হিমালয়ে হাহাকার
Nepal Flash Flood

ব্রহ্মপুত্রে ‘টাইমবোমা’ চিনের, নেপাল বিপর্যয়ে বিপদঘণ্টা ভারতের! কী করবে দিল্লি?

জানা যাচ্ছে, নেপালের এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত চিনের তিব্বতে। সেখান থেকে বন্যার জল প্রবেশ করে নেপালের রসুয়া জেলায়। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিমি দূরে অবস্থিত এই জেলার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভোটেকোশী নদী। বুধবার সকাল থেকেই আচমকা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপরই চিন সীমান্তবর্তী ওই জেলায় ওই হড়পা বান নামে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১৯:৫৩

options
link
ব্রহ্মপুত্রে ‘টাইমবোমা’ চিনের, নেপাল বিপর্যয়ে বিপদঘণ্টা ভারতের! কী করবে দিল্লি?
ভয়ংকর হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। ছবি: পিটিআই।

ভয়ংকর হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। নিখোঁজ বহু। আচমকা বিপুল জলরাশি নেমে এলে কী অবস্থা হতে পারে, তার টাটকা উদাহরণ নেপাল। এই আবহে তিব্বত থেকে উৎপত্তি হওয়া ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় চিনের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠতে করছে। কোনও কারণে এই বাঁধে বড়সড় বিপর্যয় ঘটলে ভয়ংকর বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে ভারতে। তাই বেজিংয়ের এই প্রকল্পকে ‘টাইমবোমা’ হিসাবে দেখছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

Advertisement

তিব্বতে এই বাঁধ নির্মাণের কথা আগেই ঘোষণা করেছিল চিন। গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকমাসে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ অনেকখানি এগিয়েও ফেলেছে তারা। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চিনের তৈরি এই বাঁধকে কেন্দ্র করে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ভারত সরকার। ইয়ারলুং সাংপো নামে যে নদীর উপর চিন এই বাঁধ তৈরি করছে সেটির উৎপত্তিস্থল তিব্বত। এরপর অরুণাচল প্রদেশে নদীটির নাম হয়েছে সিয়াং। সেখান থেকে অসমে প্রবেশ করার পর ব্রহ্মপুত্র নামে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। ভারতের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন জীবিকা পরিচালিত হয় এই নদীকে কেন্দ্র করে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, চিন বাঁধ নির্মাণ করলে গ্রীষ্মকালে নিম্ন অববাহিকায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত জল কমে আসবে। যা ভারত ও বাংলাদেশে কৃষিকাজের পাশাপাশি ধাক্কা দেবে শিল্পকেও। পাশাপাশি, পলি পরিবহণ বাধাপ্রাপ্ত হবে যা পরিবেশের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে।

Advertisement
ব্রহ্মপুত্রে ‘টাইমবোমা’ চিনের। ছবি: সংগৃহীত।

পাশাপাশি এই বাঁধের ফলে ব্রহ্মপুত্রের মূল নিয়ন্ত্রণ যেহেতু চিনের হাতে থাকবে সেক্ষেত্রে নানা দিক থেকে ভারতকে বিপদে ফেলার সুযোগ পাবে চিন। বেজিং অবশ্য জানিয়েছে, বাঁধের মূল উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন। এতে অন্য কোনও দেশের ক্ষতি করবে না। কিন্তু ভারত কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। বেজিংয়ের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর কড়া নজর রাখার পাশাপাশি কৌশলগতভাবে পালটা জবাবের পথ তৈরি করছে ভারত। 

Advertisement

অরুণাচল প্রদেশ থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রকল্পের পালটা পদক্ষেপ শুরু করেছে নয়াদিল্লি। চিনা বাঁধের জবাবে অরুণাচলে ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রোজেক্ট’ তৈরির তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত এই বাঁধ ১১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরির পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটাই হবে ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। 

এদিকে জানা যাচ্ছে, নেপালের এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত চিনের তিব্বতে। সেখান থেকে বন্যার জল প্রবেশ করে নেপালের রসুয়া জেলায়। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিমি দূরে অবস্থিত এই জেলার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভোটেকোশী নদী। বুধবার সকাল থেকেই আচমকা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপরই চিন সীমান্তবর্তী ওই জেলায় ওই হড়পা বান নামে। আকস্মিক বন্যার জেরে রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চলে রসুয়া জেলায়। ভোটেকোশী নদীর জলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চিন সীমান্তবর্তী তিমুর ও স্যাফ্রুবেসি এলাকা। সেখানে বহু ঘরবাড়ি, যানবাহন ভেসে গিয়েছে। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে একটি সেতুও।

প্রকৃতির রুদ্ররোষে নেপাল। ছবি: সংগৃহীত।

কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত কায়স্থ বলেন, “হড়পা বানের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, নেপাল-সংলগ্ন কোনও এলাকা থেকে বরফ ধসে লেন্দে নদীতে পড়ে এর প্রবাহ আটকে দেয়। প্রায় একই সময়ে তিব্বতেও একটি ভূমিকম্প হয়।” যদিও হড়পা বানের নেপথ্যে এগুলির কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি আরও জানান, হিমবাহ-সৃষ্ট কোনও হ্রদের বাঁধ ভেঙে এই দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে কিছদিন সময় লাগবে। ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদ রয়েছে। উল্লেখ্য, বুধবার সকাল ৮টা ৩৭ মিনিট নাগাদ তিব্বতের গোসাইকুন্ডা থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে একটি ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৪।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.