জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সহ সাধারণ গ্রন্থাগারগুলিতে নজিরবিহীন অভিযান চালল রাজ্য সরকার। ‘দেশবিরোধী’ এবং ‘আপত্তিকর’ বিষয়বস্ত থাকার অভিযোগে ৪,৭৬৭টি বইকে ওই গ্রন্থাগারগুলি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় নির্দল বিধায়ক শেখ খুরশিদ আহমেদের প্রশ্নের জবাবে নথি-সহ মঙ্গলবার একথা জানাল সরকার পক্ষ।
আরও পড়ুন:
গত বছরের শুরুর দিকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শ’ তথা ‘জেহাদি’ প্রচারের অভিযোগে ভূস্বর্গের বিভিন্ন বইয়ের দোকান ও লাইব্রেরিতে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। সেই সময় অসংখ্য বই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের উচ্চশিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকাশনার ২১,৮১,৫৮২টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪,৭৬৭টি বইকে ‘দেশবিরোধী’ এবং ‘আপত্তিকর’ বিষয়বস্ত থাকার কারণে গ্রন্থাগারগুলি থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়নি। নজরে রয়েছে আরও ১,৭৫২টি বই। সেগুলিকেও সরকার নিযুক্ত বিশেষজ্ঞদের দ্বারা যাচাই করা হচ্ছে। এদিকে রাষ্ট্রশক্তি বই বাজেয়াপ্ত করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিরোধীদের একাংশ। লাঙ্গাতের বিধায়ক শেখ খুরশিদ মন্তব্য করেছেন, “এটি জ্ঞানচর্চার ওপর এক দমনমূলক পদক্ষেপ। তারা (সরকার) কেবল আমাদের স্মৃতিই মুছে ফেলছে না, আমাদের বইগুলোও নিষিদ্ধ করছে। কাশ্মীর নিয়ে যা কিছু লেখা হয়েছে, তারা সেসব মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।” খুরশিদের আরও দাবি, “দেশবিরোধী বিষয়বস্তু রোধের নামে বই নিষিদ্ধ করা এবং গ্রন্থাগার ও প্রতিষ্ঠান থেকে সেগুলি সরিয়ে নেওয়া আসলে ইতিহাস বিকৃত করারই প্রচেষ্টা।”
স্বভাবতই এমন দাবি মানতে নারাজ সরকার পক্ষ। জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের বিবৃতি, ‘আপত্তিকর বিষয়বস্তু’ শনাক্ত করার জন্য তারা একটি সুস্পষ্ট ও ‘বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ড’ গ্রহণ করেছে। উচ্চশিক্ষা বিভাগের মতে, “এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি যেন সাংবিধানিক মূল্যবোধ, অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, বৈজ্ঞানিক মানসিকতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের ওপর ভিত্তি করে একটি পরিবেশ গড়ে তোলে, তা নিশ্চিত করা।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানি, আসতে পারে প্রতিনিধি দল, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
-
সিএপিএফ মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন ডেরেকের, আলোচনা হবে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে
-
উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে বাংলাতেও হোক প্রতিরক্ষা শিল্প করিডর, আর্জি শমীকের
-
সংঘের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক রাজ্য বিজেপির, লক্ষ্মীবারে দিল্লিতে এক টেবিলে শমীক-শুভেন্দু
-
একবারেই কর্মীদের ৭ বছরের বকেয়া ডিএ মেটাবে সরকার, বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের