সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গো-রক্ষায় নয়া দাওয়াই। ১০ টাকা প্রতি লিটার দামে সরকারকে গো-মূত্র কেনার পরামর্শ দিল বিজেপি শাসিত ছত্তিশগড়ের গবাদি পশুকল্যাণ দপ্তর। তাদের যুক্তি, কেন্দ্র গো-মূত্র কিনলে গো-পালকরা আর বয়স্ক গরুদের রাস্তাঘাটে ফেলে দেবে না। রাজ্যে কমবে গো-হত্যার প্রবণতা।
ছত্তিশগড়ের গৌসেবা আয়োগের চেয়ারম্যান বিশ্বেশ্বর প্যাটেল বলছেন, গরুর মূত্র থেকে জৈব প্রক্রিয়ায় সার, কীটনাশক-সহ কৃষিকাজের জন্য জরুরি বহু পণ্য প্রস্তুত করা যেতে পারে। গবেষণার কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে এই দাবি পাঠিয়েছি। ১০ টাকা প্রতি লিটার দামে গোমূত্র কিনলে গো-পালকরা বয়স্ক গরুদের পথেঘাটে ফেলে যাবেন না। বরং সরকারের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার আশায় গোশালায় রেখে দেবেন। ১০ টাকা না হোক, ৫ বা ৭ টাকা পেলেও কৃষকরা গরুদের রাস্তায় ছেড়ে দেবেন না।’ যদিও গোমূত্রের উপকারিতা এখনও বৈজ্ঞানিক স্তরে প্রমাণিত নয়। তবে বাবা রামদেবের পতঞ্জলি সংস্থা গোমূত্র ব্যবহার করে ফিনাইল, কীটনাশক বাজারে নিয়ে এসেছে বলে দাবি করেছে।
[উত্তরপ্রদেশের এই মন্দিরে দলিতদের প্রবেশ নিষেধ!]
রমন সিং সরকারের রাজ্যে এর আগে এক বিজেপি নেতার তিনটি গৌশালায় মোট ২০০-রও বেশি গরুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ সরকারি সাহায্যপুষ্ট গৌশালাগুলি চালাতেন বিজেপি নেতা হরিশ ভার্মা। রাজ্যের প্রাণিসম্পদ দপ্তরে ব্যাপক দুর্নীতি চলছে বলেও অভিযোগ ওঠে। রাজ্য কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট ভূপেশ বাঘেল অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও অধিকাংশ সরকারি গৌশালার অবস্থাই শোচনীয়। এই ইস্যুতে বিরোধীরা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করে। তার উপর রয়েছে বয়স্ক গরুদের রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, গরু দুধ দেওয়ার ক্ষমতা হারালে কৃষক, গো-পালকরা তাদের রাস্তায় ফেলে দিয়ে যাচ্ছে রাতের অন্ধকারে। আশ্রয়হীন অবস্থায় দিনের পর দিন না খেতে পেয়ে মারা যাচ্ছে বেওয়ারিশ গরুগুলি। সেই পরিস্থিতি কাটাতেই এবার উদ্যোগী হল গবাদি পশুকল্যাণ দপ্তর।
এমনিতেই গুজরাট ও ছত্তিশগড়ে গো-হত্যা সম্পূর্ণ বেআইনি। রমন সিং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রতিতেই বলা হয়েছিল, গো-রক্ষার উপর বিশেষভাবে নজর দেওয়া হবে। এমনকী, মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংকে সম্প্রতি এও বলতে শোনা গিয়েছে, কেউ বেআইনিভাবে গো-হত্যা করলে বা পাচার করলে অভিযুক্তকে ফাঁসি দেওয়া হবে। গরুর মৃত্যু রুখতে আরও কড়া নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের গৌসেবা আয়োগের চেয়ারম্যান।
[পাঁচদিনে জোড়া রেল দুর্ঘটনা, মোদির কাছে ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকাশ রেলমন্ত্রীর]
সর্বশেষ খবর
-
সত্যিকারের মুসাফির ক্যাফে! হিমাচল ও উত্তরাখণ্ডে অভিনব উদ্যোগ বিক্রান্ত ম্যাসির
-
ভোটের লড়াইয়ে ‘জোড়াফুল’ অতীত! ‘আপেল’ না ‘এসি’, কোন প্রতীকে লড়বে তৃণমূল?
-
অভিষেকের বিশ্বরেকর্ডের পর দুরন্ত বোলাররাও! আফগানিস্তানকে ‘চুনকাম’ করল ভারত
-
তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করল কমিশন, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে লড়াইয়ে থাকছে না ‘ঘাসফুল’
-
এবার পাকিস্তানে লকডাউন! করোনা নয়, নতুন ‘বিপর্যয়’ পড়শি দেশে