Hantavirus

বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে ভাইরাসের বাসা! হান্টার হানায় বাড়ছে উদ্বেগ

আটলান্টিক মহাসাগরে প্রমোদতরী এমভি হন্ডিয়াসে তিন জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসের সংক্রমণে। দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার কিছু দেশেও হু হু করে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে খবর। এমনকী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৬, ২০২৬, ১৯:৪৬

options
link
বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে ভাইরাসের বাসা! হান্টার হানায় বাড়ছে উদ্বেগ
প্রতীকী ছবি।

বিশ্বভ্রমণে যাবেন? প্রমোদতরীতে সংক্রমণ কাঁটা! বৈভব-বিলাসিতা হয়তো মিলবে। সঙ্গে মিলবে রোগের প্রকোপ ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা। গুরুতর স্বাস্থ্যহানি থেকে শুরু করে সম্ভব মৃত্যুর হাতছানিও। কারণ, হান্টা ভাইরাসের (Hantavirus) ‘পুনরাবির্ভাব’। ইতিমধ্যেই আটলান্টিক মহাসাগরে প্রমোদতরী এমভি হন্ডিয়াসে তিন জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসের সংক্রমণে। দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার কিছু দেশেও হু হু করে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে খবর। এমনকী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আর এসবের ফলেই ধীরে ধীরে হলেও আবার ছড়াতে শুরু করেছে কোডিডের মতো ভয়ংকর, প্রাণঘাতী ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক।

Advertisement

তথ্য বলছে, মূলত ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ায় এই হান্টা ভাইরাস। এটি এক প্রকারের ‘জুনোটিক’ ভাইরাস যা পশু থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। করোনার মতোই হান্টা আরএনএ ভাইরাস। অতি-দ্রুত এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার খুব তাড়াতাড়ি মিউটেশনও করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার খবর অনুযায়ী, ইঁদুরের মল-মূত্র, লালা প্রভৃতির সংস্পর্শে এলে ভাইরাস সংক্রমণ হয়। আবার বাতাসে ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করেও ছড়াতে পারে এটি। কিন্তু কেন প্রমোদতরীতেই ছড়াচ্ছে এই ভাইরাস। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এমনিতে ঘেরা জায়গায়, অনেক মানুষের সমাগম হলে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। প্রমোদতরীও সেই তালিকায় পড়ে। আর যে জাহাজ নিয়ে খবর, সম্ভবত সেটির কার্ডে স্টোরেজ জোনে কোনওভাবে প্রচুর ইঁদুর ঢুকে পড়েছিল। স্টোরেজে মজুত করে রাখ্য খাবারদাবার এবং অন্যান্য জিনিসে ভাইরাস এইভাবেই ছড়িয়ে পড়ে।

Advertisement

এই ভাইরাস মানবশরীরে প্রবেশ করলে সবার আগে ফুসফুস ও কিডনির ক্ষতি করে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, যদি সঠিক সময়ে সংক্রমণ ধরা না পড়ে এবং চিকিৎসা শুরু না হয়, তাহলে এর পরিণাম প্রাণঘাতী হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণের মধ্যে অন্যতম-জ্বর, মাংসপেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বমি। তবে এর সংক্রমণের ফলে গুরুতর উপসর্গের মধ্যে রয়েছে তীব্র শ্বাসকষ্ট,  ফুসফুস ফেলিওর। চিকিৎসার পরিভাষায় একে ‘হান্টা ভাইরাস পালমোনারি সিন্ড্রোম’ (এইচপিএস) বলা হয়। এই ভাইরাস মানবশরীরে প্রবেশ করলে সবার আগে ফুসফুস ও কিডনির ক্ষতি করে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, যদি সঠিক সময়ে সংক্রমণ ধরা না পড়ে এবং চিকিৎসা শুরু না হয়, তাহলে এর পরিণাম প্রাণঘাতী হতে পারে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ইউরোপ বা আমেরিকার মতো ভারতে হান্টা ভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা খুব বেশি ঘটেনি। ২০০৫ সালে চেন্নাইয়ে এক উপজাতি গোষ্ঠীর মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর মিলেছিল। আবার ২০১৬ সালে মুম্বইয়ে এই ভাইরাস সংক্রমণে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এর পরেও অবশ্য দক্ষিণ ভারতের নানা জায়গায়, নানা সময়ে ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.