পড়ুয়াদের দাবি মেনে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করেছে হেমন্ত সোরেন সরকার। ২০১৪ সালের পর থেকে পরীক্ষা পরিচালনা সংস্থা টিডিপিএলের সব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বাতিল করা হবে। একইসঙ্গে পরীক্ষা পদ্ধতিতেও সংস্কার করা আনা হবে। সরকারের এই ঘোষণার পর সোমবার রাতে অনশন প্রত্যাহার করেছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো। তবে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা হলেও সিবিআই তদন্তের দাবিতে এখনও রাজি হয়নি হেমন্ত সরকার।
আরও পড়ুন:
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দুর্নীতির প্রতিবাদে গত ২৪ দিন ধরে আন্দোলন (Jharkhand Student Protest) করছিলেন ঝাড়খণ্ডের তরুণ প্রজন্ম। পরীক্ষা বাতিল, সিবিআই তদন্ত এবং সংস্কারের প্রতিশ্রুতির দাবিতে রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ১৬ দিন ধরে অনশন করছিলেন দেবেন্দ্র। তাঁর সঙ্গে অনশনে যোগ দেন ছাত্রনেতা উম্মে হাবিবা ও রাহুল ক্রান্তি। দফায় দফায় বৈঠকের পর অবশেষে সোমবার রাতে ঝাড়খণ্ডের দুই মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিং এবং ইরফান আনসারি ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানেই পরীক্ষা বাতিল ও সংস্কারের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপরই অনশন ভাঙার ঘোষণা করেন দেবেন্দ্র। ফলের রস খেয়ে অনশন ভাঙেন দেবেন্দ্র ও তাঁর সঙ্গীরা। শোনা যাচ্ছে, সরকার দাবি মেনে নেওয়ায় এবার আন্দোলনেও দাঁড়ি টানতে পারেন পড়ুয়ারা।
পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে ঝাড়খণ্ড সরকারের প্রশংসা করেন দেবেন্দ্র। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে ঝাড়খণ্ড সরকার। এর জন্য আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।’
এদিকে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে ঝাড়খণ্ড সরকারের প্রশংসা করেন দেবেন্দ্র। তিনি বলেন, “অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে ঝাড়খণ্ড সরকার। এর জন্য আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। সরকারের পক্ষে হয়তো এই সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না। কারণ, জেএসএসসি সিজিএল পরীক্ষার নিয়োগপ্রক্রিয়া অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। কাজে যোগ দেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। অনেক পড়ুয়া সম্ভবত নিজেদের আসন নিশ্চিত করে ফেলেছিল। তবুও, এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার এই সাহসী পদক্ষেপ করেছে।”
উল্লেখ্য, গত গত কয়েকদিনে ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের আন্দোলনের ঝাঁজ ক্রমশ বাড়ছিল। রবিবার সন্ধ্যায় রাঁচিতে হেমন্ত সোরেন এবং রাহুল গাঁধীর কুশপুতুল দাহ করেছিলেন পড়ুয়ারা। এইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে হেমন্তের ইস্তফার দাবি তোলা হয়। পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে হেমন্তকে চিঠি লেখেন রাহুল। সেখানে কংগ্রেস সাংসদ লেখেন, ‘ভারতীয় সংবিধানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। প্রতিবাদ গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ এবং কংগ্রেস প্রতিবাদে বিশ্বাস করে। সেকারণেই প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা দুর্নীতির বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের সমস্ত আন্দোলনে আমরা সমর্থন করেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে চিঠি লিখছি, অনুরোধ করছি আপনি নিজে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করুন।’ ক্রমাগত চাপের মুখে অবশেষে পড়ুয়াদের দাবি মানল সরকার।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
চারদিনে দ্বিতীয়বার মাঠেই অজ্ঞান মুসিয়ালা, জটিল রোগে ২৩-এই কেরিয়ার শেষ জার্মানি তারকার?
-
সিইএসসি, কলকাতা পুরসভা কীভাবে অনুমতি দিল? নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডে তৃণমূলকেই দুষলেন অগ্নিমিত্রা
-
পিরিয়ডস হলেও খোঁটা দিত প্রেমিক! ‘টক্সিক’ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে স্বস্তি অনুপমার
-
তৃতীয় সন্তানের জন্মে এক বছর মাতৃত্বকালীন ছুটি! বিরাট ঘোষণা তামিলনাড়ু সরকারের
-
৪ ম্যাচে ২১ গোল দিল্লির, বিষ্ণুকে ছাড়াই ডুরান্ড সেমিতে কঠিন পরীক্ষায় নামছে ইস্টবেঙ্গল