বুলেট ট্রেনের গতিতে উন্নয়ন হবে দেশে, একসুর মোদি-আবের গলায়

ঘন্টায় ৩২০ কিলোমিটারের বেগে ছুটবে এই ট্রেন।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭, ০৮:০৩

options
link
বুলেট ট্রেনের গতিতে উন্নয়ন হবে দেশে, একসুর মোদি-আবের গলায়

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপ প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বৃহস্পতিবার বহু প্রতীক্ষিত বুলেট ট্রেন প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, ‘ভারতের উন্নয়নে গতি এনে দেবে বুলেট ট্রেন। দু’জন মানুষের মধ্যে বা দু’টি স্থানের মধ্যে দূরত্বকে কমিয়ে এনে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি ঘটাবে এই নয়া রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা।’ অবেও এই প্রকল্পকে ঘিরে আবেগতাড়িত। জাপ প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘বুলেট ট্রেনের জানালা দিয়ে ভারতবর্ষের সৌন্দর্য চাক্ষুস করতে পারব আশা করি।’

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement


২০২২-এর ১৫ আগস্ট থেকে দেশে ছুটবে প্রথম বুলেট ট্রেন। আহমেদাবাদ থেকে মুম্বই। ওই দিনই দেশের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ হবে। আমেদাবাদে ওই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে গিয়ে মোদি জানান, এই প্রকল্প মেক ইন ইন্ডিয়ার সাফল্যকে আরও ত্বরান্বিত করবে। দুই দেশের মধ্যে বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করবে। এই যুগান্তকারী প্রকল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত জাপান। প্রকল্পটি হচ্ছে সেদেশের প্রযুক্তিগত সহায়তায়। মুম্বই থেকে আমেদাবাদ প্রায় ৫০৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে এই বুলেট ট্রেন। তখন যাত্রাপথ বর্তমানে সাত ঘণ্টা থেকে দু’ঘণ্টায় নেমে আসবে। গড়ে ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার বেগে চলবে এই ট্রেন। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। গোটা পথে থাকবে ১২টি স্টেশন। বান্দ্রা থেকে কুরলা পর্যন্ত লাইন থাকবে সমুদ্রের গভীরে। প্রাথমিক ভাবে এই প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে ৮১ শতাংশ অনুদান দেবে জাপান। চুক্তি অনুযায়ী ৫০ বছরে ০.১ শতাংশ সুদের হারে এই টাকা ফেরত দিতে হবে ভারতকে। বুলেট ট্রেন প্রকল্পকে মোদি সরকারের ‘বড় সাফল্য’ হিসাবে দেখাতে চাওয়া হচ্ছে। আর সে কারণে এখন থেকেই পুরো বিষয়টিকে জাঁকজমকে মুড়ে ফেলা হল।

%%SP_PROTECT_1%%


এর আগে বুধবার আহমেদাবাদের রাস্তায় বেশ কিছুক্ষণ একসঙ্গে রোড শোও করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এমনিতেই, গত তিনবছরে দেশের মানুষ নরেন্দ্র মোদির ‘রোড শো’ দেখে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন। সে ২০১৪-র লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে, কিংবা পরে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে। এই রোড শো-ই নাকি বিজেপির প্রচারের ইউএসপি। তাঁদের দাবি, মোদির রোড শো ‘লোক টানে’। ভোটপ্রচারে রোড শোয়ে রাজনৈতিক নেতাদের দেখতে অভ্যস্ত। তবে এই প্রথম কোনও বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে রোড শোয়ে দেখা গেল। তাও আবার প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে। নির্বাচনমুখী গুজরাতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে সঙ্গে নিয়ে মোদির এই রোড শোয়ের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে।

%%SP_PROTECT_2%%


বিমান থেকে নামার সময়ে শিনজো আবের পরনে ছিল ফর্মাল স্যুট। কিন্তু আহমেদাবাদের রোড শোয়ে তাঁকে দেখা গেল কুর্তা-পাজামা-জওহর কোটে। হুড খোলা জিপে মোদির পাশে দাঁড়িয়ে আট কিমি পথ পেরিয়ে তিনি যান সবরমতী আশ্রমে। যদিও বিজেপি তাঁর এই রোড শো’কে রাজনৈতিক রং দিতে নারাজ। যেন কূটনীতি-রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে দুই দেশের ‘বন্ধু’ প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে রোড শো করলেন। ছিলেন শিনজোর স্ত্রী আকি আবেও। তাঁর পরনেও ছিল ভারতীয় পোশাক–লাল সালোয়ার-কামিজ। সঙ্গে সাদা স্টোল। রোড শো নিয়ে সকাল থেকেই আমেদাবাদে চতুর্দিকে সাজো সাজো রব ছিল। মাস খানেক ধরেই প্রস্তুতি চলেছে। জনতার মধ্যে আবেগও ছিল।

%%SP_PROTECT_3%%


দু’দিনের সফরে বুধবারই ভারতে এসেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন স্বয়ং মোদি। তিনি আগেই আমেদাবাদ পৌঁছে গিয়েছিলেন। টারম্যাকে বিমান থেকে নামতেই আবেকে বুকে জড়িয়ে ধরেন মোদি। জাপ প্রধানমন্ত্রীকে একদফা গার্ড অফ অনার দেওয়া হয় বিমানবন্দরেই। এরপর সেখান থেকেই রোড শো। শেষ হয় রিভার পয়েন্টে মহাত্মা গান্ধীর আশ্রমের পাশে। প্রধানমন্ত্রী আবে সবরমতী আশ্রমে গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সেখানে আবের কাছে গান্ধীর বিখ্যাত ‘থ্রি মাঙ্কিস’-এর ব্যাখ্যা করেন মোদি। তিনি বলেন, গান্ধীরশান্তি ও সহিষ্ণুতার দর্শন এখানে প্রতীক হিসাবে রয়েছে। উল্লেখ্য, জাপানের নিকোতে তোশো-গু শ্রাইনেও এমন ‘থ্রি ওয়াইজ মাঙ্কি’র প্রতিকৃতি রয়েছে।

%%SP_PROTECT_4%%


মোদি-আবের রোড শোয়ের কূটনৈতিক গুরুত্বের কথা অবশ্য বলছেন কেউ কেউ। ভারতের মতো জাপানকেও চিরকাল চাপে রাখতে চায় চিন। সেক্ষেত্রে নিজের রাজ্যে আবেকে নিয়ে রোড শো করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বেজিংকে নরম বার্তা দিতে চাইলেন বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। আবে এর আগে ভারত সফরে এসেছেন। তবে তিনি কখনও গুজরাটে আসেননি। তবে ডোকলাম ইস্যুতে ভারত-চিন সাম্প্রতিক সংঘাতের আবহে নয়াদিল্লি-টোকিও কাছে আসা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিকমহল। আবের ভারত সফরে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

%%SP_PROTECT_5%%


এদিনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে সকাল থেকেই আহমেদাবাদ শহরকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়৷ দুই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে এসপিজি ছাড়াও গুজরাত পুলিশের ন’হাজার কর্মী মোতায়েন ছিল। শহর জুড়ে রাস্তার দু’ধারে মোদি ও আবের বিশাল বিশাল ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে এসেছিলেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরাও। রোড শোয়ে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরতে ২৮টি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যের শিল্পীরা লোকনৃত্য পরিবেশন করছিলেন। বহু মানুষ হাতে ভারতীয় ও জাপানের পতাকা নাড়ছিলেন। সবরমতী থেকে মোদি এবং আবে ষোড়শ শতাব্দীর সিদি সইদ নি জালি মসজিদে যান। সেখানেও তাঁরা কিছুক্ষণ সময় কাটান। পূর্ব আমেদাবাদে হলুদ বেলে পাথর দিয়ে তৈরি এই প্রাচীন মসজিদ জাফরির কাজের জন্য বিখ্যাত।

%%SP_PROTECT_6%%

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন