Maoist leader Death

ঝাড়খণ্ডে যৌথবাহিনীর অপারেশনে মৃত মাও বঙ্গ ব্রিগেডের সদস্য সমীর, মাথার দাম ছিল ৫ লাখ!

শুক্রবার ভোররাতের পর থেকে মাওবাদীরা ব্যাপক হারে পালটা গুলি চালাতে থাকায় এখনও চলছে অপারেশন। দিনের বেলাতেও ওই বিস্তীর্ণ জঙ্গলে মাও গেরিলাদের একেবারে সঠিক অবস্থান জানতে অপারেশনে ড্রোন ব্যবহৃত হচ্ছে।

সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১৫:১৫

options
link
ঝাড়খণ্ডে যৌথবাহিনীর অপারেশনে মৃত মাও বঙ্গ ব্রিগেডের সদস্য সমীর, মাথার দাম ছিল ৫ লাখ!
বামদিকে মৃত মাও নেতা সমীর সোরেন। ডানদিকে অপারেশনের ছবি।

ঝাড়খণ্ডে ‘মেঘাবুরু’ অপারেশনে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত ১৫ জন মাওবাদীর মধ্যে একজন বঙ্গ ব্রিগেডের। এই নিহতদের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় মিললেও বৃহস্পতিবার বেশি রাত পর্যন্ত বাকি চারজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে রাত বারোটার পরে বাকি চারজনের মধ্যে একজনের মৃতদেহ শনাক্ত হয়। তাঁর নাম সমীর সরেন ওরফে সুরেন্দ্রনাথ সোরেন। বাম জামানায় ২০০৯-১০ সাল নাগাদ যুধিষ্ঠির মাহাতো ওরফে অর্জুন নামে একজন মাও সদস্যের হাত ধরে সমীর সিপিআই (মাওবাদী)-র সংগঠনে নাম লিখিয়েছিলেন। তখন থেকেই তিনি সিপিআই (মাওবাদী)-দের বাংলার স্কোয়াডে কাজ করছিলেন। তার বাড়ি দক্ষিণ বাঁকুড়ার বারিকূল থানার ইন্দকুড়িতে।

Advertisement

২০১০ সাল থেকে ২০১২ পর্যন্ত অর্থাৎ অযোধ্যা স্কোয়াড ভাঙার আগে পর্যন্ত সমীর সিপিআই (মাওবাদী)-র তৎকালীন রাজ্য কমিটির সদস্য অর্ণব দাম ওরফে বিক্রমের তত্ত্বাবধানে কাজ করতেন। তাঁর মাথার দাম মোট ৫ লাখ টাকা। ঝাড়খণ্ড পুলিশের আইজি (অভিযান) মাইকেলরাজ এস জানান, “এখনও পর্যন্ত আমরা যা জানতে পেরেছি তাতে নিহত ১৫ জনের মধ্যে একজন বাংলার মাওবাদী রয়েছেন। এখনও অপারেশন ও তল্লাশি অভিযান চলছে।” ঝাড়খন্ডে যৌথ বাহিনীর অপারেশনে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এদিন দুপুর পর্যন্ত ওই অপারেশনস্থল ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলার কিরিবুরু থানার সারান্ডার জঙ্গলে কুমডি এলাকায় যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের গুলির লড়াই চলছেই। ফলে নিহত ১৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করতে পারেনি ঝাড়খন্ডের যৌথ বাহিনী। মৃতের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনাও প্রবল। বৃহস্পতিবার রাতভর থার্মাল ড্রোনের সাহায্যে অপারেশন চলে। ভোররাতে অপারেশন শেষ করার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই মোতাবেক ঝাড়খণ্ড পুলিশ এদিন দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা জানায়। কিন্তু ভোররাতের পর থেকেই মাওবাদীরা ব্যাপক হারে পালটা গুলি চালাতে থাকায় এখনও জারি অপারেশন। দিনের বেলাতেও ওই বিস্তীর্ণ জঙ্গলে মাও গেরিলাদের একেবারে সঠিক অবস্থান জানতে অপারেশনে ড্রোন ব্যবহৃত হচ্ছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার রাতভর থার্মাল ড্রোনের সাহায্যে অপারেশন চলে। ভোররাতে অপারেশন শেষ করার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই মোতাবেক ঝাড়খণ্ড পুলিশ এদিন দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা জানায়। কিন্তু ভোররাতের পর থেকেই মাওবাদীরা ব্যাপক হারে পালটা গুলি চালাতে থাকায় এখনও জারি অপারেশন।

সারেন্ডার জঙ্গলে চলছে অপারেশন।

২০০৯ সালে সিপিআই (মাওবাদী)-তে যোগ দিয়েই সমীর সবার প্রথমে মদন মাহাতো, বুলু-র স্কোয়াডে কাজ করতেন। ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলা এলাকায় তাদের কার্যকলাপ চলত। তারপর তিনি কিছুদিন ছিলেন দলমায়। সেখান থেকে অযোধ্যা স্কোয়াডের সদস্য হন। ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি নাগাদ সিপিআই (মাওবাদী)-দের অযোধ্যায় স্কোয়াড ভেঙে যাওয়ার পর সেখানে থাকা নেতাদের সঙ্গে সমীরও দলমায় এসে কাজ শুরু করেন। তারপর দলমা স্কোয়াড দুর্বল হয়ে পড়লে ঝাড়খণ্ডের ডামপাড়া, খুঁটি, বুন্ডু, তামাড়, সরাইকেলা হয়ে সমীরের ঠিকানা হয় সারান্ডা। দীর্ঘদিন সমীরের সঙ্গে তার পরিবারের যোগাযোগ না থাকায় তার পরিবার ওই মাও স্কোয়াড সদস্যের মৃতদেহ গ্রহণ করবে কিনা এদিন দুপুর পর্যন্ত তা পরিষ্কার হয়নি। পেটের টানেই ঘর ছেড়েছিলেন সমীর। সাম্প্রতিককালে ছত্তিশগড়ের মতো ঝাড়খণ্ডেও মাওবাদীরা কোনঠাসা হয়ে যাওয়ায় সমীর কি আত্মসমর্পণের পথ খুঁজছিলেন? এই প্রশ্ন কিন্তু ভাসছে ঝাড়খণ্ড-সহ বাংলার জঙ্গলমহলে। এই বারিকূল থানাতেই বাড়ি সিপিআই (মাওবাদী)-র তৎকালীন রাজ্য মিলিটারি কমিশনের শীর্ষ নেতা তথা একসময় অযোধ্যা পাহাড়ের সামরিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা রঞ্জিত পালের। এখন অবশ্য তিনি সমাজের মূল স্রোতে ফিরে স্পেশাল হোমগার্ড।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.