, রাজশাহী ১, রংপুর ২, মিলফামারির ৩ আসন, সাতক্ষীরার ৪ আসন, চাপাইনবাবগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গার মতো আসনগুলিতে একচ্ছত্রভাবে এগিয়ে জামাত জোট। একমাত্র ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুরে জিতেছে বিএনপি।
ভারত তথা বাংলা লাগোয়া এলাকাগুলিতে জামাতের এই ফলাফল বাংলা তথা নয়াদিল্লির জন্য বেশ চিন্তার। সীমান্ত এলাকায় জামাতের জয়ের অর্থ ভারত লাগোয়া এলাকাগুলিতে মৌলবাদ বাড়ছে। যা আগামী দিনে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘরে পরিণত হতে পারে। ইতিমধ্যেই জেএমবি, আনসার বাংলা টিমের সন্ত্রাসবাদীরা এপার বাংলায় তাণ্ডব চালিয়েছে। আগামী দিনে এই ইসলামিক জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে ভারত লাগোয়া এলাকাগুলিকে আশ্রয়স্থল হিসাবে ব্যবহার করতে পারে জামাত। তাছাড়া ওপারে মৌলবাদের বাড়বাড়ন্তের উৎস, এপারেও পালটা মৌলবাদকে উসকানি দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সামুরাই সূর্যাস্ত, শিষ্য জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় গুরু ব্রাজিল
-
‘তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নেই’, বঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক কংগ্রেস নেতা বেনুগোপালের
-
এবছরই দেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার, কী বলল ঢাকা?
-
‘বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি’, টোপর পরিয়ে ‘জামাই আদর’, তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে জনরোষ!
-
বাড়বে স্ক্রিনের সংখ্যা! ভারতীয় সিনে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতিতে একগুচ্ছ ঘোষণা কেন্দ্রের