লালুকে সাজা শুনিয়েছেন, পারিবারিক জমি উদ্ধারে নাজেহাল সেই বিচারক

বিচারকের এই হাল, সাধারণ মানুষের কী অবস্থা তা অনুমেয়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০১৮, ১০:৫৬

options
link
লালুকে সাজা শুনিয়েছেন, পারিবারিক জমি উদ্ধারে নাজেহাল সেই বিচারক

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক:  দীর্ঘ শুনানির পর পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলার নিষ্পত্তি করেছেন তিনি। সাজা শুনিয়েছেন লালু প্রসাদ যাদবের মতো হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতাকে। অথচ তিনি নিজেই এখনও বিচার পাননি। পৈত্রিক জমি সংক্রান্ত দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন খোদ রাঁচি সিবিআই আদালতের বিচারক শিবপাল সিং!

Advertisement

[পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে সাজা লালুর, সাড়ে তিন বছরের জেল]

Advertisement

তখনও আলাদা রাজ্য হিসেবে ঝাড়খণ্ডের জন্ম হয়নি। অবিভক্ত বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব। অভিযোগ উঠেছিল, পশুখাদ্য কেনার নামে সরকারি কোষাগারের টাকা নয়ছয় করেছেন লালু। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের রাঁচির সিবিআই আদালতে বিচারক শিবপাল সিংয়ের এজলাসে মামলার শুনানি চলছিল। শনিবার লালুপ্রসাদ যাদবকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড সাজা শুনিয়েছেন বিচারক। ধার্য করা হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা। সিবিআই আদালতের বিচারক শিবপাল সিংয়ের নির্দেশ, জরিমানা আনাদায়ে আরও ছয় মাস জেল খাটতে হবে লালুকে। কিন্তু, ঘটনা হল, জমি সংক্রান্ত একটি মামলা এখনও সুবিচারের আশায় গুনছেন খোদ বিচারকই! পৈত্রিক জমি দখলমুক্ত করতে তদ্বির করছেন প্রশাসনিক কর্তাদের!

Advertisement

[গরু পাচারের অভিযোগে ফের উত্তপ্ত উত্তরপ্রদেশ, অভিযুক্তদের গণধোলাই]

বিষয়টি ঠিক কী?  রাঁচির সিবিআই আদালতের বিচারক শিবপাল সিংয়ের আদিবাড়ি উত্তরপ্রদেশের জালাউন জেলায়। তাঁর ভাই সুরেন্দ্র পাল সিং জানিয়েছেন, স্থানীয় শেখপুর খুর্দ গ্রামে তাঁদের পৈতৃক জমিতে বিনা অনুমতিতে আড়াআড়িভাবে রাস্তা তৈরি করেছেন প্রাক্তন গ্রামপ্রধান।  আর সেই জমি দখলমুক্তি করতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে খোদ সিবিআই আদাতের বিচারকেরই! জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য এখন প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন শিবপাল সিং। কিন্তু, বিচারকের অনুরোধেও কোনও কাজ হচ্ছে না। স্থানীয় তহলশিলদার জিতেন্দ্র পাল জানিয়েছেন, পৈতৃক জমি দখলমুক্ত করার আর্জি জানিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিচারক শিবপাল সিং। জমিটি পরিদর্শন করার জন্য একটি প্রতিনিধি দলও পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, ওইপর্যন্তই! জমি এখনও দখলমুক্ত হয়নি। তহশিলদারের দাবি, তাঁর সঙ্গে ওই বিচারক আর দেখাও করেননি।

[কাশ্মীরে ফের বিপথগামী যুব প্রজন্ম, হিজবুলে যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকের]

এদিকে এই ঘটনা জানার পর, রীতিমতো হতবাক আইনমহলের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, একজন বিচারককেই যদি নিজের পৈতৃক জমি দখলমুক্ত করার জন্য হয়রান হতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষকে সুবিচার পেতে কতটা কাঠখড় পোড়াতে হয়, তা সহজে অনুমেয়।

[‘হু কিলড গান্ধী’ বইয়ের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার দাবি]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.