মধ্যপ্রদেশের সংকট

মধ্যরাতে নাটক মধ্যপ্রদেশে, একসঙ্গে ২০ জন মন্ত্রীর ইস্তফাপত্র গ্রহণ কমল নাথের

বিজেপি শিবিরে ভিড়ছেন 'নিখোঁজ' জ্যোতিরাদিত্য? তুঙ্গে জল্পনা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১০, ২০২০, ০৯:১৫

options
link
মধ্যরাতে নাটক মধ্যপ্রদেশে, একসঙ্গে ২০ জন মন্ত্রীর ইস্তফাপত্র গ্রহণ কমল নাথের

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এক, দুই বা দশজন নয়। মধ্যপ্রদেশে একসঙ্গে ২০ জন মন্ত্রী ইস্তফা দিলেন। চ্যালেঞ্জটা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ সবকটি ইস্তফাপত্র গ্রহণ করে রাজভবনে পাঠিয়ে দিতে তৎপরও হলেন। তাঁর পালটা হুঁশিয়ারি, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা সফল হতে দেবেন না, নতুন করে মন্ত্রিসভা গড়বেন। পাঁচ মন্ত্রী, ১৭ জন বিধায়ক-সহ দলের জনপ্রিয় তরুণ নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া উধাও হওয়ার পর বড়সড় সংকটে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকার। চূড়ান্ত টালমাটাল পরিস্থিতিতে ইতিকর্তব্য স্থির করতে নতুন করে সমস্ত পরিকল্পনা করতে হচ্ছে কমল নাথকে।

Advertisement

মধ্যপ্রদেশ সরকারের টালমাটাল দশা এক রাতের মধ্যেই ভাঙনের দিকে এগিয়ে গেল অনেকটা। অনুগামী মন্ত্রী, বিধায়কদের নিয়ে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার আচমকা বেপাত্তা হয়ে যাওয়ার পর একসঙ্গে ২০ জন মন্ত্রীর ইস্তফা – জোড়া ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই কাঁটা হয়ে উঠল জ্যোতিরাদিত্যের বিজেপি যোগ। বেঙ্গালুরুর রিসর্টে সকলকে নিয়ে তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। তাঁকে সামলাতে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা দলের বর্ষীয়ান নেতা দিগ্বিজয় সিংয়ের উপর ভরসা করেছিলেন কমল নাথ। কিন্তু শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সিন্ধিয়ার সঙ্গে কথাই বলতে পারেননি দিগ্বিজয় সিং। ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে, তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়, জ্যোতিরাদিত্য সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত, কথা বলতে পারবেন না।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

 

Advertisement

এই অবস্থায় জোর জল্পনা, তাহলে কি কংগ্রেস ছেড়ে জ্যোতিরাদিত্য পা রাখবেন গেরুয়া শিবিরে? ভোপালের পার্টি অফিসগুলোয় এখন আলোচনা কেন্দ্রবিন্দু এই একটিই বিষয়।

[আরও পড়ুন: করোনার কবলে আরও চার বিদেশফেরত, দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪৭]

সরকারের এমন ঘোর সংকটেও স্নায়ু টানটান রেখে সবটা সামলে নিতে বদ্ধপরিকর মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ। তাঁর কথায়, “সরকার তৈরি করেছেন জনগণ। তাঁদের ভরসা আর ভালবাসাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি। যারা মাফিয়াদের সাহায্যে আমাদের ঘর ভাঙার চেষ্টা করছেন, অশান্তি পাকানোর তাল করছেন, তাদের ষড়যন্ত্র কিছুতেই সফল হতে দেব না।” নতুন করে সবটা গুছিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জটা কমল নাথ নিয়ে ফেললেন ঠিকই। কিন্তু আসল কাজ কীভাবে হাসিল করবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের। অনেকে মনে করছেন, নিজেই সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন করে ভোটের পথে হাঁটবেন তিনি। আবার কারও অনুমান, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে তাঁর নিজের মতো করে ছেড়ে অন্য তাস খেলবেন কমল নাথ। বিক্ষুব্ধদের টোপ দিয়ে দলে টানার চেষ্টা করাও অসম্ভব কিছু নয় তাঁর পক্ষে। রাজ্য প্রশাসনের এই দুর্দিনে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন রাজ্যপালও। হোলির ছুটি কাটছাঁট করে তিনি ফিরছেন।

[আরও পড়ুন: প্রশ্নের উত্তর দিলেই মিলবে ‘বিশেষ সুযোগ’, সোশ্যাল সাইটে ফের চমক মোদির]

ওদিকে জল মাপতে আসরে মধ্যপ্রদেশ বিজেপিও। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান শিবিরও নিজেদের মধ্যে গোপনে বৈঠক সেরেছে বলে খবর। মূল ঘুঁটি এখন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। কংগ্রেস শিবির থেকে তাঁকে ছিনিয়ে এনে শেষ চালে বাজিমাত করার কথা ভাবছেন শিবরাজ সিং চৌহান। এবিষয়ে সমস্ত খুঁটিনাটি জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। তিনিও সবটা নজরে রেখেছেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন